যে সব সাংবাদিক দুর্নীতি করে তারা দুর্নীতির রিপোর্ট লিখতে পারে না : ডিজি পিআইবি

একুশে বার্তা ডেক্স : দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী ও প্রতিরোধ কার্যক্রমে সৃজনশীল প্রতিবেদনের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ছয়জন সাংবাদিককে পুরস্কৃত করেছে। ২৮ মার্চ বুধবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয় মিলনায়তনে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ছয় সাংবাদিককে পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেন।
প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার দুটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী সাংবাদিকদের নাম ঘোষণা করেন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড বিচারক মণ্ডলীর সদস্য একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান সম্পাদক মন্‌জুরুল আহসান বুলবুল।

প্রিন্ট মিডিয়া ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন দৈনিক সমকালের আবু সালেহ রনি, দ্বিতীয় স্থান অধিকারী দৈনিক যুগান্তরের নেছারুল হক খোকন ও তৃতীয় স্থান অধিকারী হলেন দৈনিক জনকন্ঠের বিভাষ বাড়ৈ।

ইলেকট্রনিক ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকরী হলেন এটিএন বাংলার মাহবুব কবির চপল, দ্বিতীয় স্থান অধিকারী মাছরাঙা টেলিভিশনের মো. বদরুদ্দোজা বাবু ও তৃতীয় স্থান অধিকারী এনটিভির এএসএম জহিরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি কমলে দেশের আরও উন্নতি সম্ভব। ব্যাংক কেলেঙ্কারিসহ নানা ক্ষেত্রের দুর্নীতি ছাপিয়ে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত আছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ পালন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান সম্পাদক মন্‌জুরুল আহসান বুলবুল, বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউটের (পিআইবি) মহাপরিচালক শাহ আলমগীর।

অর্থপ্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশের ওপরে রয়েছে। বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ আরো কিছু খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হচ্ছে। উন্নয়নের এই ধারা সম্মিলিতভাবে ধরে রাখতে হবে। দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে দুদককে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা আমাদের স্বল্পোন্নত সদ্য স্বীকৃতি পাওয়া একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যম যে কোন রাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী স্তম্ভ। যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্টের কারনে ওই দেশের তৎকালীন সরকারের পতন হয়েছিল।

সভাপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদক দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে থাকে। সে ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তির সংশ্নিষ্টতা পাওয়া গেলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কোন ব্যক্তির রাজনৈতিক, সামাজিক দিক বিবেচনা করে অভিযোগ অনুসন্ধান করা হয়না। দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তা অনুষন্ধান করা হয়। দুদক নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিটের মাধ্যমে দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করছে।

একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী মন্‌জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, এই প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে প্রিন্ট মিডিয়া থেকে স্বল্প সংখ্যক রিপোর্ট জমা পড়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রচার হওয়া দরকার। প্রয়োজনে দুদকের পক্ষ থেকে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে রিপোর্ট আহবান করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতা সবচেয়ে আধুনিক পেশা। এই আধুনিকতা পোশাক-পরিচ্ছদে নয়, তথ্য-উপাত্তের। একজন সাংবাদিককে প্রতিনিয়ত এদিক থেকে আধুনিক থাকতে হয়।

পিআইবি মহাপরিচালক শাহ আলমগীর বলেন, দুর্নীতির অনুসন্ধানী ভাল রিপোর্ট ছাপা হয়। তবে প্রতিযোগীতার জন্য জমা হয়না। এর প্রচার কম হয় নাকি এ ক্ষেত্রে কারো ব্যর্থতা আছে তা খতিয়ে দেখা দরকার।

তিনি বলেন, কারো দুর্নীতি ধরতে গেলে আগে নিজের দিকে তাকাতে হয়। যে সব সাংবাদিক দুর্নীতি করে তারা দুর্নীতির রিপোর্ট লিখতে পারেনা। কোন রিপোর্ট যাতে উদ্দেশ্যমূলক না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।