এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন কন্ট্রাক্ট : অবশেষে পুলিশের টনক নড়েছে : সতর্কতা জারি করল পুলিশ: ‘শতাধিক তালিকাভুক্ত’ এখনও বিমানবন্দরে বহাল

মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই কিংবা অন্যান্য শহরে ভিজিট বা টুরিস্ট ভিসায় গমনেচ্ছু যাত্রীদের কাছ থেকে এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্ট, ইমিগ্রেশন কন্ট্রাক্ট, এয়ারপোর্ট সাপোর্টের নামে অতিরিক্ত অর্থ দাবির বিষয়ে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীদের তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সহায়তা নিতে বলা হয়েছে।

এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্টেই সর্বনাশ, অবশেষে টনক নড়ল পুলিশের, পুলিশ সতর্কতা বার্তা জারি করেছে। রোববার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেয়া হয়।

পোস্টে বলা হয়, এয়ারপোর্ট সাপোর্টের নামে কোনো টিকিট বিক্রেতা অধিক টাকা চাইলে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ইমিগ্রেশন পুলিশ ইউনিটকে জানানোর অনুরোধ করা হলো।

পোস্টে আরও বলা হয়, ‘ভিজিট বা টুরিস্ট ভিসায় দুবাই ও ইউএই গমনেচ্ছু যাত্রীগণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্টের নামে অতি মুনাফালোভী টিকিট বিক্রেতাগণ অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সম্মানিত যাত্রী সাধারণকে অনুরোধ করা যাচ্ছে যে, বিদেশ গমনে বাধা, প্রতারণা ইত্যাদি বিষয়ে এয়ারপোর্টস্থ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে নিম্নোক্ত নম্বরে জানানো এবং প্রয়োজনীয় আইনগত সেবা নিতে অনুরোধ করা হলো।’

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ‘এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্ট বা ইমিগ্রেশন কন্ট্রাক্ট ও এয়ারপোর্ট সাপোর্টের নামে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে টিকিট বিক্রেতার নাম-পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য নিম্নলিখিত মোবাইল নম্বরে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।’

নম্বরগুলো হলো : এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট (০১৩০৪০৫০৬০৩), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার-০১৩২০০০৫৯০২, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-০১৩২০০০৫৩৭৬, বিশেষ পুলিশ সুপার-০১৩২০০০৫১১১। বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন)- ০১৩২০০০৫১০২, এডিশনাল ডিআইজি (ইমিগ্রেশন)- ০১৩২০০০৫০৩৫ ও ডিআইজি (ইমিগ্রেশন)- ০১৩২০০০৫০০৬ ।

এছাড়া শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-০১৯১১৭৩৩০৫৫ ও বিশেষ পুলিশ সুপার- ০১৩২০০০৫১০৮ এর নম্বরেও যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

এছাড়া ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-০১৩২০০০৫৪০৭ ও বিশেষ পুলিশ সুপারের-০১৩২০০০৫১০৭ নম্বরে যোগাযোগ করা জন্য পোস্টে বলা হয়।

এর আগে, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ইমিগ্রেশন পুলিশ ইউনিট থেকে একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়, ‘দয়া করে এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্ট নামে প্রতারণার ফাঁদে পা দিবেন না। এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্টের নামে কেউ অর্থ চাইলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার- ০১৩২০০০৫১১১, ইমিগ্রেশন বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপারের (প্রশাসন) ০১৩২০০০৫১০২ এবং ইমিগ্রেশন পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজির ০১৩২০০০৫০৩৫, ডিআইজি (ইমিগ্রেশন) ০১৩২০০০৫০০৬ নম্বরে ফোন দিয়ে জানানোর অনুরোধ করা হলো।

এছাড়াও এ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য ইমিগ্রেশন পুলিশ www.immi.gov.bd, বাংলাদেশ পুলিশের www.police.gov.bd ওয়েবসাইট এবং পুলিশের ফেসবুক পেজে www.facebook.com যাওয়ার অনুরোধ করা হলো।

উল্লেখ্য, এ নিয়ে একুশ শতকের কাগজ ‘একুশে বার্তার অনলাইন সংস্করণে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

শাহজালাল বিমানবন্দরে কর্মরত সিএএবিসহ বিভিন্ন এয়ার লাইন্সের  শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারির তালিকা করে ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও তা ভেস্তে গেছে , এই তালিকার রাঘব-বোয়ালাই এয়াপোর্ট বা ইমিগ্রেশন কন্ট্রাক্ট করে যাত্রীদের থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে। ১৪ এপ্রিল থেকে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ হচ্ছে, ফলে এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্টওয়ালারা হতাশ, আবার ফ্লাইট চালু বিমানবন্দরে এদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

সেনেটারি ইন্সপেক্টরের ধান্দাবাজি : শাহজালালে কর্মরত একমাত্র সেনেটারি ইন্সপেক্টর ধান্দাবাজি করছে বলে গোয়েন্দা সংস্থা তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। ওয়াকিটকি হাকতে এই ইন্সপেক্টর বিমানবন্দরের বিভিন্ন কি-পয়েন্টে অবাধে যাতায়াত করে ধান্দাবাজি করছে। মানব পাচারেও তার নামডাক শোনা যায়। বিমানবন্দরে তার একটি প্রাইভেট কার দিয়ে পরিবহন ব্যবসা করছেন। সম্প্রতি বিমানবন্দর কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট গাড়িটি জব্দ করে জরিমানা আদায় করেছেন। বিমানবন্দরে তিনি এক এমপির প্রটোকল অফিসার হিসেবে প্রটোকল করেন বলৈও শোনা যায়।

কিউআর জিন্নাহ : বিমানবন্দরে কিঊআর জিন্নাহ বলে খ্যাত িজন্নাহ-  চাটগাইয়া মিজান মানব পাচারের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পেরেছে। এখন তারা বিমানবন্দরে ভিজিট ভিসায় ধান্দা করছে।

তবে জিন্নাহ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।