স্টাফ রিপোর্টার : শাহজালাল বিমানবন্দরে মেজর আকতার কান্ডে সারাদেশ তোলপাড়। জামাতের মিছিল-মিটিং-সমাবেশ অব্যাহত, আরো কর্মসূচি দেবার ঘোষণা। এতে করে সরকারের ইমেজ ক্ষুন্ন হচ্ছে। অথচ যাকে কেন্দ্র করে এই অনাকাংক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি সেই নির্বাহী পরিচালককে এখনও বিমানবন্দরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়নি। উল্টো মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ট্রলি-ল্যাগেজ অনিয়মের প্রতিবাদকারিকে।
বেবিচকের কর্মচারিরা নির্বাহী পরিচালককে আওয়ামী দোসর বলে চাউড় করলেও তিনি এখনও শাহজালালেই বহাল। চাকরি জীবনের এক সময় তিনি ভারতীয় দূতাবাসে নাকি কর্মরত ছিলেন। জুলাই অভ্যুথানে অনেক আওয়ামী মন্ত্রী-এমপি শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশ পাড়ি জমাতে নাকি ওনার নেকনজর রয়েছে।
সরকার সরকারি বিভিন্ন কমিটি থেকে আওয়ামী দোসরদের বাদ দেবার প্রঙাপন জারি করা হলেও শাহজালাল বিমানবন্দরে নাকি আওয়ামী দোসরদের নিয়ে ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে সেক্রেটারির নাম সবার মুখে মুখে। তবে কোষাধ্যক্ষ নাকি জামায়াত করা লোক, তবে জামায়াতে কমিটিতে নাকি তার নাম নেই।
১২ হাজার ট্রলি গেল কোথায়? গত আওয়ামী সরকারের আমলে ট্রলি দুর্নীতি করে ১২ হাজার ট্রলি কেনা হলেও ট্রলির সংকট কেন? অনেকের প্রশ্ন তাহলে এতো ট্রলি গেল কোথায়? এই দুর্নীতির সাথে সেমসুর কয়েক কর্মকর্তার নাম তদন্তে বেরিয়ে আসে। এ নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল। পরে তা ধামাচাপা পড়ে যায়।
বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই ট্রলি কেনার ঘোষণা দিয়েছে। বিমানমন্ত্রী ট্রলি কেনার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বেবিচককে নির্দেশনা দিয়েছেন।
টার্গেট এখন ৩ বিমানবন্দর : অস্থিতিশীলতা অশান্তি, বিশৃংখলা নাশকতা সৃষ্টির পায়তা: বিরোধী দলের সাথে অতি উৎসাহি আওয়ামী দোসর কর্মকর্তাদের ঈন্ধন গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে : হার্ডলাইনে সরকার
দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘিরে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে। সেই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবার বিভিন্ন দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আর এর পেছনে বিরোধী দল তাদের রাজনৈতিক সমর্থক কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিদেশি এজেন্ট, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং কয়েকটি অনলাইন প্লাটফর্ম ও প্রবাসীভিত্তিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এরমধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরে আওয়ামী দোসর কতিপয় কর্মকর্তা সক্রিয় রয়েছে বলৈ গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে। এক কর্মকর্তা আবার নাকি জামায়াত প্রয়াত নেতা গোলাম আযমের ছেলের বন্ধু, আর শাহজালালের নির্বাহী পরিচালক নাকি এক সময় ভারতীয় দুতাবাসে কর্মরত ছিলেন। সরকারের আপত্তি থাকলেও তার নেতৃত্বে আওয়ামী দোসরদের নিয়ে শাহজালাল ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠন করা হয়েছে।সিলেট ওসমানি বিমানবন্দরের প্রমোটেট পরিচালকও নাকি আওয়ামী দোসর বলে অনেকে জানান।গত ১৭ বছর যাবত তিনি সিলৈটে বিমানবন্দরের পরিচালক বটে।
শাহজালালে যাত্রী হিসেবে মেজর অব আখতার লাইমলাইটে এসেছেন, অনিয়ম, ট্রলি অব্যবস্থাপনা, জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে পরিচালকের সাথে যে অনাকাংক্ষিত ঘটনা ঘটেছে তা দেশ জুড়ে, বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সরকারের ইমেজ ক্ষুন্ন হচ্ছে,সরকারকে ভাবিয়ে তুলছে।
সূত্রগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তির পুরনো ও নতুন বিভিন্ন ঘটনা একত্র করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভিডিও ভাইরাল করা হচ্ছে। বিদেশফেরত প্রবাসী ও অন্য যাত্রীদের অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি, পুরনো ভিডিও পুনরায় প্রচার এবং যাত্রীদের ক্ষুব্ধ করে তোলার মাধ্যমে চেষ্টা চলছে একটি নেতিবাচক পরিবেশ তৈরির। দেশের সাধারণ মানুষ ও বিদেশিদের কাছে দেশ এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে চালানো হচ্ছে ব্যাপক অপপ্রচার। বিশেষ করে গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিমানবন্দরে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের অস্বাভাবিক আচরণ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে জানা গেছে। একটি সূত্র দাবি করেছে যে, ওমরাফেরত মেজর আখতারকে এক্ষেত্রে টেস্ট কেস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তির অভিযোগ যে পুরোপুরি ভিত্তিহীন- এমনটিও বলছেন না সংশ্লিষ্টরা। বরং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যেই স্বীকার করা হয়েছে, যাত্রীর চাপের তুলনায় বিদ্যমান অবকাঠামোর সক্ষমতা কম। ফলে ইমিগ্রেশন, লাগেজ ডেলিভারি, ট্রলি ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব সমস্যা রয়েছে। এ সুযোগেই কেউ কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালাতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত গণমাধ্যমে বলেন, একটি মহল দেশে অশান্তি ও নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। তবে যেকোনো ষড়যন্ত্র সরকার কঠোরভাবে দমন করবে।
