বিশেষ সংবাদদাতা : হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের পাশে ঢাকা কাস্টমস হাউজের পশ্চিমে পয়নিষ্কাশন ড্রেন নির্মাণ কাজ করার সময় ১ জন শ্রমিক নিহতের ঘটনায় সিভিল এভিয়েশনের সিভিল ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুজ্জামানের চরম গাফিলতি ও উদাসীনতার চিত্র ফুটে ওঠছে। ৪ কোটি টাকার পয় নিষ্কাশন কাজটি দুই দাফে দুই বিশ^স্ত ঠিকাদারকে কাজের মূল্যায়ন ছাড়াই কার্যাদেশ দেয়া হয়। এরমধ্যে ঠিকাদার অ¯্রু-মমিন তাদের অংশের কাজটুকু করেছে বলে জানা গেছে। বাকি ২ কোটি টাকার কাজ টেন্ডারের পর মূল্যায়ন ছাড়াই মালেক কন্সট্রাকশনকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। মালেক কন্সট্রাকশনকে কার্যাদেশ দেয়ার পর মালেক কন্সট্রাকশন কাজ করছিল কোন রকম নিরাপত্তা ছাড়াই। ঝুকিপূর্ন এই নির্মাণ কাজের সময় সিভিল ডিভিশন-২ –এর কোন প্রকৌশলী সাইটে উপস্থিত ছিলেন না।
সিএএবির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উক্ত নির্মাণকাজসহ সিভিল ডিভিশন-২-এর যেকোন নির্মাণ তথা ঠিকাদারি কাজের জন্য সাইট পরিদর্শনের জন্য তিনজন ডিগ্রীধারি সহকারি প্রকৌশলীকে সাইটে যেতে বারন করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুজ্জামান। উপসহকারি প্রকৌশলী জহিরকে সাইটের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অলিখিতভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুজ্জমান ঘোষণা করেছেন যে, একমাত্র জহির ছাড়া অন্য কোন প্রকৌশলী সাইটে যেতে পারবেন না। ঘটনার দিন একজন নির্মাণ শ্রমিক নিহত হলেও নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুজ্জামান বা সাইট ইন্ঞিনিয়ার জহিরকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
সূত্র জানায়, উপসহকারি প্রকৌশলী জহির নির্বাহী প্রকৌশলীর ডানহাত হিসেবে কাজ করছেন। সিভিল ডিভিশন-২-এর সমস্ত ঠিকাদারি কাজের তদারকি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের থেকে গোপনে শতকরা ৫ ভাগ ঘুষ হাতিয়ে নেয়ার কাজ করছে প্রকৌশলী জহির। এই ডিভিশনের তিনজন বুয়েট ডিগ্রীধারী প্রকৌশলীকে অনেকটা কর্মক্ষম করে বসিয়ে রাখা হয়েছে। প্রকৌশলী জহিরের মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুজ্জামান ঠিকাদারি কাজের ইস্টিমেট থেকে শুরু করে সব কাজ করাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলী শহিদুজ্জামান দ্বৈত নাগরিক। চাকরির সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর অর্থাৎ ৩৭ বয়স বয়সে নাকি তিনি সিএএবিতে চাকরিপ্রাপ্ত হন। দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য এই প্রকৌশলীকে দুদক কয়েকদফা দাপ্তরিক চিঠি দিয়ে তলব করলেও কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। দুর্নীতির ফসল হিসেবে তার অঢেল সম্পত্তি রয়েছে বলে দুদক জানতে পেরেছে। রাজধানীর উত্তরার রাজলক্ষী মার্কেটে বেনামে তার ৪টি দোকান রয়েছে বলেও শোনা যায়।
সূত্র জানায়, একটি ৮ লাখ টাকার ঠিকাদারি কাজকে ৮০ লাখ টাকায় উন্নীতকরণের ফাইলে সই না করায় সম্প্রতি এই প্রকৌশলী শহিদুজ্জামান তার উর্ধতন এক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে প্রভাব খাটিয়ে তার অফিসে লান্্িঞত করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ওই তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বেশকিছ ুদিন আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যবেষ্টিত অবস্থায় অফিস করেছেন।
নির্মাণ কাজ চলার সময় কোন প্রকৌশলী সাইটে না থাকা , নিরাপত্তা ব্যবস্থা না করেই ঝুকিপূর্ন পয় নিষ্কাশন কাজ করা, কাজের মূল্যায়ন ছাড়াই কার্যাদেশ দেয়া এবং সাইট ইন্ঞিনিয়ারের নাম জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুজ্জামান তা এড়িয়ে যান। তবে তিনি জানান, ঘটনা তদন্তের জন্য তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
