পাবনায় শেখ হাসিনার ট্রেনে হামলা : ৯ জনের মৃত্যুদন্ড

ডেক্স রিপোর্ট : পাবনা-ঈশ্বরদী রেল স্টেশনে ১৯৯৪ সালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় আদালত ৯ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। এছাড়াও ২৫ জনকে যাবজ্জীবন সাজা ও ১৩ জনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টা ৫২ মিনিট থেকে পাবনার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক রোস্তম আলী এই রায় পড়া শুরু করেন এবং ১২টা ৫৬ মিনিটে রায় পড়া শেষ করেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের ৩ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দশ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

ফাঁসির আসামিরা হলেন- ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু, পাবনা জেলা বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম আকতারুজ্জামান, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সভাপতি মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল, বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, শামছুল আলম, আজিজুর রহমান, অটল, রেজাউল করিম শাহিন।

মামলার রায় ঘোষনণার পর পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ মিষ্টি বিতরণ করে। এই রায়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। অপরদিকে বিএনপি  নেতাকর্মীরা রায় প্রত্যাখ্যান করে আদালত প্রাঙ্গণে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

পরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিলে তারা সটকে পড়েন। এ বিষয়ে পাবনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তোতা বলেন, এটা একটা রাজনৈতিক মামলা। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উচ্চ আদালতে মোকাবিলা করবো।

মামলায় সরকার পক্ষের আইনজীবী পিপি আকতারুজ্জামান মুক্তা বলেন, ১৯৯৪ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাবার পথিমধ্যে ঈশ্বরদী স্টেশনে যাত্রাবিরতিকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা ট্রেনে ও তার কামরায় গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় ওই সময়ে জিআরপি পুলিশের ওসি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ মামলাটি পুনঃতদন্ত করে নতুন করে ঈশ্বরদীর শীর্ষস্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়। মামলাটি দায়ের হওয়ার পরের বছরে এই মামলায় পুলিশ কোনো সাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। কিন্তু আদালত ওই রিপোর্ট গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করেন। পরে সিআইডি  তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।  খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে চলতি বছরের ৩০শে জুন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের ৩০ নেতাকর্মী আদালতে হাজির হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। ২রা জুলাই এই মামলার আরো দুই আসামি ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মোখলেছুর রহমান ওরফে বাবলু এবং বিএনপি নেতা আব্দুল হাকিম টেনু আদালতে আত্মসমর্পণ করে। অন্যদিকে পুলিশ ওইদিন রাতেই এই মামলার আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে। জানা যায়, এই মামলায় এ পর্যন্ত ৩৩ জন আসামি জেল হাজতে রয়েছে। পলাতক রয়েছে ১৪ জন এবং মারা গেছে ৫ জন।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো আমিনুল ইসলাম, আজাদ হোসেন খোকন, ইসমাইল হোসেন জুয়েল, আলাউদ্দিন বিশ্বাস, সামসুর রহমান সিমু, আনিসুর রহমান সেকম, আক্কেল আলী, রবি, এনাম, কাশেম, কালা বাবু, মামুন-১, মামুন-২, সেলিম, কল্লোল, তুহিন, লিটন, মামুন, লাইজু, আবদুল জব্বার, পলাশ, টেনু, আলমগীর, আবুল কালাম ও ফিরোজুল ইসলাম পায়েল। ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড আসামিরা হলো রাজু, ডাব্লু, জনি, রনো, বরকত, চাঁদ আলী, এনামুল কবির মুক্তার, মুকুল, দুলাল, জামরুল, তুহিন বিন সিদ্দিক ও ফজলুর রহমান।