একুশে বার্তা প্রতিবেদন : বিশ্ব তাবলীগ জামাত আয়োজিত এতদঞ্চলের সর্ববৃহৎ মুসলিম মহাসমাবেশ বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিন গত শনিবার ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে অতিবাহিত হয়েছে। আজ ১৪ জানুয়ারি রোববার দুপুরের আগে প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এই বিশাল মুসলিম মহা সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটবে। বেলা ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত শুরু হবে বলে ইজতেমা আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে। ৪দিন বিরতির পর ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে ৩দিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। আগামী ২১ জানুয়ারী দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমা।
তাবলীগের বিশ্ব আমির মাওলানা সা’দ ছাড়াই আজ আখেরি মোনাজাত :
এবার তাবলীগ জামাতের অন্যতম মুরুব্বী মাওলানা সা’দ ছাড়াই বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। মাওলানা সা’দ এর পরিবর্তে বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ হযরত মাওলানা যোবায়ের আজ আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন বলে ইজতেমা আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে। ইজতেমা ময়দানের জিম্মাদার তাবলীগ মুরব্বি ইঞ্জিনিয়ার মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, রোববার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ জোবায়ের। মোনাজাতের আগে হেদায়াতি বয়ান করবেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল মতিন। এবারই প্রথম ইজতেমায় বাংলা ভাষায় আখেরি মোনাজাত পরিচলিত হবে। গতকাল শনিবার বাদ ফজর বয়ান করেন কুয়েতের মাওলানা ইব্রাহিম রেফা, জোহর সুদানের মাওলানা ড. জাহাদ, বাদ আসর বাংলাদেশের নূরুর রহমান, বাদ মাগরিব মাওলানা ফারুক হোসেন বয়ান করেন।
নিজ দেশে ফিরে গেলেন মাওলানা সা’দ
তাবলিগ জামাতের একাংশ হেফাজতে ইসলাম তথা কওমিপন্থী আলেমদের বিরোধিতার মুখে অবশেষে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ না নিয়েই নিজ দেশে ফিরে যেতো হলো মাওলানা মোহাম্মদ সা’দ কান্ধলভিকে। তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বী ভারতের মাওলানা জোবায়েরুল হাসানের মৃত্যুর পর থেকে মাওলানা সা’দ প্রতি বছর বিশ^ইজতিমায় সমাপনী হেদায়েতী বয়ান শেষে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করতেন। শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মাওলানা মোহাম্মদ সাদ তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করেন। বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে সমালোচিত হয়েছিলেন দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের এ জিম্মাদার।
রমনা থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, মাওলানা মোহাম্মদ সা’দকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে আমরা বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়েছি। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এএসপি তারিক আহমেদ আস সাদিক জানান, গতকাল শনিবার দুপুর পৌনে ১২টায় জেড এয়ারওয়েজের একটি বিমানে মাওলানা মোহাম্মদ সা’দ কান্ধলভি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে গত বুধবার ঢাকায় আসেন মাওলানা মোহাম্মদ সা’দ। কিন্তু বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে সমালোচিত মাওলানা সা’দ ওই দিনই বিমানবন্দরে তাবলিগ জামাতের একাংশ ও কওমী আলেমদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। মাওলানা সা’দ কান্ধলভী তার নিজের বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাকে ইজতেমা ময়দানে যেতে দেয়া হবে না বলে জানান বিক্ষোভকারীরা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তায় ওই দিন বিকেলে তাকে কাকরাইলে নেয়া হয়। শুক্রবার তিনি এ মসজিদে জুমার নামাজে বয়ান করেন।
