ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদকে প্রত্যাহার : দোহা থেকে ভিভিআইপি ফ্লাইট নিয়ে আসবেন ক্যাপ্টেন আমিনুল

ডেক্স রিপোর্ট :  : কান্ডজ্ঞানহীনতার খেসারত দিতে হলো বিমানের ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদকে। তাকে দোহা থেকে ভিভিআইপি ফ্লাইট নিয়ে আসার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।এদিকে, বিমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি দোহা থেকে ঢাকায় নিয়ে আসার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ক্যাপ্টেন আমিনুল ইসলামকে। তিনি  ৭ জুন  দোহা যাচ্ছেন।

পাসপোর্ট ছাড়া যাওয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদকে কাতার ইমিগ্রেশন আটকের পর বিমান সচিবের অনুরোধে তার পাসপোর্ট ঢাকা থেকে রিজেন্ট এয়ারে করে দোহা  পাঠানো হয়েছে। বুধবার রাতে দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তার পাসপোর্ট না পেয়ে তাকে আটক করেন। ঢাকায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, সাধারণত বৈমানিকদের ক্ষেত্রে জেনারেল ডিক্লেয়ারেশনের আওতায় ভিসা প্রয়োজন না পড়লেও দেশ ছাড়ার সময় অবশ্যই পাসপোর্ট নিতে হয়। বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে দেখাতে হয়। ইমিগ্রেশন কর্তপক্ষের দায়িত্ব ছিল তার পাসপোর্ট চেক করা। এখন বিমানের ওই বৈমানিক পাসপোর্ট ছাড়া কিভাবে ঢাকা ত্যাগ করলেন, তার পাসপোর্টের মেয়াদ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিদেশ সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিমানের বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ নিয়ে যান ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। তিনি এখন দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের হেফাজতে রয়েছেন। এ বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। আসলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে গুলশান থানা পুলিশ।

এদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব মুহিবুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পাইলট ভুলে পাসপোর্ট ছাড়া গিয়েছেন। পাসপোর্ট ছাড়া তিনি কী করে ইমিগ্রেশন পার হলেন, এটা তদন্ত করে দেখা হবে। আর তার পাসপোর্ট কাতারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ দিকে কাতার এয়ারলাইন্স জানায়, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কারো পাসপোট্র্ বহনের নিয়ম নেই।

আইন অনুযায়ী, পাসপোর্ট ছাড়া কারো দেশত্যাগ কিংবা অন্য দেশে প্রবেশের সুযোগ নেই। ফজল মাহমুদ কাতার ইমিগ্রেশনকে জানান, তার পাসপোর্ট বিমানের ফ্লাইট অপারেশন রুমের লকারে। পরে বিমানের নিরাপত্তা মহাব্যবস্থাপকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট উদ্ধার করেন বিমানের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ মহাব্যবস্থাপক।

পরে, রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট কাতার পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে, রিজেন্ট এয়ারলাইন্সও ওই পাসপোর্ট বহনে  প্রথমে অস্বীকৃতি জানায়। পরে বিমান সচিবের অনুরোধে তার পাসপোর্টরিজেন্ট েএয়ার বহন করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের ব্যক্তিগত গাফিলতি। তিনি দেশে ফিরে আসার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে পাসপোর্ট ছাড়া লন্ডন যাওয়ায় বিমানের একজন পাইলটকে বড় অংকের আর্থিক জরিমানা গুনতে হয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দেশে সরকারি সফরের অংশ হিসেবে বর্তমানে ফিনল্যান্ডে অবস্থান করছেন। ৮ জুন দোহা বিমানবন্দর হয়ে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তাকে বহন করতে বোয়িং ৭৮৭ মডেলের ড্রিমলাইনার বর্তমানে কাতার অবস্থান করছে।

পাইলটরা বিমান নিয়ে বিশ্বের নানা বিমানবন্দরে গেলেও অনেক সময় সেসব দেশের অভ্যন্তরে তাদের প্রবেশ করতে হয় না। আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (অইকাও) নিয়ম অনুসারে, পাইলটরা জেনারেল ডিক্লেয়ারেশনের কপি সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করেন। জেনারেল ডিক্লেয়ারেশনের কপি ছাড়াও পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে হয় পাইলটদের।