সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : খালেদার গাড়ি বহর থেকেই পুলিশের ওপর হামলা

একুশে বার্তা প্রতিবেদন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  আসাদুজ্জামান খান কামাল সংসদে বলেছেন , খালেদার গাড়ি বহর থেকেই গত ৩০ জানুয়ারি পুলিশের ওপর হামলা করা হয়। তিনি বলেন, সেদিন তারা অতর্কিত হামলা করে পুলিশের প্রিজন ভ্যান ভাঙচুর করে। সেদিনের ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

রোববার জাতীয় সংসদে ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরার এক সম্পূরক প্রশ্নের  জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  সংসদে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সেদিন তারা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে পুলিশের দুটি রাইফেল ভেঙেছে, পুলিশের প্রিজন ভ্যান ভাঙচুর করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যখন ঘটনাটি ঘটে ঠিক তখনই বিএনপি চেয়ারপারসন সেই রাস্তায় দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার সামনের বহর থেকেই ঘটনাটি ঘটে। আমাদের পুলিশ অত্যন্ত ধৈয্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। ভিডিও দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। শনাক্ত করে তাদের সবাইকে আইনের মুখোমুখি করা হবে।
কর্মরত সাড়ে ৮৫ হাজার বৈধ বিদেশীর ৬৮ হাজার ব্যবসায়ী : বাংলাদেশে বৈধ ভাবে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত আছেন ৪৪ দেশের ৮৫ হাজার ৪৮৬ জন বিদেশী নাগরিক। এর মধ্যে ৬৭ হাজার ৮৮৫ জনই নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সবচেয়ে বেশি আছেন ভারতের নাগরিক। প্রতিবেশী রাষ্ট্রটির ৩৫ হাজার ৩৮৬ জন এ দেশে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের বরাত দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এ তথ্য জানান। এর আগে তাকে প্রশ্ন করতে গিয়ে এ কে এম মাঈদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রায় দুই লাখ বিদেশী প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে। এরই জবাবে মন্ত্রী এ বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈধ পথে আসা বিদেশী নাগরিকরা বিশেষজ্ঞ, কান্ট্রি ম্যানেজার, কনসালট্যান্ট, কোয়ালিটি কন্ট্রোলার, মার্চেন্ডাইজার, টেকনেশিয়ান, সুপারভাইজার, চিকিৎসক, নার্স, ম্যানেজার, প্রকৌশলী, প্রডাকশন ম্যানেজার, ডাইরেক্টর, কুক, ফ্যাশান ডিজাইনার, শিক্ষক প্রভৃতি ক্যাটাগরীতে কাজ করছেন। মন্ত্রীর দেয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৬৭ হাজার ৮৫৩ ব্যবসায়ীর পাশাপাশি রয়েছেন ৮ হাজার ৩০০ এক্সপোর্টার, ৩ হাজার ৬৮২ জন কর্মকর্তা, ২ হাজার ১০৫ খেলোয়ার ও স্পোর্টস সংগঠক, ৯২২ মূলধন বিনিয়োগকারী, ৮০৪ পার্সোনাল স্টাফ (ব্যক্তিগত কর্মচারি), ৭২৭ ইকুপমেন্ট টেকনিক্যাল পার্সোনাল (কারিগরি যন্ত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি), ৫৬১ এনজিও (বেসরকারি সংস্থ) কর্মি, ৪০০ রিসার্স বা ট্রেনিং স্টাফ ও ১৩২ গৃহকর্মী ।

জননিরাপত্তা বিভাগের দেয়া আরেক তালিকা অনুযায়ী- আলোচ্য ৪৪টি দেশের মধ্যে ভারতের পরেই রয়েছে  চীন। তাদের ১৩ হাজার ২৬৮ জন বাংলাদেশে কাজ করছেন। রয়েছেন জাপানের ৪ হাজার ৯৩, দক্ষিণ কোরিয়ার ৩ হাজার ৩৯৫, মালয়েশিয়ার ৩ হাজার ৮০, শ্রীলংকার ৩ হাজার ৭৭, থাইল্যান্ডের ২ হাজার ২৮৪, যুক্তরাজ্যের ১ হাজার ৮০৪, যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৪৪৮, জার্মানির ১ হাজার ৪৪৭, সিঙ্গাপুরের ১ হাজার ৩২০ ও তুরস্কের ১ হাজার ১৩৪ জন। এক হাজারের চেয়ে কম নাগরিক রয়েছে কয়েকটি দেশের। এর মধ্যে ফ্রান্সের ৯০৭, ইন্দোনেশিয়ার ৮৫৯, ফিলিপাইনেরও ৮৫৯, রাশিয়ার ৮৪৫, নেদারল্যান্ডসের ৮১৮, ইতালির ৭৯৫, পাকিস্তানের ৭১৩, ভিয়েতনামের ৬৫৪, অষ্ট্রেলিয়ার ৫৬৩, স্পেনের ৫৩২, কানাডার ৪০৪, মিশরের ৩৬৯, সাউথ আফ্রিকার ৩১৮, সুইডেনের ২৫১, ডেনমার্কেও ২৩৭, বেলজিয়ামের ২৩৫, নাইজেরিয়ার ২২৮, মরিশাসের ২২৪, সৌদি আরবের ২২৩, নেপালের ১৮৫, সুইজারল্যান্ডের ১৮৪, তাইওয়ানের ১৮২, ইরানের ১৫৪, বেলারুশের ১৪৪, পোল্যান্ডের ১৩৮, ব্রাজিলের ১৩৭, অস্ট্রিয়ার ১২৯, ইউক্রেনের ১২৮, মালদ্বীপের ১২৬, জর্ডানের ১০৯ ও উজবেকিস্তানের ১০৩ জন এই দেশে কাজ করছেন। এছাড়া অন্যান্য দেশের রয়েছে আরো ১ হাজার ৯৯৭ জন।