এ দিকে বিশ্ব ইজতেমার বাইরে মাওলানা সা’দ কান্ধলভীকে নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ইজতেমা ময়দানে এর কোনো প্রভাব পড়তে দেখা যায়নি। মাওলানা সা’দকে কেন্দ্র করে বাইরে সৃষ্ট বিতর্ক ও উত্তেজনা ইজতেমা ময়দানের ভেতরে মুসল্লিদের মধ্যে কোনো প্রভাব ফেলেনি। আগত মুসল্লিদের যার যার মতো নামাজ আদায়, বয়ান শোনা ও ধর্মীয় কাজে মগ্ন থাকতে দেখা গেছে। আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত ইজতেমায় মুসরিøদের আগমন অব্যাহত থাকবে।
টঙ্গীমুখী মুসল্লিদের স্রোত অব্যাহত :
প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে গতকাল সন্ধ্যা থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা ট্রেন, বাস, ট্রাক, লঞ্চ, নৌকাযোগে ও পায়ে হেঁটে দলে দলে ইজতেমাস্থলে আসতে শুরু করেছেন। মুসল্লিদেরআখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমা ময়দানে আসার এ স্রোত, মোনাজাতের আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানান ইজতেমা আয়োজক কমিটি। গতকাল শনিবার ইজতেমা মাঠে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ১৬৫ একর এলাকা বিস্তৃত ২ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাঁশ ও চটের সামিয়ানার নিচে লাখো লাখো মুসল্লিতাদের নির্দিষ্ট খিত্তায় সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান নিয়ে এবাদত বন্দেগী মশগুল রয়েছেন। ইজতেমা ময়দানের সামিয়ানার নিচে ঠাই না পেয়ে লাখ লাখ মুসল্লি ইজতেমা ময়দানের চারিদিকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তাবু ও প্লাষ্টিকের কাগজের সামিয়ানা টানিয়ে ইজতেমার ইবাদত বন্দেগীতে শরীক হয়েছেন।
বয়ান :
ইজতেমার ময়দানে বয়ানে বিশ্বের ইসলামী চিন্তাবীদ ও বুজুর্গরা বলেন, দ্বীন ও ইসলামের দাওয়াত আল্লাহ পাকের অসীম রহমতে ও অনুগ্রহে তাবলীগ জামাতের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় দ্বীন ইসলাম পুনরুজ্জীবিত করে নর-নারীর মধ্যে দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার কাজে হযরত মোহাম্মদ (সা:) উম্মতের জিম্মাদার হিসাবে ঈমানিয়াত, ইবাদত, মোয়ামেলাত ও আখলাক অনুশীলনে জানমাল আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে কিছু সময় দাওয়াত, তালিম, জিকির ও নামাজে মশগুল হওয়া প্রয়োজন। বাংলা, আরবি, ফার্সি, উর্দ্দুসহ কয়েকটি ভাষায় তাবলীগ জামাতের মুুরুব্বীদের এসব বয়ান তরজমা করে মুসল্লিদেরমাঝে শোনানো হচ্ছে।
গতকাল বাদ ফজর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা মো. নূরুর রহমান। বাদ জোহর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা ড. মো. জাহাদ ও মাওলানা ফারুক হোসেন। এসব বয়ান বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় তাৎক্ষণিক তরজমা করে মুসল্লিদেরশুনানো হচ্ছে। বয়ানে তাবলীগের ৬ উসুল কালেমা, নামাজ, ইলম, জিকির, ইকরামুল মুসলিমিন, সহিনিয়ত ও দাওয়াতে তাবলীগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। বয়ানে আরো বলা হয়, দ্বীনের দাওয়াত চালু হয়ে গেলেই দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি পাওয়া যাবে, তারা আরো বলেন, আমাদের জিন্দেগী ও আখেরাতে শান্তি পেতে হলে বেশী বেশী আল্লাহর রাস্তায় সময় দিতে হবে। নিজে তাবলীগের কাজ করতে হবে ও অপর ভাইকে তাবলীগে আসার অনুপ্রেরনা দিতে হবে। তিন দিনের জামাত ও চল্লিশ দিনের জামাত তৈরি করতে হবে।
তিন দিনের কর্মসূচী :
