বিশেষ সংবাদদাতা : শাহজালাল বিমানবন্দরে ঢাকা কাস্টমস হাউজের এয়ারফ্রেইট আমদানি শাখায় বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য খালাসের সময় ঢাকা কাস্টমস হাউজের চোরাচালান প্রতিরোধ টিম বা প্রিভেনটিভ টিমের কতিপয় অতি উৎসাহী সদস্য পণ্য স্টপ ডেলিভারিরর নামে সাধারণ ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। অন্যদিকে মুষ্ঠিমেয় হাতেগোনা কয়েকজন ব্যবসায়ীকে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আংগুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন। অন্য দিকে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। প্রিভেনটিমের চীফ এসির নেতৃত্বে সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা ফারুক এই ভ’মিকায় অবতীর্ন বলেও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন। সাধারন ব্যবসায়ী ও নি¤œ পদস্থ কর্মচারীদের মুখ থেকে ফসকে বেরিয়ে যায়, প্রিভেনটিভ এআরও ফারুকই ফ্রেইটে ডিস-এসি, তার রাজত্ব চলছে, স্বয়ং এসি তাকে আগলে রেখেছেন। আর এআরও রকিবুল ইসলামও কম যান না।
ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি এয়ারফ্রেইট আমদানি শাখায় হাতেগোনা কয়েকজন ব্যবসায়ীকে কমার্শিয়াল ব্যবসার অন্তরালে স্মাগলিংয়ে সহায়তা করছে কাস্টমস প্রিভেনটিভ টিম কতিপয় অতি উৎসাহী সদস্য- যারা এসি প্রিভেনটিভের নাম ভাংগিয়ে চলেন। তারা দীর্ঘদিন এয়ারফ্রেইটে বহাল থাকার সুবাধে মুষ্ঠিমেয় ব্যসায়ীদের পণ্য ডেলিভারিরর নামে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে নিজেরা নিজেদের আখের গুছাচ্ছে। ওই কতিপয় ব্যবসায়ীর সাথে মাঝেমধ্যে দর কষাকষি হলে তাদের পণ্যও আটকে দিয়ে লাখ লাখ টাকার ঘূষ হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও সাধারন ব্যবসায়ীরা জানান। এই পন্থায় এক ব্যবসায়ীর থেকে একটি কনসালমেন্ট আটকে দিয়ে কয়েক লাখ টাকার সুবিধা নিয়েছে বলেও ব্যবসায়ীরা জানান। এই মুষ্ঠিমেয় ব্যবসায়ীরা মিথ্যা ঘোষণায় যেমন ঘোষণায় থাকে গার্মেন্ট ফ্রেবিক্স, কাস্টমস উদ্ধার কওে আমদানি নিষিদ্ধ ওষূধ, সিগারেট ইত্যাদি। এ রকমের ঘটনা এয়ােেফ্রইটে ইতিপূর্বে বহুবার ঘটেছে, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এসব পণ্য জব্দও করেছে, মামলা হয়েছে।
সাধারন ব্যবসায়ীরা আরো জানান, আমরা যেখানে বৈধভাবে সরকারকে শুল্ক দিয়ে ব্যবসা করি, আমাদের পন্য ডেলিভারির সময়ে শতভাগ এক্সামিনের পরও নানা অজুহাতে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত এসি প্রিভেনটিভের নাম করে পন্য স্টপ ডেলিভারি করে হয়রানি করছে। অণ্য দিকে হাতেগোনা কয়েকজন ব্যবসায়ীকে সুযোগ দিয়ে যাচ্ছে অহরহ। ওই কতিপয় ব্যবসায়ীদের পন্য গেট কন্টাক্টে দেদারচ্ছে খালাস হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় এক গেটের পণ্য অণ্য গেট ব্যবহার করেও গেট কন্টাক্টে খালাস করে দেয়া হচ্ছে। এ সব ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভাগিনা জীবন, রাসেল, সুমন, শামীম,লিটন,নজরুল, শাহীন, আলম, মনির,উজ্জল নাম সবার মুখে মুখে। এরাই ফ্রেইটের মাবাপ, এদের কথায়ই ফ্রেইট চলে। আর যারা জেনুইনভাবে ব্যবসা করে তারা যেন নস্যি।
এ ব্যাপারে জানতে ডিসি এয়ারফ্রেইটের অফিসে গিয়েও ডিসি পাহলোয়ান অফিসিয়াল কাজে ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তার স্টাফরা বলেন, স্যার ব্যস্ত আছেন, আপনি পরে আসুন।
পাসওয়ার্ড জালিয়াতির পর এবার বিল অব এন্ট্রি জালিয়াতি : ঢাকা কাস্টমস হাউজে পাসওয়ার্ড জালিয়াতি করে সরকারের কয়েকশ’ কোটি টাকার রাজস্ব ফাকির ঘটনা তদন্তে উৎঘাটিত হওয়াার পর পাসওয়ার্ড জালিয়াতির হোতা রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল হালিমকে সাসপেন্ড করার পর পাসওয়ার্ড জালিয়াতি দমনে আসেনি। এবার বিল অব এন্ট্রি জালিয়াতি করে পন্য ডেলিভারি হয়ে যাচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় কুরিয়ার শুল্কায়নে ডিপিএক্স খাচা ও সিএন্ডএফ মিল্টন এন্টারপ্রাইজ জড়িত রয়েছে কাস্টমস রাজস্ব কর্মকর্তা হারুনর রশিদ তা জব্দ করেছেন। অন্যদিকে রেড মার্ক করা পন্য ডেলিভারির ফাইল মোসাবিধা করে এসি রফতানি প্রতি ফাইল থেকে হাজার হাজার টাকার সুবিধা নিয়ে ওই সব রেড মার্ককিত ফাইল চালান দিয়ে পন্য ডেলিভারির সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
এসএমই খাচা বন্ধের গুজব : কুরিয়ার শুল্কায়নে এসএমই খাচা বন্ধ করা হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্ত এসএমই খাচার কর্নধার বদরুল আলম শ্যামল তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন , আমাদের খাচা একদিনের জন্যও বন্ধ করা হয়নি। ডকেট বইয়ে আপটুডেট কিছু তথ্য না ওঠানোর জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তা আপটুডেট করার জন্য নির্দেশ দেয়ায় তা আপটুডেট করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে গত ১ ফেব্রুয়ারি বিকালে এসি রফতানি জুলফিকার আীল জানান, রেড মার্ক ফাইল আটকে সুবিধা নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তবে তিনি স্বীকার করেন , পন্যর ওজনে কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণা, বিল অব এন্ট্রি ভুয়া বা সন্দ্হে হলে সংশ্লিষ্ট এ সব ফাইল আমার দপ্তরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ সময় হুমায়ুন কবীর নামে একজন ব্যবসায়ী যার পন্য জব্দ করা হয়েছিল তিনি আইনি প্রক্রিয়ার বা কমিশনারের এডজুডিকেশনে গত ১ ফেব্রুয়ারি ৩ নং রাষ্ট্রীয় গুদাম থেকে পন্য ডেলিভারি নেয়ার সময় ৩ নং সরকারি গুদামে কর্মরত সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মুস্তাক তার পন্য ডেলিভারির সময় তার পণ্যের সাথে জব্দকৃত দুটি ল্যাপটপ বের করে তার রুমের ভিতর আলমারিতে রেখে দেন বলে এসিকে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। এসি রফতানি অভিযুক্ত ওই সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তাকে গোডাউন থেকে পন্য এধার-ওধার করার ঘটনা জিঙ্ঘাসাবাদও করেন। এ ঘটনায় এআরও মুস্তাক বলেন যে , স্যার আমাকে চেয়ারম্যানের আদেশে গত ২৪ জানুয়ারি কুমিল্লায় বদলি করা হয়েছে। আমি চলে যাব স্যার।
ব্যবসায়রা জানান, সিডিউল সময় সকাল ১০টা- বিকাল ৫টা, কিন্ত প্রতিদিন বিকাল ৫টার পর ফ্রেইট ওপেন রেখে রাত ৭-৮টা নাগাদ পণ্য খালাস দেয়া হয়ে থাকে। এ সময় হাউজ কমিশনার, ফ্রেইট ডিসি অনুপস্থিত তাকেন। যা উর্ধতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে। এই সিডিউল সময়ের পর ওই কতিপয় মুষ্ঠিমেয় ব্যবসায়ীদের পন্য খালাসে পোয়াবারো। তারা সন্ধ্যার পর তাদের পন্য ডেলিভারি নিয়ে লাখ লাখ টাকার হ্যান্ডক্যাশ কাস্টমস কর্মকর্তাদের রুমে রুমে বিতরন করে থাকে বলেও সাধারন ব্যবসায়ীরা জানান।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
