নিউজ ডেক্স : বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, এ মাসের শেষের দিকে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম কমবে। তার আগে হয়তো সম্ভব হবে না। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এরপরও আমরা চেষ্টা করছি। তবে পেঁয়াজ ১০০ টাকার নিচে পাওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই।’ গত ৮ নভেম্বর শুক্রবার সকালে রংপুর নগরে ইটভাটা মালিকদের বার্ষিক সাধারণ সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নগরের হোটেলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। সেখানেই পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি দরে কিনতে হবে। আমাদের দেশে আসার পর তা ১০০ টাকা দর পড়ে যাবে। ফলে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে আপাতত লাভ নেই।’ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মিসর থেকে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আসার কথা। সেটা এলেও দাম একটু কমতে পারে। মন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজের বাজার মনিটরিং করার জন্য মন্ত্রণালয়ে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম এখনো ১৩০ টাকা। পাইকারিতে এর দাম ১১০ থেকে ১২৬ টাকা। তবে বিক্রেতারা বলছেন, সব ধরনের পেঁয়াজে ৫ থেকে ১০ টাকা করে কমেছে।
গত ৮ নভেম্বর শুক্রবার কারওয়ানবাজার ও কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে ক্রেতা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে শ্যামবাজারে বেঁধে দেয়া দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। শ্যামবাজার বণিক সমিতি পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিয়ানমারের পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা এবং মিসর, তুরস্ক ও চীনের পেঁয়াজের কেজিপ্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করছেন। শ্যামবাজারের পেঁয়াজ ও রসুন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বণিক সমিতি পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। আমরা সেই দামে বিক্রি করছি। তবে দু-একজন ব্যবসায়ী জানালেন, নির্ধারিত দামে পেঁয়াজ বিক্রি এখনও শুরু হয়নি। এদিকে কারওয়ানবাজারের পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম এখন ১১০ থেকে ১২৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ আগে ১৩০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছিল এই পেঁয়াজ। সে হিসেবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে অন্তত ৫ টাকা। বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ নেই বললেই চলে। আর মিসরের পেঁয়াজের দাম কমে ৯৫ টাকা ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই ধরনের পেঁয়াজেই কেজিতে দাম ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে। কারওয়ানবাজারের পাইকারি বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমছে। আগের চেয়ে এখন ৫ থেকে ১০ টাকা কমে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। আরেক বিক্রেতা বলেন, সব ধরনের পেঁয়াজের দামই বাজারে কমেছে। আমরাও কম দামে বিক্রি করছি। কারওয়ানবাজারের লাকসাম বাণিজ্যালয়ের মালিক মো. হাবিবুর রহমান মোস্তফা বলেন, বাজারে এখনো নতুন পেঁয়াজ উঠেনি। উঠলে আরও দাম কমবে। কারওয়ানবাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা বাংলামোটরের বাসিন্দা শাহীন বলেন, পেঁয়াজের দাম এখনও খুব একটা কমেনি। যেখানে কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দাম বেড়েছিল, সেখানে কমেছে মাত্র ১০ টাকা। এদিকে মহাখালীর বউবাজারে দেশি পেঁয়াজ ১৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ভারতীয় পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে একই দামে। এই বাজারের পেঁয়াজের বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, খুচরা বাজারে কেজিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে অন্তত ১০ টাকা। বিজয় সরণির কলমিলতা বাজার ও ফার্মগেট ইন্দিরা রোডের মাহবুব প্লাজার নিচতলার বাজারটিতেও একই দামে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে।দিনকাল