গত তিনদিন বিশ্ব ইজতেমায় উপস্থিত তাবলীগ কর্মীদের মধ্যে থেকে যারা বিভিন্ন চিল্লায় যাবেন তাদেরকে তাশকিলের কামরায় জড়ো করা হচ্ছে। বিশ্ব ইজতেমায় বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের তাবলিগ মারকাজের শুরা সদস্যগণ ও বুজর্গরা বয়ান পেশ করছেন। মূল বয়ান উর্দূতে হলেও বাংলা, ইংরেজী, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসি ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে মুসল্লিদেরশোনানো হচ্ছে। বিভিন্ন ভাষাভাষি মুসল্লিরা আলাদা আলাদা বসেন এবং তাদের মধ্যে একজন করে মুরুব্বী মূল বয়ানকে তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে শুনান। মূল বক্তা বয়ানের একটি নির্দিষ্ট অংশ শেষ করার পর অনুবাদের জন্য বিরতি দেন। অনুবাদ শেষ হলে তিনি আবার বয়ান শুরু করেন। এভাবেই ইজতেমা ময়দানে তাবলীগ জামাতের মুরব্বীদের বয়ান চলছে।
আইনশৃংখলা জোরদার :
গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর-রশিদ জানান, ইজতেমা চলাকালীন সময় ময়দানের চারিদিকে থাকছে বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে ৮ স্তরের নিরাপত্তা বলয়। সেই সাথে থাকছে স্টাইকিং ফোর্স, চেক পোস্ট, ওয়াচ টাওয়ার এবং ইন্টারনেটের ওয়াইফাই সুবিধাসহ মিডিয়া সেন্টার। নিরাপত্তা জোরদার করতে র্যাবের কমিউনিকেশন উইংয়ের পক্ষ থেকে ১৭টি প্রবেশপথসহ চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা।
এছাড়াও থাকছে র্যাবের ইন্টেলিজেন্সের সদস্যরা কড়া নজরদারি রাখছেন, যাতে ইজতেমা মাঠ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে। প্রতিটি খিত্তায় বিশেষ টুপি পরিহিত ও সাদা পোশাকধারী ২জন করে গোয়েন্দা সদস্য অবস্থান করছেন। তারা কোন প্রকার সন্ত্রাসী তৎপরতার ইঙ্গিত পেলে বিশেষ সিগনালের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তৎক্ষণিক অবহিত করবেন বলে জানা গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন স্থানে বসানো র্যাবের ৭টি ও পুলিশের ৬টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে পর্যবেক্ষক দল সার্বক্ষণিক বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের পর্যবেক্ষণ করছেন।
পানি সরবরাহ :
দিনদিন ইজতেমায় দেশী বিদেশী মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় সরকারী অর্থায়নে ইজতেমা মাঠে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা কার্যক্রম অন্যান্য বছরের চাইতে এবার আরো বেশি উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। এ পর্যন্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে ১২টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে দৈনিক ৪০ লাখ গ্যালন পানি সাড়ে ১২কিঃ মিঃ পাইপ লাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন অজুখানা, টয়লেট, গোসল খানায় সার্বক্ষণিক পানি সরবরাহ করছে। এছাড়াও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন প্রতিদিন কয়েক লাখ গ্যালন পানি মুসল্লিদের মাঝে শতাধিক পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করছে বলে জানান গাজীপুর সিটি অঞ্চলের পানি সরবরাহে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী।
ইজতেমায় মালয়েশীয় নাগরিকের মৃত্যু :
বিশ্ব ইজতেমায় শুক্রবার রাতে এক বিদেশি মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তার নাম নূরহান বিন আব্দুর রহমান (৫৫)। তিনি মালয়েশিয়ার নাগরিক। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩জন মুসল্লীর মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসা সেবা
ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের অনেকে আকষ্মিক বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে ফ্রি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গতকাল ফ্রি চিকিৎসা কেন্দ্র এলাকা ঘুরে দেখা গেছে মুসল্লিরা দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছেন। মুসল্লিদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য ময়দানের আশপাশে ও মন্নু নগর এলাকায় র্যাব’র ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্প, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিস, ইন্টার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ হোমিও প্যাথিক বোর্ড, আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম, টঙ্গী ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, টঙ্গী প্রেসক্লাবের মিডিয়া সেন্টার, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক কলেজ, হোমিওপ্যাথিক অনুশীলন কেন্দ্র, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধশত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসকরা বিনামূল্যে মুসল্লিদেরচিকিৎসা সেবা ও ঔষধপত্র দিচ্ছেন। অসুস্থ্য মুসল্লিদেরঅধিকাংশই অতিরিক্ত শীত ও ঠান্ডা জনিত সর্দি, কাশি, ডায়রীয়া, পেটের পীড়া, আমাশয় ও শ্বাসকষ্টের রোগী। ইজতেমায় মুসল্লিদেরমাঝে অনেককেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পগুলোতে আসতে দেখা গেছে। এ ছাড়া রাত ৯টা থেকে সকাল পর্যন্ত টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে শতাধিক মুসল্লিকে। জরুরী রোগীদের জন্য এ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।
বিদেশী মুসল্লিঃ শনিবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ১১০টি দেশের সাড়ে ১২ হাজার বিদেশি মেহমান ইজতেমা ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন বলে জানান ইজতেমা আয়োজক কমিটি। তারা ইজতেমা ময়দানের উত্তর পশ্চিম প্রান্তে নির্ধারিত কামরায় অবস্থান করছেন।
আখেরি মোনাজাতের প্রস্তুতি :
ইজতেমা মাঠের বিদেশি নিবাসের পূর্বপাশে বিশেষ মোনাজাত মঞ্চেই রোববার সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে যে কোন সময় শুরু হবে আখেরি মোনাজাত। এর আগে হবে হেদায়েতি বয়ান। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম, সিলেট, আখাউড়া, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রেল রুটে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া আখেরি মোনাজাতের আগে এবং পরে সব ট্রেন টঙ্গী জংশন স্টেশনে যাত্রা বিরতি করবে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার।
যানজট নিয়ন্ত্রণ :
আজ রোববার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে আসা মুসল্লিদেরঅতিরিক্ত যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য দক্ষিণে আন্তর্জাতিক হযরত শাহ্ জালাল বিমানবন্দর, পশ্চিমে উত্তরা-১১ নং সেক্টর, এবং গাজীপুর চৌরাস্তা ও মিরের বাজার পর্যন্ত রাত ৩টা থেকে যানবাহন বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার সূত্রে জানা গেছে।
গাজীপুরের ট্রাফিক বিভাগের সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ৩টার পর থেকে রোববার আখেরি মোনাজাতের সময় পর্যন্ত ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে কুড়িল বিশ্বরোড, সাভারের বাইপাইল থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়ি ছাড়া সাধারণ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে মোনাজাতের দিন রোববার সকাল থেকে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস মোড় এলাকা থেকে ইজতেমাস্থল পর্যন্ত মুসল্লিদের সুবিধার্থে ইজতেমার স্টিকার লাগানো বাস চলাচল করবে বলে জানান তিনি।
ইজতেমা এলাকায় দুই চাঁদাবাজ আটক :
বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করার অভিযোগে দুই চাঁদাবাজকে আটক করেছে পুলিশ। উত্তরার কামরপাড়ার তুরাগ নদীর তীর থেকে তাদেরকে আটক করে তুরাগ থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলেন নাঈম ও জুবায়ের।
পুলিশের উত্তরা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) তাপস কুমার দাস বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডবিøউটিএ) নাম করে চাঁদাবাজি করছিল। এ সময় তাদের কাছে চাঁদা আদায়ের ভুয়া রশিদও ছিল। পরবর্তীতে বিআইডবিøউটি এর চেয়ারম্যানের কাছে যোগাযোগ করা হলে তাদেরকে ভুয়া বলে জানান। এ ঘটনায় তুরাগ থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
