বিশেষ সংবাদদাতা : সিভিল এভিয়েশনের ট্রেনিং সেন্টার ( সিএটিসি) পরিচালকের দপ্তর ঘিরে নানা অনিয়ম দুর্নীতি চলছে দীর্ঘদিন যাবত। কর্মচারীদের ওভারটাইমের টাকা শতকরা ৪০ ভাগ কর্তন করে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। মাসে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকার ওভার টাইমের টাকা পরিচালকসহ অধস্তনরা ভাগবাটোয়ারা করে লুটপাট করছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে স্বর্ন ও মানব পাচার সহয়োগী, কেউ ফৌজধারি মামলার আসামী, ২১ নারী ও শিশু পাচার মামার আসামি (পরে অবশ্য মামলাটি আদালতে খারিজ হয়েছে)- সেই মামলার আসামী – সেই ব্যক্তি, বিমানবন্দরে স্মাগলিং সিন্ডিকেট সদস্য রফিক ওরফে সোনা রফিক, বাউনিয়ার পিয়ার আলি, নাসিরসহ ১০-১৫ জন, পরিচালকের ভাগিনা বলে খ্যাত রাজ্জাককে সিএটিসিতে বদলি করে আনা হয়েছে। রাজ্জাককে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ১৫-২০ জনের সিন্ডিকেট যারা সিএটিসিতে দীর্ঘদিন কর্মরত- ওরা প্রতিদিন সিডিউল সময়ে অফিসে আসে না, ইচ্চামাফিক মাসে দুই/ একার এসে হাজিরা খাতায় সই করে বেতন তুলে নিচ্ছে, ওভারটাইমের তালিকায়ও নাম বসিয়ে শতকরা ৪০ ভাগ কোন কোন মাসে ওভারটাইমের পুরোটাই উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে দিয়ে খুশি রেখে শাহজালালে স্মাগলিং কাজে মনোনিবেশ করছে। এদের মধ্যে রফিক ওরফে সোনা রফিক, পিয়ার আলি, রাজ্জাক, নাসির কবীরসহ আরো কয়েকজনের নাম সবার মুখে মুখে।
সূত্রে জানা গেছে, কেয়ার পদ থেকে শাহাদত হোসেন মিঠুকে সরিয়ে দিয়ে পরিচালকের কথিত ভাগিনা রাজ্জাককে কেয়ারটেকার পদে বসানো হয়েছে। কেয়ারটেকার রাজ্জাককে সব সাইট বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, সিএটিসিতে পরিচালকের দপ্তর ঘিরে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির সাথে যে নাম বার বার ঘুরে-ফিরে আসছে- তারা হচ্ছেন সিনিয়র এ্যারোডাম অফিসার মজিবর রহমান মিয়াজী ,ইংলিশ সিরাজ, মহিলা কর্মকর্তা শামীমা। পরিচালকের ডানহাত হিসেবে ওরা কাজ করছে। ঘুপচি টেন্ডারে কেনাকাটা, বিনা টেন্ডারে লিফটের কাজ, ঘুপচি টেন্ডারে সিএটিসিতে প্রতিটি রুমের দরজা লাগানোর কাজ , অফিসারদের ডাইনিং রুম ভেংগে বড়করন কাজ করানো হচ্ছে। আইকাও’র আইন লংঘন করে রেডলাইন কর্মকর্তা ট্রেইনারদের জন্য সিএএবির তহবিল থেকে মাসে লাখ লাখ টাকা আপ্যায়নের বাবদ খরচ করা হচ্ছে। সিএটিসির কাওলার মহিলা হোস্টেলে সিএএবির কর্মচারি না হয়েও পরিচালকের আত্মীয় হিসেবে বহিরাগতরা থাকছেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে।
সূত্র জানায়, পরিচালকের ডানহাত বলে খ্যাত মিয়াজী এখানে দীর্ঘদিন কর্মরত। তিনিই নাকি সব অনিয়ম দুর্নীতির নাটেরগুরু। আর এসব অনিয়ম- দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ ইনকাম করে মিয়াজী উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে ৬ তলা বাড়ি , রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ৭-৮টি প্রজেক্টে উন্নয়ন কাজ চলছে বলেও শোনা যায়। এই প্রজেক্টগুলোর মধ্যে কোন কোনটিতে পরিচালক পার্টনার আছেন বলেও শোনা যায়।
সূত্র জানায়, সিএটিসি সিভিল এভিয়েশনের কি পয়েন্ট হলেও এখানে ট্রেনিং- এর নাম করে শাস্তিযোগ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন করা থাকে। ফৌজধারি মামলার আসামী, সাসপেন্ডকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারি; তদন্তে দায়ী সাব্যস্তদের এখানে পোস্টিং দেয়া হয়ে থাকে। এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। অথচ পরিচালক মতামত ব্যক্ত করছেন এখান থেকে ভাল কিছু বের করা যেতে পারে ভাল ট্রেনিং বা ভাল নজরধারিতে। কিন্ত ট্রেনিংয়ে যারা দক্ষ তাদেরকে এখানে পদায়ন করা হয় না।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
