একুশে বার্তা রিপোর্ট : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘এবার হজ ব্যবস্থাপনায় কোনও ত্রুটি ছিল না, ছিল সফল। ফলে অন্যান্য বছরের মতো এবার এহরাম পরা অবস্থায় হাজিদের ঢাকার রাস্তায় ঘুরতে দেখা যায়নি। আগামী বছর থেকে মোট হাজির ৫০ শতাংশ সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’
সোমবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে হজ ব্যবস্থাপনার সফল সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় ধর্ম সচিব মো. আনিছুর রহমান ও হজ এজেন্সি মালিকদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ধর্ম মন্ত্রীর আন্তরিকতায় এবারের হজ্ব ব্যবস্থাপনা সফল হলেও আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে ঘাপটি মেরে থাকা দুর্ণীতিবাজরা এখনও বহাল। পরিচালক হজ্ব ক্যাম্প এদের আগলে রেখেছেন বলে শোনা যায়। ৩ কোটি ১১ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের ৫ মাস পরও এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পরও আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পের কেরানি সুহিল মোহাম্মদ ফেরদৌসের বিরুদ্ধে এখনও মামলা করছেন না পরিচালক হজ্ব ক্যাম্প। বরং মামলা না করার পক্ষে দুর্নীতিবাজ তদবির করছেন।
এ দিকে দুর্নীতির অভিযোগ আমলেই নেয়া হয়নি সহকারি হজ্ব অফিসার আব্দুল মালেক এবং কেরানি দীন মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। কিভাবে কর্মচারি কোটায় এবারের হজ্ব মওসুমে হজ্বযাত্রীদের সেবার জন্য সহকারি হজ্ব অফিসার আব্দুল মালেক সৌদি আবর গেলেন- তা তদন্ত আওতায় আনা হচ্ছে না। হজ্ব ক্যাম্পের ডরমেটরি থেকে সহকারি হজ্ব অফিসার আব্দুল মালেকের পরিবারসহ অন্যদের বের করা হলেও এদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত মাঠে মারা গেছে। ধর্ম সচিবও এ ব্যাপারে নিশ্চুপ। মন্ত্রী এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিলে তা দেশ ও জাতির জন্য মংগল।
মন্ত্রী জানান, চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার ৯২৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজারসহ মোট এক লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজে যাওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সদস্যসহ সব মিলিয়ে এক লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন এবার হজ করেছেন।
এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় কোনও ত্রুটি হয়নি বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘হাজিরা আল্লাহর মেহমান। তাদের চোখে আমি পানি দেখতে চাই না। কোনও হাজিকে এহরাম পরে যেন রাস্তাঘাটে ঘুরতে না হয়।’ আলহামদুলিল্লাহ এবার কোনও হাজিকে হজে যেতে না পেরে এহরাম পরে রাস্তায় ঘুরতে দেখা যায়নি।’
শেখ আবদুল্লাহ বলেন, এ বছর ৫৯৮টি হজ এজেন্সি হজ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। হজ করতে গিয়ে ১১৮ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবে মারা গেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনা ৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনা ১১৩ জন হজে গিয়েছিলেন। মারা যাওয়া হাজিদের মধ্যে ১০১ জন পুরুষ এবং ১৭ জন নারী।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগামী বছর হজ ব্যবস্থাপনায় আরও উন্নতি হবে। কারণ এ বছরটি ছিল আমার প্রথম ব্যবস্থাপনা। অতীতের কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। এবারের অভিজ্ঞতা আগামী বছর কাজে লাগাবো। চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ছয় হাজার ৯২৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজারসহ মোট এক লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করেছিলেন।
আগামী বছরও এই সংখ্যা ঠিক থাকলে তার অর্ধেক সরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরবে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।
