একুশে বার্তা ডেক্স : বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গৃহবধূ। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ব্যর্থ সামরিক অভুত্থ্যানে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর রাজনীতিতে নাম লেখান বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারী বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এইচ এম এরশাদ নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করলে প্রতিবাদ করেন বেগম জিয়া।
অতপর ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ওই বছরের পহেলা এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি জীবনের প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হলে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। বিএনপির সাংগঠনিক বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যেই দলের হাল ধরে ১৯৮৩ সালে তিনি ৭ দলীয় ঐক্যজোট গঠন করেন। শুরু করেন এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন। বেগম জিয়া মূলত ১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বরে ৭ দলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সুত্রপাত ঘটান। ওই সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দলের সাথে যৌথভাবে আন্দোলনের কর্মসূচী শুরু করে। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ দফা আন্দোলন চলতে থাকে। কিন্তু ১৯৮৬ সালের ২১ মার্চ রাতে আওয়ামী লীগ হঠাৎ করে এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ছেদ পড়ে। নির্বাচন প্রশ্নের বিরোধে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দল ভেঙ্গে ৮ দল ও ৫ দলে ভাগ হয়। শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে ৮ দল ও জামায়াত ’৮৬ সালের নির্বাচনে যায়। এরপর বেগম জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল, বাম দলগুলোর পাঁচ দলীয় ঐক্যজোট থাকে রাজপথে। ১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া ‘এরশাদ হটাও’ এক দফার আন্দোলন শুরু করেন। সংসদ ভেঙ্গে দিতে বাধ্য হন এরশাদ। আওয়ামী লীগ সংসদ থেকে বের হয়ে এলে পুনরায় শুরু হয় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। রাজপথে দীর্ঘ ৮ বছর একটানা আপোসহীন সংগ্রামে ১৯৯০ সালে ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। গৃহবধু থেকে রাজনীতিতে এসে দেশবাসীর কাছে পেয়ে যান ‘আপোষহীন নেত্রীর’ খেতাব। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রæয়ারীর সংসদ নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে বেগম জিয়া হন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবির আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রয়ারী ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে সংবিধান সংশোধন করে তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এবং পদত্যাগ করেন। ওই বছরের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৬টি আসন পেয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেত্রী হন। আর আওয়ামী লীগ ১৪৭ আসন পেয়ে জাতীয় পার্টি ও জাসদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেন। তবে অষ্টম সংসদের মেয়াদপূর্তির পর তত্তাবধায়ক সরকার নিয়ে বিরোধে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ‘এক/এগারো’ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে; তিনি ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়েন। এ সময় তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়। কিন্তু জুলুম-নির্যাতনের মুখেও তিনি দেশ ছেড়ে যাননি। ২০০৭ সালে ৩ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়। এক বছর কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি মুক্তিলাভ করেন। এর আগে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর গ্রেফতার হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী বিতর্কিত নির্বাচনের পরের বছর জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে একটানা ৯৩ দিন আইন শৃংখলা বাহিনীর ঘেড়াওয়ে ছিলেন। উল্লেখ খালেদা জিয়া যখনই নির্বাচন করেছেন প্রতিবাই ৫টি করে আসনে প্রার্থী হন। প্রতিটি আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজীয় হন।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
