যশোহর এয়ারপোর্টে টেন্ডার ছাড়াই আউট সোর্সিং কাজ করছেন এমপি ইয়াকুব আলির আপন ভাই মমিনুর রহমান জিহাদ: কেরানি সামাদ এখনও বহাল

স্টাফ রিপোর্টার : যশোহর এয়ারপোর্টে দুর্নীতির শিখড় উপড়ে ফেলা যাচ্ছে না। দুর্নীতির অভিযোগে ম্যানেজার মাসুদকে ঢাকায় বদলি করা হলেও দুর্নীতি পিছু ছাড়ছে না। তার বদলিতে মিষ্টি বিতরণ করেছে কর্মচারিরা। সেই হাসিনা এখন চাকরিচ্যুত , যার জন্য মাসুদের ঘর-সংসারে অশান্তি বিরাজ করছে।
দুর্নীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন  কেরানি আব্দুস সামাদ।

এ দিকে টেন্ডার ছাড়াই আউট সোর্সিং কাজ কাজ করছে আওয়ামীলীগের এমপি ইয়াকুব আলির আপন ভাই মুমিনুর রহমান জিহাদ-এর প্রতিষ্ঠান একতা এন্টারপ্রাইজ। বার বার নবায়ন করে যাচ্ছে।
শুধু এমপি ইয়াকুবের ভাই নয় আওয়ামী দোসররাই বিভিন্ন এয়ারপোর্টের মতো যশোহর এয়ারপোর্টেও লাউন্ঞ, দোকানপাট, বিঙাপনি বোর্ড বছরের পর বছর নবায়ন করে চালাচ্ছে, নতুন করে টেন্ডার আহবান করা হচ্ছে না। এতে সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব। শমী কায়সার , নায়ক মাহফুজের যশোহর এয়ারপোের্টেও শাহজালাল, চট্রগ্রামের পর নবায়ন করা হয়েছে। ঢাকার এয়ারপোর্টসহ দেশের সব এয়ারপোর্টে আওয়ামী দোসরদের রাজত্ব চলছে।
এদিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে কটুক্তি করার অপরাধে শমী কায়সারের নামে যশোহর আদালতে মামলা হয়েছে। ই-কমার্স থেকেও পদত্যাগ করেছেন শমী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শমী কায়সার বেবিচকের আগের চেয়ারম্যানের অফিসে বসে প্রভাব বিস্তার করে দেশের বিভিন্ন এয়ারপোর্টে লাউন্ঞ বরাদ্দ নিতো। শাহজালাল বিমানবন্দরে মাত্র ৬০ লাখ টাকায় লাউন্ঞ বরাদ্দ নিয়ে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকায় সিটি ব্যাংককে ভাড়া দিয়েছে। বেবিচক কর্তৃপক্ষ তা আবার গত আগস্টে নবায়ন করেছে। এর দায়ে ডিডি প্রশান্ত মোহন্তকে বদলি করা হয়েছে, মেম্বার অপসকে বদলি করা হয়েছে, কিন্ত শমীর লাউন্ঞ এখনও বরাদ্দ বাতিল করা হয়নি। আওয়ামী দোসরদের নামে বরাদ্দকৃত কোন লাউন্ঞই বরাদ্দ বাতিল করা হয়নি , বেবিচক একটার পর একটা নবায়ন করে যাচ্ছে।

যশোহর এয়ারপোর্টে এমপি ইয়াকুবের ভাই জিহাদের প্রতিষ্ঠান ‘ একতা এন্টারপ্রাাইজের নামে পরিচ্ছন্নতা কাজের আউটসোর্সিং কাজ নবায়ন করে যাচ্ছে বেবিচক কর্তৃপক্ষ। পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বেবিচক থেকে প্রদেয় টাকার প্রায় অর্ধেক কর্তন করে কর্মীদের বেতন দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। তাও আবার আড়াইমাস যাবত পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বেতন বকেয়া, বেতন চাইতে গেলে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। বেতনের এই অর্ধেক টাকা ম্যানেজার, কেরানি সামাদ এবং কোম্পানি যোগসাজশে লুটপাট করা হচ্ছে।
যশোহর এয়ারপোর্টের কার পার্কিংও সিন্ডিকেড দখলে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে কেরানি সামাদ, পিয়ন মফিজ, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব , পকেটে ভারি হচ্ছে ম্যানেজার, কেরানি সামাদ ও পিয়ন মফিজের। এই সিন্ডিকেড সদস্যরা গাড়ি পার্কিং করার সময় টিকিট দেয় না। গাড়ি বের হবার সময় টাকা নিয়ে গাড়ি ছেড়ে দেয়। এ চিত্র নিত্যদিনের।
যশোহর এয়ারপোর্ট ম্যানেজার সাইদুর রহমান আওয়ামী আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পাশর্^বর্তী এলাকার লোক, আওয়ামীলীগ সরকারের পছন্দের পদায়নকৃত। পিয়ন মফিজ, আল হেলাল ম্যানেজারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
কর্মকর্তাদের নামে বরাদ্দকৃত বাসা কর্মচারি আল হেলালের নামে কর্মচারি কোটায় বরাদ্দ নিয়ে ম্যানেজার বসবাস করছেন। আল হেলাল তয় শ্রেণীর কর্মচারি হলেও কর্মকর্তাদের বাসা তার নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। সে বাসায় ম্যানেজার বসবাস করে থাকে। এতে সরকার হারাচ্ছে নিদিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব।