ডেক্স রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ এর সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।’ স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে ‘অ্যাকশন ফর পিসকিপিং’ (এফোরপি) এর ওপর একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে সেনা ও পুলিশ সদস্য পাঠানোর দিক থেকে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের সংস্কারের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা একটি বৈশ্বিক জনকল্যাণমুখী সেবা। এ বাহিনীর মর্যাদা ধরে রাখতে আমাদের সকলকে অবশ্যই একটি ইতিবাচক চিন্তাধারা নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের এখন নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে মোতায়েন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে তারা ক্রমবর্ধমান হুমকির শিকার হচ্ছে। এ জন্য শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া উচিত। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ পরিস্থিতিতে তাত্ক্ষণিকভাবে যে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের মতো ক্ষমতা ও সরঞ্জামাদি তাদের দেওয়া উচিত। আমরা আশা করছি এফোরপি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীকে তাদের লক্ষ্য পূরণে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
মিয়ানমারের বাহানায় প্রত্যাবাসন বিলম্বিত: বিডিনিউজ জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রস্তুতি নেওয়ার পরও মিয়ানমার সরকার একের পর এক অজুহাত তোলায় কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়ে থাকা সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হচ্ছে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক সাক্ষাত্কারে তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা এ শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব না। আমার দেশ এ ভার বহন করতে পারবে না।
সাক্ষাত্কারে শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক তৈরি হোক, তা তিনি চান না। তবে মিয়ানমারের নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চি এবং দেশটির ‘মূল ক্ষমতা’ যাদের হাতে, সেই সেনাবাহিনীর কথায় আস্থা রাখার মত ধৈর্য যে ধীরে ধীরে কমে আসছে, সে ইঙ্গিতও শেখ হাসিনার কথায় পাওয়ার কথা লিখেছে রয়টার্স।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এর আগেও একাধিকবার মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের প্রতিক্রিয়া তারা জানতে পারেনি।
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিবেন আজ: বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দিবেন। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদ হলে ভাষণ দিবেন তিনি। এ বছরে অধিবেশনের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে— ‘সকল মানুষের উপযোগী জাতিসংঘ গড়ে তোলা : বিশ্ব নেতৃত্ব এবং শান্তি, সমতা ও টেকসই সমাজের জন্য দায়-দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেয়া।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইতিপূর্বে দেওয়া তার পাঁচ দফা প্রস্তাবের পাশাপাশি আরো কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরবেন।
প্রযুক্তি হস্তান্তর সহজ করার আহ্বান: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বল্প খরচে প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বের দেশগুলোর কাছে স্বল্প ব্যয়ে প্রযুক্তি স্থানান্তরে বিশ্ব সম্প্রদায়ের একটি দায়িত্ব রয়েছে।’ একই দিন বিকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের প্লেনারি হলে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’ আয়োজিত ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক এক প্লেনারি সেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি একথা বলেন। বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েতো, নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট প্রমুখ এ প্লেনারি সেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার শুরুতেই তাকে নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায় ১০ লাখের অধিক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় প্রদানের জন্য অভিনন্দিত করেন।
ডব্লিউইএফের বার্ষিক সভায় যোগদানের আমন্ত্রণ: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট বোর্গে ব্রেনডি আগামী জানুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের ড্যাভোসে অনুষ্ঠেয় ফোরামের বার্ষিক সভায় যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার নিউইয়র্কে অবস্থানকালীন হোটেল গ্রান্ড হায়াতে সৌজন্য সাক্ষাতে ব্রেনডি এ আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী এদিন নেদারল্যান্ডের রানি ম্যাক্সিমার সঙ্গেও বৈঠক করেন।
এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোঃ নজিবুর রহমান এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা : সূত্র জানায়, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে না যাওয়ার নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে ২৯ সেপ্টেম্বর ১৪ দল পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করবে না। তবে তাদের পূর্ব ঘোষিত মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশ কর্মসূচি পালন করবে। একই সঙ্গে রাজপথে সতর্ক থাকবে।
