স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বেনাপোল কাস্টমস হাউজ, সোনা মসজিদ শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভয়াবহ শুল্ক ফাকি দিয়ে ‘হিউম্যান ‘গুটি চুল’ প্রতিসপ্তাহে ১৪-১৫ টন খালাস হয়ে যাচ্ছে। সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। এর সাথে জড়িত রয়েছে দুই শুল্ক স্টেশনের কতিপয় অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা, আওয়ামী দোসর দুই আমদানিকারক, দুই সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং এলসি প্রক্রিয়ার সাথে বেনাপোল কৃষি ব্যাংক এবং সীমান্ত ব্যাংক, ঢাকা উত্তরা শাখার কতিপয় ব্যাংক কর্মকর্তা। এ পণ্যের (গুটি চুল) এইচএস কোড নম্বর-০৫০১০০০০। সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর জানা গেছে।
সূত্র জানায়, হিউম্যান গুটি চুলের আমদানির ক্ষেত্রে ভারতীয় রেট হচ্ছে ১০ টনের ক্ষেত্রে ৫৪৭৩৩৬ মার্কিন ডলার, প্রতি কেজি ৫৫ হাজার এবং দাম বৃদ্ধি হয়ে বর্তমানে ৬৫ হাজার মার্কিন ডলার। কিন্ত কৃষি ব্যাংক, বেনাপোল শাখা এবং সীমান্ত ব্যাংক, ঢাকা উত্তরা শাখা থেকে পার কেজি ৪০ ডলারে -এ এলসি খুলে হিউম্যান গুটি চুল আমদানি করে বেনাপোল কাস্টমস হাউজ ও সোনা মসজিদ শুল্ক স্টেশন দিয়ে খালাসকরণ করা হচ্ছে।
সূত্র জানায় , বেনাপোল কাস্টমস হাউজ দিয়ে পণ্য খালাস করছে আমদানিকারক মেসার্স আয়ান এন্টারপ্রাইজ, আজিজ সর্দার বিল্ডিং, বেনাপোল, যশোর, যার ভ্যাট নং-০০৫৮৭৯১৫৩-০৯০১, ব্যাংক কর্মকর্তা এটনি রায় চৌধুরি , সিনিয়র অফিসার, ফরেন এক্সচেন্ঞ ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক , শারসাহ শাখা,যশোর ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন, যার মোবাইল নম্বর-০১৭১২০৬৫৭৪৩। গত ১৬-১০-২৪ তারিখে এ এলসি খোলা হয়েছে। এলসিতে রেট দেয়া হয়েছে প্রতিকেজি ৪০ ডলার।
সূত্র জানায়, ৬৫ ইউএস ডলারে প্রতি কেজি হিউম্যান গুটি চুলের ১৫% ট্যাক্সসহ ভ্যালু আসে ১১৯৯ টাকা। সেখানে মাত্র ৯৭ টাকা কেজিতে হিউম্যান গুলি চুল খালাস করছে সংশ্লিষ্ট ওই আমদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স রিমু এন্টারপ্রাইজ, ছোট আচরা মোড়, বেনাপোল। এর সাথে জড়িত রয়েছে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের ১ নং শুল্কায়ন গ্রুপের সংশ্লিষ্ট রাজস্ব ও সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সহকারি কমিশনার/. উপকমিশনার। এদের মধ্যে দেশের ৫৫৫ জন কাস্টমস কর্মকর্তার বদলির তালিকায় সংশ্লিষ্টরাও বোনাপোল কাস্টমস হাউজ থেকে বদলি হয়ে গেছেন বলে সূত্র জানায়।
গত ২ বছর যাবত এ প্রক্রিয়ায় ভয়াবহ ট্যাক্স ফাকি দিয়ে প্রতি সপ্তাহে ১৪-১৫ টন হিউম্যান গুলি চুল খালাস দিচ্ছে বোনাপোল কাস্টমস হাউজ। হিউম্যান গুটি চুল খালাস প্রক্রিয়ার ফাইলে সীলমোহরসহ সাক্ষর করেছেন ১ নং শুল্কায়নে কর্মরত সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা আমির মুহাম্মদ আরেফিন এবং রাজস্ব কর্মকর্তা শিবলী নোমানি খান, বেনাপোল কাস্টমস হাউজ। ১ টনের শুল্ক ৬৫ হাজার টাকা , প্রতি কেজি ১১৯৯ টাকা হলেও মাত্র ৯৭ টাকা কেজিতে টনকে টন হিউম্যান গুলি চুল খালাস দিচ্ছে বেনাপোল কাস্টমস হাউজ।
শামীমা নামের একজন রাজস্ব কর্মকর্তা ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পরও বেনাপোল কাস্টমস হাউজে ঘুষ দুর্নীতি এতোটুকুও কমছে না। বর্তমানে রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমাকে সাসপেন্ড করেছে এনবিআর।
সূত্র জানায়, সোনা মসজিদ শুল্ক স্টেশন দিয়েও একই প্রক্রিয়ায় হিউম্যান গুটি চুল ভারত থেকে আমদানি করছে হংকং ইন্ডাট্রিয়াল অটোমেশন, হাউজ নং-১,রোড-৫,সেক্টর-১, উত্তরা ঢাকা, যার ভ্যাট নং-০০৪১৮৮৭০৩-০১০২, সিএন্ডএফ এজেন্ট মানিক এন্ড ব্রাদার্স, সোনা মসজিদ, শিবগন্জ, চাপাইনবাবগন্জ। এ আমদানিকারক এলসি খুলেছেন সীমান্ত ব্যাংক , ঢাকা উত্তরা শাখায়। এলসিতে পার কেজির রেট দিয়েছেন ৭ ডলার।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখাগুলোতে এলসি খুলে প্রকৃত পণ্য রেট ফাকি দিয়ে মানি লন্ডারিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। তদন্তে এর রহস্য বের হয়ে আসতে পারে।
সূত্র জানায়, সোনা মসজিদ শুল্ক স্টেশন ও বেনাপোল কাস্টমস হাউজ দিয়ে টনকে টন হিউম্যান গুটি চুল আমদানি ও তা খালাস করে ঢাকার ফায়দাবাদ চৌরাস্তার মোড়ে কয়েকটি গোডাউনে রাখা হচ্ছে। ওখান থেকে দেশের বিভিন্ন বাজারে তা বাজারজাত করা হচ্ছে।
ইতিপূর্বে ঢাকা কাস্টমস হাউজ এর ১নং ডেলিভারি গেট দিয়ে এ হিউম্যান চুল খালাস করা হতো। কিন্ত আমদানিকারকরা এখন ঢাকায় এ চুল না এনে ভারত থেকে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর সংশ্লিষ্ট দুটি শুল্ক স্টেশনের নামে আমদানি করে তা খালাস করছে। সিএন্ডএফ এজেন্ট ঢাকা কাস্টমস হাউজ দিয়ে এ চুল খালাস করতো বলে জানা যায়। কিন্ত বর্তমানে মামলায় জড়িয়ে এবং প্রায় কোটি টাকার প্রতারনার শিকার হয়ে ব্যবসা অনেকটা গুটিয়ে ফেলেছেন।
এ ব্যাপারে মাগুরা জজ কোর্টে মামলা বিচারাধীন।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
