ঢাকা কাস্টমস হাউজ এয়ারফ্রেইট আমদানি শাখা : চুক্তিতে পণ্য খালাস! সিন্ডিকেড, সিরিয়ালের বালাই নেই, মূলহোতা এআরও শামীম: ভাতিজা রুবেলের কর্মাশিয়াল ব্যবসা জমজমাট, গোয়েন্দা অভিযানে কোটি টাকার পন্য জব্দ

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা কাস্টমস হাউজের আমদানির শাখার এয়ার ফ্রেইট ইউনিটে কর্মাশিয়াল পণ্য ডেলিভারিতে বড় বড় সিন্ডিকেড ব্যবসা চলছে, চুক্তিতে পণ্য ডেলিভারি হচ্ছে, এখানে সিরিয়ালের কোন বালাই নেই , এআরও শামীম মূল হোতা, তার সাথে দুইনম্বরি পদ্ধতিতে গোপন সমঝোতায় দেদারচ্ছে পণ্য ডেলিভারি চলছে। ফলে সৎ ব্যবসায়ীরা মার খাচ্ছে। এ প্রথা দীর্ঘদিনের, কিন্ত দেখার কেউ নেই। আংগুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন এআরও শামীম। সৎ ব্যবসায়ীরা এর প্রতিবাদ করলেও তাদের প্রতিবাদ আমলে নেয়া হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা এ সব অভিযোগ করছেন। তারা জানান, ‘চুক্তিতে মাল খালাস, সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা ( ডেলিভারি অফিসার হিসেবে কর্মরত ৮/এ ফ্রেইট কর্মাশিয়াল অফিসার। বড় বড় সিন্ডিকেডদের সাথে যোগাযোগ করে সিরিয়াল ছাড়াই চলছে।’
এভাবেই প্রতিদিন চলছে গেটের কারসাজি,মালের কোন ঝামেলা থাকলেও কোন সমস্যা নেই, দামধর করে চলে যায় মালামাল , ফাকি দেয় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। যার মূল হোতা শামীম, ডেলিভারির নির্ধারিত সময় শেষ হলেও চুক্তিতে পছন্দ অনুযায়ী লোকের মাল ডেলিভারি দেওয়া হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে কথা বলতে এআরও শামীমের সেল ফোনে গত বৃহস্পতিবার কল করলেও তিনি সারা দেননি।
ভাতিজা রুবেলের ব্যবসা জমজমাট: ভাতিজা খ্যাত রুবেলের কর্মাশিয়াল ব্যবসা জমজমাট। মোটা অংকের সরকারি রাজস্ব ফাকি দিয়ে এ ব্যবসা চলছে দীর্ঘদিন ধরে, কাস্টমস ম্যানেজে এসব ব্যবসা চলছে বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে। গোয়েন্দা সংস্থা এ সব খতিয়ে দেখছে।
সম্প্রতি রুবেল বাহিনীর সদস্যদের কর্তৃক ফ্রেইটের ডেুলিভারি গেট দিয়ে পাচারের প্রাক্কালে কয়েক কোটি টাকার পণ্য গোয়েন্দা অভিযানে জব্দ করা হলেও ট্যাক্স ফাকির এবং মিস ডিক্লারেশনের এ ব্যবসা জমজমাট। তার সাথে চাচাও কম যান না।
ডিসিদের নামে বখরা আদায়: ঢাকা কাস্টমস হাউজে বিভিন্ন দায়িত্বে কর্মরত উপকমিশনার (ডিসি)দের নামে ফাইল আউট-গোয়িং করানোর সময় পণ্য ট্যাক্স কমানোর কথা বলে কতিপয় কাস্টমস সিপাই এবং বহিরাগতরা মিলেমিশে ডিসিদের নাম ভাংগিয়ে ব্যবসায়ীদের থেকে বখরা আদায় করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
পোস্টিং দিলেও ক্ষেত্র নেই! আদালতের আদেশে ঢাকা কাস্টমস হাউজে কতিপয় কর্মচারিদের পোস্টিং দেয়া হলেও এদের ক্ষেত্র্র নেই। এদের বেতন-ভাতাও নেই বলে জানা যায়। ফলে এরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এ ব্যাপারে কথা বলতে ঢাকা কাস্টমস হাউজের কমিশনার মসিউর রহমানের সেল ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।