সিভিল এভিয়েশনে ৪টি মেগা প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি : কয়েক কোটি টাকার নেগোসিয়েশন : তদন্তে মাঠে নেমেছে বিমান মন্ত্রণালয়ের দুটি ও দুদকের ১টি তদন্ত টিম

বিশেষ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরীটিতে ( সিএএবি) দুটি আন্তর্জাতিক ও একটি আভ্যন্তরীন বিমানবন্দরের ৪টি মেগা প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি আশ্রয় নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ সংক্রান্ত দুটি ঠিকাদারি গ্রুপের মধ্যে এক অপরের বিরুদ্বে উচ্চ আদালতে রিট মামলাও করেছেন। এই অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব ও একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে দুটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। দুদকের একজন উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই গঠিত তদন্ত কমিটি বড় বড় ৪টি প্রকল্পের দুর্নীতির তদন্ত করছে। কিন্ত গঠিত তদন্ত কমিটি বড় বড় ৪টি প্রকল্পের তদন্ত করতে গিয়ে সাগরে সাতরাচ্ছে বলে অনেকে বলে মন্তব্য করেছেন। এই বড় বড় ৪টি প্রকল্প ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও ওপেক্ষা করা হয়েছে। বড় বড় এই ৪টি প্রকল্পের কাজে একজন মন্ত্রী এবং একজন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সুপারিশ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে এই বড় ৪টি প্রকল্প নিয়ে এক ‘নেগোসিয়েশন’ বৈঠকে কয়েক কোটি টাকা লেনদেন হয়ছে। উক্ত নেগোসিয়েশন বৈঠকে সিএএবির নেতৃত্বদানকারি ঠিকাদার নেতা ও ক্ষমতাসীন দলের মহানগর উত্তরের কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের অধীন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২টি প্রকল্প , সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১টি প্রকল্প এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরে ১টি প্রকল্পে ১৪শ’ ২৫ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। প্রকল্প ৪টি হলো : শাহজালালে ৫ শ’ কোটি হ্যাংগার ও ১৭৫ কোটি টাকার এ্যাপ্রোন উন্নয়ন কাজ। সিলেট বিমানবন্দরে ৫ শ’ কোটি টাকার ভবন নির্মাণ কাজ এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরে ২৫০ কোটি টাকার টার্মিনাল ভবনের কাজ। বড় বড় ৪টি প্রকল্পেরই টেন্ডার হয়েছে, কোনটির মূল্যায়নও হয়েছে, কোনটির মূল্যায়ন এখনও শেষ হয়নি।
কক্সবাজার বিমানবন্দর : সূত্র জানায়, এই বড় বড় ৪টি প্রকল্প ঘিরে বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী মীর নাছিরের ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান মীর আকতার হোসেন, আব্দুল মোমেন, জামাল এন্ড কোম্পানি এবং এনডিই কাজ পাবার জন্য মাঠে নেমেছে। এরমধ্যে মীর আকতার হোসেনকে প্রধানমন্ত্রীর নিষেধাঙা সত্বেও এর আগে কক্সবাজার বিমানবন্দরে রানওয়ে নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। এবার আবার মীর আকতারকে কক্সবাজার বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবন নির্মাণ কাজ দেবার পায়তারা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালক সিএএবির নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল হাসিব কলকাঠি নাড়ছেন। মীর আকতার হোসেনের মালিক নাকি পিডির দুসম্পর্কের আত্মীয়। গতবারও এ সুবাধে মীর আকতারকে কক্সবাজার বিমানবন্দরের ১১শ’ কোটি টাকার রানওয়ের কাজের কার্যাদেশ দেয়া হয়। ছাত্রজীবনে বিএনপি- শিবির ঘেষা এই পিডির বিরুদ্বে বিস্তর অভিযোগ শোনা যায়। আর এ জন্য অতি সম্প্রতি এই পিডি হাসিব ছাত্রলীগের ছেলেদের হাতে লান্ঞিতও হয়েছেন। তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রকল্পের পিডি হয়েও ঢাকায় ঘুরে বেড়ান, সরকারি জ্বালানি খরচ করে দুটি গাড়ি হাকান। গতবার কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রকল্প কাজে টেন্ডার সিডিউলের বাইরে ৩ শ’ কোটি টাকার ‘ফেল্টের’ কাজও করেছেন। ফেল্টের কাজ শেষে ৫ কর্মকর্তাকে কারিগারি ট্রেনিংয়ে অস্ট্রেলিয়া পাঠিয়ে সরকারি প্রায় ১ শ’ কোটি টাকা খরচ করেছেন-যা তদন্ত করলেই কেচো খুড়তে সাপ বের হয়ে আসবে। এবারও এই পিডি হাসিবকে বিদেশ ট্রেনিং-এর জন্য প্রধান প্রকৌশলী নাম প্রস্তাব করে তালিকাভুক্ত করলেও সিএএবির চেয়ারম্যান কর্তৃক গঠিত কমিটি তার নাম তালিকা থেকে ছেটে দিয়েছেন।