সিভিল এভিয়েশন : কাজের স্থুলতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করাই কি নতুন প্রধান প্রকৌশলী ই/এম নিয়োগের প্রক্রিয়া ! ফাইল বিমান মন্ত্রণালয় হয়ে জনপ্রশাসনে মন্ত্রনালয়ে চালান হচ্ছে : নতুন সদর দপ্তরে সাবস্টেশন, ৩টি নতুন ব্রোর্ডিং ব্রীজ নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা

বিশেষ সংবাদদাতা : ঠিকাদারি কাজের স্থুলতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য সিভিল এভিয়েশনে একজন প্রধান প্রকৌশলী বহাল থাকা এবং সিভিল এভিয়েশন সৃষ্টির পর থেকে এ ধারা অব্যাহত থাকলেও বর্তমান চেয়ারম্যান আরেকজন প্রধান প্রকৌশলী ই/এম নিয়োগের জন্য বিমান মন্ত্রণালয়ে মতামত চেয়ে দাপ্তরিক পত্র পাঠানোর পর তা মন্ত্রণায় অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা যায়। এ প্রক্রিয়াটি এখন জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চালান দেয়া হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে তা কার্যকর হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন আছে কিনা- তা সিভিল এভিয়েশন সূেত্র নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিমান সচিব দেশের বাইরে অবস্থান করার সময় মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব-যিনি আবার মন্ত্রীর পিএসও- তার হস্তক্ষেপে প্রধান প্রকৌশলী ই/এম পদটি সৃজনের প্রক্রিয়া অনেকটাই অগ্রসর হয়েছে বলে জানা গেছে। আর এ জন্য ওই উপসচিবের লালমাটিয়ার বিলাসবহুল বাসায় নাকি মিস্টি বিতরণও হয়েছে।
সিএএবির বিদ্যমান জনবল কাঠামোতে একটি প্রধান প্রকৌশলীর পদ থাকায় একজনের পক্ষে সুষ্ঠুভাবে কারিগরি, ইলেকট্রিক, মেইনটেনেন্স কাজ সময়মতো সম্পূর্ন করা সম্ভব হচ্ছে না- এমন অজুহাতে সিএএবিতে আরেকটি প্রধান প্রকৌশলীর পদ সৃষ্টি করা হলে সরকারের অর্থ গচ্ছা যাবে বছরে প্রায় ২২ লাখ টাকার মতো, আর প্রশাসন হবে মাথাভারি। কেউ কেউ কাউকে মানতে চাবে না । প্রধান প্রকৌশলী সিভিল এবং প্রধান প্রকৌশলী ই/এম দ্বন্ধে ঠিকাদারি কাজের গতিশীলতা ও স্থবিরতা আরো দেখা দিতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।
কাজের স্থুলতা আর গুণগত মানের প্রশ্ন ওঠলেও আসলে সিএএবিতে প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগের ক্ষেত্রে তিন ততা¡বধায়ক প্রকৌশলীর মধ্যে সিনিয়র/জুনিয়র দ্বন্ধেই কাজের স্থুলতা ও গুণগতমান যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। কারন বর্তমান প্রকৌশলীকে অন্য দুইজন প্রকৌশলীর মেনে নিতে কষ্ট হজয়। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে যাবার প্রক্রিয়াও হয়েছিল কিন্ত শেষাবধি তা হয়নি। তাই হয়তো সিএএবির চেয়ারম্যানকে ভুল বুঝিয়ে আরেকটি প্রধান প্রকৌশলী ই/এম সৃজনের পায়তা করা হচ্ছে। তাছাড়া ই/এম কাজের সাথে সংশ্লিষ্টরা ইতিমধ্যেই নানা অনিয়মের ব্যাপারে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর নজরে এসেছেন এবং তিনি অনেক ফাইল আটকে দিয়েছেন। ‘সিমিলিয়ার’ শব্দচয়নে ওই ডিভিশানের প্রকৌশলীরা অনেক ঠিকাদারকে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছেন। অনেককে দুদকে তলবও করেছে। একজনকে দুদক গ্রেফতারও করেছে। তিনি বর্তমানে চাকরিচ্যুত্য। আরেকজনের নিয়োগ প্রক্রিয়াই নাকি ভুয়া। এ বিষয়টিও দুদকের একজন সহকারি পরিচালক ইতিপূর্বে তদন্ত করেছেন।
এদিকে সূত্রে জানা গেছে, সিএএবির নতুন সদর দপ্তরে বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন নির্মাণে ১ কোটি টাকার ইস্টিমেটকে ৪ কোটি টাকয় উন্নীত করার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ২৫ কোটি টাকা খরচ করে নতুন করে ৩টি ব্রোর্ডিং ব্রীজ করারও প্রক্রিয়া করা হচ্ছে।
চেয়ারম্যান দেশের বাইরে, প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আসছে না। কি পয়েন্টে বসে থাকা প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা এখনও বহাল। ১০০০ হাজার ইউএস ডলরা চুরির নায়ক ফরিদ নামের কর্মচারি স্বঘোষিত কর্মচারিদের নেতা হিসেবে নিজেকে জাহির করে বিভিন্ন তদবির বাণিজ্যে সদর দপ্তরে ঘুর ঘুর করছেন। ডিডি/ এডিরা তাকে আগলে রেখেছেন। গত মে মাসের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার প্রশ্ন ওঠলেও নাটেরগুরু হানিফের বিরুদ্ধে এখনও বিভাগীয় মামলা করা হয়নি।ক্রমশ