বিশেষ সংবাদদাতা : সিভিল এভিয়েশনে চলছে তুঘলকি কান্ড। এক প্রকৌশলীর জেষ্ঠতা দেয়া হয়েছে দুইবার যোগদানের তারিখ ধরে। আবার প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর ৬ প্রকৌশলীকে জন প্রশাসন মন্ত্রনালয়ের আদেশ লংঘন করে জেষ্ঠতা দেয়া হয়েছে। এর ফলে রাজস্ব খাতে এদের আগে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েও জেষ্ঠতার ক্ষেত্রে জুনিয়র হয়ে মনোকষ্টে চাকরি করছেন। এতে রাজস্ব খাতের প্রকৌশলী ও প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতের প্রকৌশলীদের মধ্যে জেষ্ঠতাজনিত দ্বন্ধ বিরাজ করছে।
সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে শাহজালালের ব্রোর্ডিং ব্রীজ প্রকল্পে সহকারি প্রকৌশলী (ইএম) পদে জাকারিয়া হোসেন, সুভাশিষ বড়–য়া, উপসহকারি প্রকৌশলী(ইএম) পদে আছালত হোসেন, সফিকুল ইসলাম, শাহিনুর আলম, আয়েশা হককে নিয়োগ দেয় সিএিএবি কর্তৃপক্ষ। ১৪ বছর প্রকল্পে চাকরি করার পর ২০১১ সালে এদেরকে আবার রাজস্ব খাতে নবনিয়োগ দেয়া হয়। কিন্ত জেষ্ঠতা দেয়া হয় ১৯৯৬ সাল থেকেই।এই ৬ প্রকৌশলীর মধ্যে ২ জনকে নির্বাহী প্রকৌশলী এবং ৪ জনকে সহকারি প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এরফলে গত ১৪ বছরে সরাসরি রাজস্ব খাতে নিয়োপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা জেষ্ঠতার ক্ষেত্রে এদের জুনিয়র হয়ে যায়। এ নিয়ে রাজস্ব খাত এবং প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রকৌশলীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে ওই ৬ প্রকৌশলীসহ ১৯ জনকে ব্রোডিং ব্রীজ প্রকল্পে নিয়োগ দেয়ার সময় ওই পদ সিএএবির অর্গানোগ্রামে ছিল না। তৎকালিস পরিচালক (প্রশাসন) আতিকুর রহমানের আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের সচিবের অনুমোদনের ভিত্তিতে ওই পদে এদেরকে নিয়ো দেয়া হয়। বছরভিত্তিক চাকরি নবায়ন,পরবর্তী বছরের জন্য নবায়ন, এরা রাজস্বখাত অন্তর্ভুক্ত নয়, পদ সৃষ্টি করে ওদের রাজস্বখাতে নেয়া হবে এবং উন্নয়নমুলক খাত থেকে ব্যয়ভার বহন করতে হবে- এমন শর্ত জুড়ে দিয়ে ওদের নিয়োগ দেয়া হয়।
সূত্রে জানা যায়, এ ক্ষেত্রে সংস্থাপন বর্তমানে জনপ্রশাসন, বিমান ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশ লংঘিত করে ১৯৯৬ সাল থেকে এই ৬ প্রকৌশলীকে জেষ্ঠতা প্রদান করা হয়েছে। এতে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের ১১-১০-২০১০ সালের পরিপত্রনং-০৫.১৭০.০০২.১৪.০০.১১১.২০১০-৩৭৩ প্রতিপালন করার নির্দেশ দেয়া হলেও তা মানা হয়নি। এই ধারা লংঘন করে ওই ৬ প্রকৌশলীকে জেষ্ঠতা প্রদান করা হয়েছে।
২০০৫ সালের তৎকালিন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়েছে-‘এলপিআর,মৃৃত্যুবরন ব্যতীত কোন কর্মরত কর্মকর্ত বা কর্মচারিকে ভুতাপেক্ষ তারিখ হইতে নিয়মিতকরণের কোন বিধান নাই। কিন্ত ওই ৬ প্রকৌশলীকে ভুতাপেক্ষ তারিখ অর্থাৎ ১৯৯৬ সাল থেকেই জেষ্ঠতা দেয়া হয়েছে। যদিও জেষ্ঠতার তালিকার মন্তব্যের কলামে মন্তব্য করা হয়েছে-বছরভিত্তিক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত।
১৯৯৯ সালে আসাদুজ্জামান নামে উপসহকারি প্রকৌশলীকে(ইএম) পদে একটি প্রকল্পে চাকরি দেয় সিএএবি কর্তৃপক্ষ। কিন্ত তাকে রাজস্ব খাতে নিয়মিত না করায় আদালতের আদেশে ২০১৮ সালে রাজস্ব খাতে চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়েছে এবং ২০১৮ সাল থেকেই জেষ্ঠতা দেয়া হয়েছে। তাকে তো ১৯৯৯ সাল থেকে জেষ্ঠতা দেয়া হয়নি। প্রশ্ন ওঠেছে ওই ৬ প্রকৌশলীকে কেন চাকরিতে নবনিয়োগ দেয়া হলো ২০১১ সালে আর জেষ্ঠতা দেয়া হলো ১৯৯৬ সাল থেকে?
এ ব্যাপারে সরাসরি রাজস্ব খাতে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা সিএএবির সৎ অভিভাবক চেয়ারম্যান মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
