শাহজালালে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ শাখার সব সিসি ক্যামেরা মাসের পর মাস অকেজো : উপপরিচালক জানেন না এ ঘটনা, বললেন জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে

একুশে বার্তা প্রতিবেদন : শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশফেরত যাত্রীদের হারিয়ে যাওয়ার পর খুঁজে পাওয়া শতশত লাগেজ সংরক্ষণ করা হয় কাস্টমস হলের ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ শাখায়। স্পর্শকাতর এ শাখা থেকে কোনো কিছু যেন খোয়া না যায়, তা তদারকির জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। কিন্তু গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ওই শাখার সব ক’টি সিসি ক্যামেরা অচল হয়ে পড়ে আছে। এ সুযোগে প্রায়ই এখান থেকে চুরি হচ্ছে যাত্রীদের লাগেজ, মালামাল।

অভিযোগ রয়েছে, বিমানবন্দরের একশ্রেণির অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে সংঘবদ্ধ একটি চোরচক্র ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ শাখা থেকে চুরি করছে মালামাল। সিসি ক্যামেরার কঠোর মনিটরিংয়েও যখন চোরচক্রকে আটকানো যাচ্ছে না, সেখানে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে সব ক’টি সিসি ক্যামেরা অচল হয়ে পড়ে থাকায় চোরচক্রের এখন ‘পোয়াবারো’।

বিমানবন্দরে কর্মরত সংস্থাগুলো বারবার সিসি ক্যামেরাগুলো মেরামতের কথা বললেও কর্ণপাত করছে না নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েকদিন পরপর ইঁদুর-বেড়াল সিসি ক্যামেরাগুলোর তার কেটে ফেলায় এ বিপত্তি ঘটছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সুলতানগঞ্জের বাসিন্দা মেহেদী হাসান নামে কাতার এয়ারওয়েজে আসা এক যাত্রীর লাগেজ কেটে ল্যাপটপসহ মূল্যবান মালামাল খোয়া যায়। গত বৃহস্পতিবার তিনি এ বিষয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)

কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযাগ দেন। বিষয়টি তদন্ত নেমে আক্কেলগুড়–ম অবস্থা হয় পুলিশের। খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন, ৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে কাস্টমস হলের ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ শাখার সিসি ক্যামেরা অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে ওই যাত্রীর মালামাল কে চুরি করেছে, তাদের শনাক্ত করতে পারেননি তারা। গতকাল পর্যন্ত মেহেদী হাসান ফিরে পাননি তার মালামাল। ইতিপূর্বে এ শাখায় কর্মরত বিমানের নিরাপত্তা সুপার নাজনীন সুলতানা চুরির দায়ে মামলা খেয়েছেন। পরে আদালত থেকে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের উপ-পরিচালক বেনি মাধব বিশ্বাস জানান, ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ শাখার সিসি ক্যামেরাগুলো ৩ মাস অচল হয়ে পড়ে আছে বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি তাই হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।