এবার বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র উচ্চ আদালতে গড়াল : সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে ইসিকে হাইকোর্টের নির্দেশ

একুশে বার্তা ডেক্স : বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে মোজাম্মেল হোসেন নামে এক ব্যক্তি ইসিতে যে আবেদন করেছিলেন সেই আবেদন এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ওই ব্যক্তির করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশ দেন বিচারপতি মো. আশফাকুল  ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। প্রায় নয় মাস আগে বিএনপির গঠনতন্ত্রে আনা এ সংশোধনীর বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশের ফলে ওই সংশোধনীর কার্যকারিতা  আপাতত থাকছে না। আর একাধিক মামলায় দণ্ডিত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তার ছেলে এবং দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দলীয় নেতৃত্বে থাকার পথও কার্যত আটকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে  নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার সুযোগও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

বিএনপির গঠনতন্ত্রের সপ্তম ধারায় ছিল দুর্নীতিপরায়ণ কোনো ব্যক্তি দলের কোনো পর্যায়ের নেতৃত্ব ও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। পরে বিএনপি গঠনতন্ত্রের ওই সপ্তম ধারা বিলুপ্ত করে দেয়।

গতকাল আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোমতাজ  উদ্দিন মেহেদী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম মাসুদ রুমি। রিটকারীর আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন মেহেদী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাবেক সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক। এছাড়া তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী।  তিনি গণমাধ্যমে  বলেন, ‘রিটকারী মোজাম্মেল হোসেন রাজধানীর কাফরুল এলাকার বাসিন্দা এবং বিএনপির একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ও কর্মী।’  মোমতাজ উদ্দিন মেহেদী বলেন, ‘বিএনপির গঠনতন্ত্রের সপ্তম ধারায় ছিল দুর্নীতিপরায়ণ কোনো ব্যক্তি দলের কোনো পর্যায়ের নেতৃত্বে আসতে পারবে না। গঠনতন্ত্রের ওই ধারা সংশোধন করে দলটি। এতে বিএনপির কর্মী মোজাম্মেল হোসেন সংক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হন।

কারণ এতে করে দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিরা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। তাই, সংশোধিত এ গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে ইসিতে একটি আবেদন করেন তিনি। একই সঙ্গে এটি গ্রহণ না করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা চান তিনি।’ তিনি বলেন, ‘আদালত তার আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে সংশোধিত ওই গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে ইসিকে নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি রুল দিয়েছেন এবং একমাসের মধ্যে ওই আবেদন নিষ্পত্তির আদেশ দিয়েছেন।’ হাইকোর্টের এ নির্দেশনার ফলে বিএনপিতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব আটকে যাচ্ছে কি-না এমন প্রশ্নে মোমতাজ উদ্দিন মেহেদী বলেন, ‘এটি আমি বলতে পারবো না। আমি শুধু রিটকারীর আইনজীবী। তার পক্ষে কেবল শুনানি করেছি। এখন তাদের নেতৃত্ব থাকবে কি থাকবে না- সে বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’

আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাসুদ রুমি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র যাতে গ্রহণ করা না হয় সেজন্য মোজাম্মেল গতকাল ইসিতে একটি আবেদন দিয়েছেন। আবেদনে তিনি বলেছেন, এই  গঠনতন্ত্র গ্রহণ করা হলে বিএনপিতে দুর্নীতিবাজ, অযোগ্য ব্যক্তিরা নেতা হওয়ার সুযোগ পাবেন। আদালত বক্তব্য শুনে রুল ও অন্তর্বর্তীকালীন  আদেশ দিয়েছেন।’ আইনজীবীরা জানান, দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিদের দলীয় কমিটিতে না রাখার যে বিধান বিএনপির গঠনতন্ত্রের সপ্তম ধারায় ছিল, সংশোধনীতে তা বাদ দেয়া কেন বেআইনি হবে না এবং তা সংবিধানের ৬৬ (২) ঘ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি হবে না- এ মর্মে রুল জারি করেছেন আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় সরকার সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে আদেশে।