সততার নির্বাসন ও সিন্ডিকেটের জয়: প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানের কারাবাস কি প্রতিহিংসা?

ডেস্ক রিপোর্ট: বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সুশাসনের অন্তরালে এক গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংস্থাটির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানের গ্রেফতার কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একজন সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাকে পেশাগত প্রতিহিংসার মাধ্যমে বলি দেওয়ার এক নিকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
হাবিবুর রহমান বেবিচকের এমন একজন প্রকৌশলী, যাকে বিগত সরকারের আমলে তার মেধা ও সততার কারণে বারবার বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। একজন দক্ষ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সত্ত্বেও তাকে প্রকৌশল শাখা থেকে দূরে সরিয়ে দীর্ঘ সময় ‘ফ্লাইট সেফটি ডিপার্টমেন্ট’-এ পরিচালক হিসেবে কার্যত ওএসডি (OSD) করে রাখা হয়েছিল। অবসরের পূর্বে মাত্র তিন মাস প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) আছেন। অথচ, এই স্বল্প সময়েও তিনি অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে সরকারের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা অপচয় রোধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া ফিজিবিলিটি স্টাডিহীন ও নিয়মবহির্ভূত প্রকল্পগুলোতে তিনি কোনো ‘অবৈধ সুবিধা’ দিতে রাজি হননি। আর এই সততাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুয়েট বিশেষজ্ঞ দল যখন তাকে একটি অসম্পন্ন প্রকল্পের ‘পিডি’ করার সুপারিশ করে, তখনই নড়েচড়ে বসে বেবিচকের প্রভাবশালী ‘চুক্তিভিত্তিক’ পদলোভী ও অসাধু ঠিকাদার সিন্ডিকেট। তাকে পথ থেকে সরাতেই দুদকের মামলার জাল বিছানো হয়েছে বলে সংস্থার ভেতরে-বাইরে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, দুদকের ৪টি মামলায় ১২ জন আসামি থাকলেও রহস্যজনকভাবে কেবল হাবিবুর রহমানকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামি ও সাবেক প্রভাবশালী চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য রাঘববোয়ালরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই বৈষম্যমূলক গ্রেফতার কি দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান, নাকি সততাকে দমনের হাতিয়ার—সেই প্রশ্ন আজ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
যিনি সারা জীবন ওএসডি হওয়ার অপমান সয়েও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি, তাকে আজ কারাগারে দিন কাটাতে হচ্ছে। এটি দেশের আমলাতন্ত্র ও প্রকৌশল সমাজের জন্য এক চরম হতাশাজনক বার্তা। সরকারের উচিত এই ঘটনার অন্তরালে থাকা সিন্ডিকেটের নীল নকশা উদ্ঘাটন করা এবং একজন নিরপরাধ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাকে এই অন্যায্য গ্লানি থেকে মুক্তি দেওয়া। অন্যথায়, ভবিষ্যতে কোনো সৎ কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় এগিয়ে আসার সাহস পাবেন না। সচেতন মহল মনে করে প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানকে কারামুক্ত করতে বেবিচকের দায় রহিয়াছে। কিন্তু বেবিচক সে দায়িত্ব পালনে দৃশ্যমান কিছুই করছেনা।