কক্সবাজার বিমানবন্দরে পাতানো টেন্ডারে যেমন: টেন্ডারে ৫টি সিডিউল ক্রয় করা হলেও আগেই নেগোসিয়েশন করে তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সিডিউল ড্রপই করতে দেয়া হয়নি। দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিডিউল ড্রপ করলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনডিই সর্বনি¤œ দরদাতা হয়েছে। আর ২০ কোটি টাকার ব্যবধানে মীর আকতার সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছে। কাজটির মূল্যায়নও শেষ করা হয়েছে। মূল্যায়ন করে দর বৃদ্বি করারও পায়তারা করা হচ্ছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কাজটি অনুমোদনের জন্য সরকারি বাজেট কমিটিতে পাঠানো হয়েছে । প্রধানমন্ত্রীর নিষেধাঙা থাকলেও আবার বিএনপি নেতা মীর নাছিরের ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান সবোচ্চ দরদাতা হলেও- সেই মীর আকতারকে হোসেনকেই কার্যাদেশ দেয়ার পায়তার করছেন পিডি আমিনুল হাসিব। আর এর সুবাধে সিলেট বিমানবন্দরের ৫ শ’ কোটি টাকার কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনডিই’কে ছাড় দেয়ার পায়তারা করছে মীর আকতার হোসেন নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। কারন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোমেনকে আউট করতে পারলেই ষোলকলা পূর্ন হবে।
শাহজালাল বিমানবন্দর : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুটি বড় প্রকল্পে বড় রকমের অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। ৫ শ’ কোটি টাকার হ্যাংগার এবং ১৭৫ কোটি টাকার এ্যাপ্রোনের কাজটি ঘিরে দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামাল এন্ড কোম্পানি এবং এনডিই পাতানো টেন্ডারে মূল্যায়নের পর কার্যাদেশ পাবার জন্য নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে জোরালো তদবির শুরু করেছেন। এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্বে উচ্চ আদালতে মামলাও করেছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামাল এন্ড কোম্পানির পক্ষে একজন মন্ত্রীর সুপারিশ রয়েছে আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনডিই’র পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা সুপারিশ করেছেন বলেও সূত্র জানায়। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এই দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক নেগোসিয়েশন বৈঠক হয়েছে। এই ‘নেগো বৈঠকে’ কয়েক কোটি টাকার আন্ডার হ্যান্ড ক্যাশ ডিলিং হয়েছে। উক্ত নেগো বৈঠকে সিএএবির নেতৃস্থানীয় ঠিকাদার , ক্ষমতাসীন দলের মহানগর উত্তরের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন বলেও শোনা যায়। প্রকল্প পরিচালক ‘নেগোর’ বৈঠকের ব্যবস্থা করেন বলেও শোনা যায়। নেগোসিয়েশন করে জামাল এন্ড কোম্পানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এনডিই’কে ছাড় দিচ্ছে বলে সূত্র জানায়।
সূত্র জানায়, শাহজালাল , সিলেট ওসমানি এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরের এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপারে তদন্ত করছেন বিমান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইমরান হোসেন এবং আরেকটি তদন্ত কমিটির তদন্ত করছেন যুগ্ম সচিব মাসুম বিল্লাহ। দুদকের একজন উপপরিচালক বিষয়টি তদন্ত করছেন। তদন্ত কমিটির তদন্তকে ভুলুন্ঠিত করে সিএএবি কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনডিই’কে শাহজালাল বিমানবন্দরের দুটি বড় প্রকল্পেরই কার্যাদেশ দেয়ার পায়তারা করছে।
সিলেট ওসমানি বিমানবন্দর: সিলেট ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৫শ’ কোটি টাকার রানওয়ের ঠিকাদারি কাজেও প্রধানমন্ত্রীর নিষেধাঙা সত্বেও বিএনপি নেতা মীর নাছিরের ভাইয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আকতার হোসেনকে কার্যাদেশ দেয়ার পায়তারা করা হচ্ছে। টেন্ডারে অংশ নেয়া চায়না হারবাল মীর আকতারেরই পার্টি বলে সূত্র জানায়। অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোমেনকে টেকনিক্যালই বাদ দেয়ার পায়তারা করছে প্রকল্প পরিচালক। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোমেনকে আউট করতে পারলেই মীর আকতকার হোসেন কার্যাদেশ পাবে।
এ সব অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে একজন পিডি জানান, টেন্ডারে কোন অনিয়ম হয়নি।