ভোগান্তির পুরনো সমস্যা, প্রচারণা নতুন : একটি গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার বিভিন্ন সমস্যা নতুন নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এসব সমস্যা ছিল। তবে বর্তমান সরকারের সময়ে একই ধরনের ঘটনাকে সামাজিক মাধ্যমে তুলনামূলক বেশি ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইমিগ্রেশনে হয়রানি, প্রবাসীদের লাগেজ কাটা, মালামাল হারানো, কনভেয়ার বেল্টে লাগেজ পেতে দেরি, ট্রলি সংকট ও কাস্টমসে হয়রানির অভিযোগÑ এসব বিষয় সামনে রেখে একটি নির্দিষ্ট বয়ান তৈরির চেষ্টা চলছে। পুরনো ভিডিওর সঙ্গে নতুন ঘটনার ভিডিও যুক্ত করে পরিস্থিতিকে আরও খারাপ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, বিমানবন্দরে কর্মরত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা ইউনিট বিষয়টি সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ে জানিয়েছে। তার দাবি, শাহজালালের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর নিয়েও একই ধরনের প্রচারণা চালানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংকটও আছে: তবে গোয়েন্দা সংস্থার এসব দাবির পাশাপাশি বিমানবন্দরের বাস্তব সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে। শাহজালালে বছরে ৮০ লাখ যাত্রী সামলানোর সক্ষমতা থাকলেও গত বছর এই বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছেন ১ কোটি ২৭ লাখ যাত্রী। চলতি বছর যাত্রীসংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
শাহজালালে বর্তমানে প্রায় ৩৪টি যাত্রীবাহী এয়ারলাইন্সের ১৫৯ থেকে ২০০টি ফ্লাইট ওঠানামা করে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। অথচ লাগেজ সরবরাহের জন্য রয়েছে মাত্র আটটি কনভেয়ার বেল্ট।
যাত্রী ভোগান্তির পেছনে বাস্তব অবকাঠামোগত চাপ রয়েছে। একসঙ্গে একাধিক ফ্লাইট অবতরণ করলে লাগেজ ডেলিভারি, গ্রাউন্ড সার্ভিস ও ট্রলি ব্যবস্থাপনায় তৈরি হচ্ছে চাপ।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাউসার মাহমুদ জানান, শাহজালাল বিমানবন্দরে বর্তমানে ৩ হাজার ৯২০টি ট্রলি রয়েছে। এর মধ্যে ২০০ থেকে ৩০০টি বিভিন্ন সময়ে রক্ষণাবেক্ষণে থাকায় ব্যবহারযোগ্য থাকে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০টি। যাত্রী ভোগান্তি কমাতে আরও ৫০০টি ট্রলি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন ৩০০ ট্রলি সরবরাহ করা হয়েছে।
মেজর আখতারুজ্জামানের ঘটনা ঘিরে নতুন বিতর্ক: সাম্প্রতিক সময়ে শাহজালাল বিমানবন্দরে মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং পর্যাপ্ত ট্রলি না থাকার ঘটনা নিয়ে তৈরি হয় ক্ষোভ। একই ঘটনায় ওমরাহ শেষে ফেরত আসা যাত্রীদের জমজমের পানির কন্টেইনার নিয়েও দেখা দেয় জটিলতা।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগিব সামাদ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সাধারণত ওমরা করে মক্কা-মদিনা থেকে কোনো যাত্রী অবতরণ করলে তার আচরণ হয় অনেক নমনীয় ও সহনশীল। কিন্তু ওইদিন তার আচরণ ছিল অস্বাভাবিক।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিমানবন্দর নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার আরও তীব্র হয়েছে। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষ ঘটনাটিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
কাজে লাগানো হচ্ছে প্রবাসী গ্রুপ ও ইনফ্লুয়েন্সারদের : বিমানবন্দর-কেন্দ্রিক অপপ্রচারে সামাজিক মাধ্যমের কিছু প্রবাসীভিত্তিক গ্রুপও যুক্ত হচ্ছে। এসব প্লাটফর্মে যাত্রীদের অভিযোগ, ভিডিও ও পুরনো বিভিন্ন ঘটনা প্রচার করা হচ্ছে।
তবে কোনো নির্দিষ্ট ফেসবুক গ্রুপ বা ব্যক্তিকে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব গ্রুপের কার্যক্রমকে গোয়েন্দা সূত্রের অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের বড় পরিবর্তন হয়নি: বেবিচকের ওই সূত্রের দাবি, ৫ আগস্টের পর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের শীর্ষ দুই থেকে তিনটি পদ ছাড়া বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি বলে দাবি করেন তিনি।
তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ যদি কোনো রাজনৈতিক বা স্বার্থান্বেষী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, তাহলে তাদের ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতি: বিমানবন্দর ঘিরে অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগের বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই বিমানবন্দরের সংকট তৈরি হয়েছে, বিষয়টি এমন নয়। আগের সরকারের কাছ থেকে পাওয়া ভঙ্গুর পরিস্থিতি সময় নিয়ে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। উদ্ভুত সমস্যাগুলো অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান হবে বলে আশা করছেন তারা।
বিমানবন্দর-কেন্দ্রিক অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্রের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে এমন তথ্য এসেছে যে, একটি বিশেষ মহল বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে অব্যবস্থাপনা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে দেশ ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যারাই ষড়যন্ত্র করবে, তাদের ব্যাপারে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।
ফলে শাহজালাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন দুটিÑ একদিকে যাত্রীসেবার বাস্তব দুর্বলতা কত দ্রুত দূর করা যায়, অন্যদিকে এসব দুর্বলতাকে কেন্দ্র করে কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে কি না। প্রথমটির সমাধানে অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন যেমন জরুরি, তেমনি দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত ও ব্যবস্থা। অভিযোগ আর বাস্তব সমস্যার সীমারেখা স্পষ্ট করাই এখন বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আখতারুজ্জামানকে মুক্তি দিন : গোলাম পরওয়ার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার জন্য দুজনকে বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষই স্বীকার করেছে সেখানে অব্যবস্থাপনা ছিল। সেই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলে আখতারুজ্জামান যথার্থ কাজই করেছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। এই মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। একইসঙ্গে রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে তাকে মুক্তি দিতে হবে।
শনিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে সাজানো মামলায় গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় ।
গোলাম পরওয়ার বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১ অক্টোবরের ঘটনায় সারা দেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলা এবং রিমান্ডে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিমানবন্দরে প্রায় ৩৪ জন সংসদ সদস্যসহ অনেক নেতাদের অবতরণের পর লাগেজ, জমজমের পানি ও ট্রলি না পেয়ে তিন-চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন। ভিআইপি যাত্রী হিসেবে সেখানে উত্তেজিত হয়ে কর্তৃপক্ষকে শক্ত কথা বলা নাগরিক অধিকার। আখতারুজ্জামান সেই অধিকারই প্রয়োগ করেছেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মামলার এজাহারে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়া, আঘাত ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু ওই সময় আমাদের এমপি কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেছেন, আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত তোলেননি বা কাউকে নাজেহাল করেননি। তিনি যা বলেছেন, তা ভিডিওতেও দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার জন্য দুজনকে বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষই স্বীকার করেছে যে, সেখানে অব্যবস্থাপনা ছিল। সেই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলায় আখতারুজ্জামান তো যথার্থ কাজই করেছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। এই মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে তাকে মুক্তি দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আখতারুজ্জামান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি সাহসী মানুষের মতো নিজের বাসা থেকে স্বেচ্ছায় পুলিশের সঙ্গে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তারের কারণ শুধু বিমানবন্দরের ঘটনা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আখতারুজ্জামানকে হেলমেট পরানো হয়েছে। কারাবিধি অনুযায়ী দুর্ধর্ষ অপরাধী, খুনি, ডাকাত কিংবা পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন আসামিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আখতারুজ্জামান কি দুর্ধর্ষ ডাকাত বা খুনি? তিনি তো স্বেচ্ছায় পুলিশের সঙ্গে গেছেন। তাহলে কেন তাকে হেলমেট পরানো হলো? দুই-তিন দিনের ঘটনায় যারা অপরাধী, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। অথচ একজন নিরপরাধ মানুষকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
