স্টাফ রিপোর্টার : শাহজালাল বিমানবন্দরে এভসেকের উপ-পরিচালক (ডিডি) নাছিমা শাহীন স্বপ্নার পক্ষে গত ০৩ নভেম্বর/২০২৬ খ্রি: ভিন্নমত পোষণ করে ‘একুশে বার্তা’ সম্পাদকের হোয়াইটসআপে একবার্তা পাঠানো হয়েছে। জনৈক কামাল হোসেনের হোয়াইটসআপ থেকে দুই দুইবার স্বাক্ষরবিহীন ভিন্নমত পাঠানো হয়েছে। প্রথমে বিষয় দেয়া হয়নি, দ্বিতীয়বার বিষয় দেয়া হলেও স্বাক্ষর দেয়া হয়নি। ভিন্নমতে বলা হয়েছে, ২৬ অক্টোবর থেকে ০১ নভেম্বর পর্যন্ত আইকাও অডিট চলছে, ০৬ নভেম্বর পর্যন্ত শাহজালালে আইকাও অডিট চলবে। সে অডিটের সিডিউলারে ডিডি নাছিমা শাহীন স্বপ্নার নাম তালিকাভুক্ত।
২৯ অক্টোবর তিনি শেষ কর্মদিবসে পিআরএল-এ চলে গেছেন। পরের দিন অফিসে এসে অফিস কক্ষ বুঝিয়ে দেন।
গত ৪০ বছরের কর্মজীবনের সততার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছেন। তিনি গোপনে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করছেন না। ৪০ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তখন ছিল একটি মাত্র, তাই কর্তৃপক্ষ চেয়েছেন তাকে এখানে রাখতে, তাই তিনি ৪০ বছর এখানে চাকরি করেছেন, ঢাকার বাইরে চাকরি করেননি।
গত ৪০ বছরে তার বিরুদ্ধে কোন গোয়েন্দা রিপোর্ট নেই বলে জানানো হয়েছে। তিনি আওয়ামী দোসর নন বলেও জানানো হয়েছে। শেষে বলা হয়েছে একটি কুচুক্রিমহল তার সুনাম ক্ষন্নের জন্য ষড়যন্ত্র করছে।
উল্লেখ্য, গত ০২ নভেম্বর এ নিয়ে একুশে বার্তার অনলাইনে ‘বেবিচক : পিআরএল-এ যাবার পর অফিস: চাকরির পরিপন্থী : গোপন সমঝোতায় চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির পায়তারা : স্বপ্না এখনও অফিস করছেন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদকের বক্তব্য:
আপনার পাঠানো বক্তব্য ও PDF আমি মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। আমার প্রতিবেদনের বিষয়ে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই। প্রথমেই বলতে চাই, আমার কোনো প্রতিবেদনই ব্যক্তিগত আক্রোশ, বিদ্বেষ বা কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে লেখা হয়নি। প্রাপ্ত তথ্য, সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনগুলো প্রকাশ করেছি।
আমার প্রতিবেদনে উত্থাপিত মূল চারটি বিষয় হলো:
১. PRL-এ যাওয়ার পরও অফিসে উপস্থিতি: আপনার বক্তব্যে বলা হয়েছে, ICAO USAP-CMA অডিটের প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে আপনাকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। বিষয়টি আমি নোট করেছি। তবে PRL-এ যাওয়ার পর আপনার অফিসে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের প্রশাসনিক ভিত্তি কী ছিল, সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
২. চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন: PRL-এ যাওয়ার পর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য চেয়ারম্যান বরাবর আপনার আবেদন এবং সেই আবেদন নির্বাহী পরিচালকের মাধ্যমে অগ্রসর হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আবেদনটির প্রশাসনিক ও বিধিগত ভিত্তি কী, সেটিই আমার প্রশ্ন।
৩. সরকারি গাড়ি ও চালক ব্যবহার: PRL-এ যাওয়ার পরও সরকারি গাড়ি ও চালক ব্যবহারের যে বিষয়টি প্রতিবেদনে এসেছে, সেটি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি প্রশ্ন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক অনুমোদন বা নির্দেশনা থাকলে তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
৪. সিলেট বিমানবন্দরে বদলি/স্টেশন রিলিজের বিষয়: আপনার কর্মজীবনে সিলেট বিমানবন্দরে বদলি বা স্টেশন রিলিজের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী সময়ে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের যে তথ্য প্রতিবেদনে এসেছে, সে বিষয়ে আপনার বক্তব্য জানতে চাই। সিদ্ধান্তটি কেন পরিবর্তিত হয়েছিল, তার প্রশাসনিক কারণ কী ছিল—এটি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এসব প্রশ্নের উত্তর তথ্য ও নথির ভিত্তিতে পাওয়া। আপনার PDF-এ কয়েকটি অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। আপনার বক্তব্যকে আমি গুরুত্ব দিচ্ছি। একইভাবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোরও সুনির্দিষ্ট উত্তর প্রত্যাশা করছি।
আমি কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ তৈরি করতে চাই না। আমার উদ্দেশ্য কাউকে অসম্মান করা নয়; বরং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা। কোনো তথ্য ভুল হলে সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে তা সংশোধন করতে আমি প্রস্তুত। তবে প্রশ্নের জবাব হওয়া উচিত তথ্য দিয়ে, ব্যক্তিগত অভিযোগ বা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নয়।
