স্টাফ রিপোর্টার : ঈদ শেষে রাজধানীমুখি মানুষ। সড়ক, নৌ ও রেলপথে ঢাকামুখী মানুষের ভীড় বাড়ছে। তবে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ট্রেনের টিকেট কাটতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্বিগুন-দিনগুন টাকা দিয়ে কালোবাজারীদের থেকে ট্রেনের টিকেট সংগ্রহ করছেন অনেকেই। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজ শনিবার থেকে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ আরো বাড়বে। রবিবার থেকে সরকারী অফিস খোলা। অনেক বেসরকারী অফিসের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে ঈদের ছুটিতে নগরীর চিত্র একেবারেই বদলে গেছে। ফাঁকা সড়ক। ট্রাফিক সিগন্যাল পর্যন্ত নেই। এ এক অবিশ্বাস্য চিত্র।
ঈদের ব্যস্ততা সেরে ঢাকার মানুষ ফাঁকা রাস্তায় ঢাকা ছুটেছে বিনোদন কেন্দ্রের দিকে। বৃহস্পতিবারও শুক্রবার সকাল থেকেই নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করেছে নানা বয়সী মানুষ। শিশুপার্ক, চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, সিনেমাহলগুলো ছাড়াও মনোরম হাতিরঝিলে বেড়ানো আর আড্ডা হয়েছে জমজমাট। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক পশলা বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিলেও আনন্দে কোনো কমতি হয়নি।
শিশু পার্কে সকালে তেমন ভিড় না থাকলেও দুপুরে মুখর হয়ে ওঠে শিশুদের আনাগোনায়। ‘টয় ট্রেন’, ‘ম্যাজিক নৌকা’, ‘আনন্দ ঘূর্ণি, ‘ঝুলানো চেয়ার, ‘ফুলদানি আমেজ’, ‘উড়ন্ত নভোযান’- রাইডগুলোতে চড়ার পর শিশুরা উঁকি দিচ্ছিল ‘নাইন-ডি সিনেমার বুথে’।
শিশুপার্কের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন জানান, এমনিতে প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে শিশু পার্ক খোলা হলেও ঈদুল আযহা উপলক্ষে বুধবার থেকে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকছে।
ঈদ উপলক্ষে মিরপুর চিড়িয়াখানার গেইট দর্শনার্থীদের জন্য খুলছে সকাল ৯টায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদ উপলক্ষে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকে দুই জোড়া আফ্রিকান সাদা সিংহ, এক জোড়া কালো ভাল্লুক আনা হয়েছে মিরপুর চিড়িয়াখানায়। এছাড়া চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি চারটি উট পাখি আর একজোড়া উট কিনেছে। অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে ৪০টি ইমু। আরো এসেছে শতাধিক লাভ বার্ড। নতুন এসব প্রাণীর খাঁচার সামনে নানা বয়সী মানুষের ভিড় ছিল সারা দিন। তাছাড়া চিড়িয়াখানার জাদুঘরটিতে শিশু-কিশোরদের বেশ ভিড় দেখা গেছে।
ঈদুল আযহা উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘর এবং স্বাধীনতা জাদুঘরে চলছে বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। ঈদের দিন বন্ধ থাকলেও বৃহস্পতিবার খুলে দেয়া হয় চন্দ্রার নন্দন পার্ক। সকাল থেকেই ওয়াটার ওয়ার্ল্ড ও ড্রাই পার্কের বিভিন্ন রাইডে ছিল উপচে পড়া ভিড়। এর মধ্যে তরুণদের সংখ্যাই ছিল বেশি। যমুনা ফিউচার পার্কেও ছিল নানা বয়সের মানুষের ভিড়।
এবার ঈদে মুক্তি পেয়েছে পাঁচটি সিনেমা। দেশের বিভিন্ন পেক্ষাগৃহে চলছে শাকিব খান-বুবলি জুটির ‘ক্যাপ্টেন খান’, সাইমন-মাহিয়া মাহির ‘জান্নাত’, মাহিয়া মাহি-বনির ‘মনে রেখ’, রোশান-ববির ‘বেপরোয়া’ আর সিয়াম-পূজার ‘পোড়ামন-২’। জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত ‘পোড়ামন-২’ মুক্তি পেয়েছে বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে। সিনেমা দেখতে দর্শকের কমতি কম দেখা যায়নি।
শুক্রবার রাজধানীর রাজপথ থেকে শুরু করে সব সড়ক ফাঁকা দেখা গেছে। মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, এখনও ঘরে ফেরা মানুষের চাপ আছে সামান্য। তবে সময় বাড়ার সাথে সাথে ঢাকামুখী মানুষের ভিড় বাড়ছে। তবে কর্মস্থলে ফেরা মানুষ বাসে বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ করেন। নেত্রকোনা থেকে হযরত শাহজালাল এক্সপ্রেসে আসা যাত্রী শাহীন জানান, ২৫০টাকার নির্ধারিত ভাড়া ৪০০টাকা করে যাত্রী প্রতি নেয়া হয়। বাসগুলোও ইচ্ছেমত ছাড়ার অফিযোগ করেন তিনি। একই অভিযোগ করেন অপর যাত্রী রিয়াদুল। তিনি জানান, সকাল ছয়টায় গাড়ির টিকেট কাটলেও ছাড়ার সময় দেয়া হয়নি। এরপর সোয়া সাতটায় সিটিং হবার পর গাড়ি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ময়মনসিংহ, পাবনা, শেরপুর, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকার বাস যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ করেন।
ট্রেনের টিকেটের জন্য হাহাকার ॥ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ট্রেনের ফিরতি টিকেট বিক্রি হয়েছে অনেকটা আগে ভাগেই। কিন্তু যেসব এলাকায় অনলাইনে টিকেট বিক্রি কার্যক্রম নেই সেখানেই ইচ্ছেমত বিক্রি হয়েছে। ঢাকায় ফেরার জন্য ঈদের আগের দিন থেকে নেত্রকোনার অন্তত চারটি রেল স্টেশনে আজ শনিবার সহ আগামী কয়েকদিনের হাওর ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের টিকেকের জন্য চেষ্টা করেন অনেক যাত্রী। এমন অন্তত ২০ জন যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, সব স্টেশন থেকেই জানানো হয় টিকেট শেষ হয়ে যাবার কথা। মোহনগঞ্জ ও নেত্রকোনা স্টেশন মাস্টাররা জানান, টিকেট নিয়ে নয়, ছয় হওয়ার কারণে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অগ্রিম টিকেট বিক্রি হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করে। কোন টিকেট নেই। ভিআইপি ও রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ টিকেটও বিক্রি হয়ে গেছে। অনুসন্ধান বলছে, বেশিরভাগ টিকেট গেছে কালোবাজারীদের হাতে।
শুক্রবার সকালে নেত্রকোনা রেল স্টেশনে প্রকাশ্যে তিনগুন দামে হাওর ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট বিক্রি হতে দেখা গেছে। একই অভিযোগ মিলেছে মোহনগঞ্জ রেল স্টেশন থেকেও। তবে এ ব্যাপারে রেল পুলিশের পক্ষ থেকে কোন রকম পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। কমলাপুরে রেল স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে প্রতিটি ট্রেন ফিরছে বাড়তি যাত্রী নিয়ে। তবে বেশিরভাগ ট্রেন আসছে সময়মতো। যাত্রা পথে ব্যাপক সিডিউল বিপর্যয় দেখা দিলেও আসার পথে তা অনেকটাই কেটেছে বলে যাত্রীরা জা
