সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলে পৃথক দুটি স্থানে ট্রাক উল্টে খাদে পড়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছে অন্তত ৪০ জন। তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সকালে কালিহাতী থানার অদূরে সাতুটিয়া এলাকায় ও ঘাটাইলের নজুনবাগ এলাকায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে। হতাহতরা সবাই নির্মাণ শ্রমিক ও প্রাণ আরএফএল কোম্পানীতে কর্মরত। নিহত ছয়জনের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন- গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার পদমি শহর গ্রামের ইব্রাহিম বেপারীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৫), একই জেলা ফুলছড়ি উপজেলার পশ্চিম ঘাটগাছি গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে সাইদুর রহমান ও গাইবান্ধা জেলার মিরপুর উপজেলার আব্দুলের ছেলে আবুল কালাম এবং গোপালপুর উপজেলার ডুবাইল গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে খলিলুর রহমান (৩৫)।
আহত যাত্রীরা জানান, তারা ঈদের ছুটি শেষে দুটি ট্রাক যোগে প্রায় দেড় শতাধিক লোক গাইবান্ধা থেকে সিলেট যাচ্ছিলেন। তারা প্রাণ আরএফএল কোম্পানীতে কর্মরত। মাঝপথে সকাল ৫টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার কাছে সাতুটিয়া এলাকায় পৌছলে মাইমুনা এন্টারপ্রাইজের ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাঁদে অন্তত ৩০ ফুট নিচে পড়ে যায়। এতে অন্তত ৩৫জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়।
কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, থানার কাছে সেতু পার হওয়ার সময় ট্রাকটি উল্টে খাদে পড়ে যায়। খবর পেয়ে কালিহাতী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা এসে ট্রাকের নিচে ও পানিতে আরও হতাহত রয়েছে কিনা তার খোঁজে উদ্ধার তৎপরতা চালায়।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. সদর উদ্দিন জানান, সকাল ৬ টার দিকে দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ৩৫ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। এদের মধ্যে চারজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ২৭ জানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যায়। বাকি ৪জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে সকালে ঘাটাইলে পিকআপ ভ্যানে করে ২০/২২ জন নির্মাণ শ্রমিক ঢালাইয়ের কাজে ঘাটাইল থেকে পার্শ্ববর্তী কালিহাতী যাচ্ছিল। ট্রাকটি টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নজুনবাগ এলাকায় পৌছলে সামনের চাকা ফেটে গিয়ে সড়কের পাশে পুকুরে পড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই খলিলুর রহমান (৩৫) মারা যায়। সে গোপালপুর উপজেলার ডুবাইল গ্রামের ময়েন উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় আহত হয় কমপক্ষে ১০ জন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেয়। আহতদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
