কারা অভ্যন্তরে আদালত : ৩ দিনের মধ্যে সরকারকে প্রঙ্ঘাপন প্রত্যাহার ও জবাব চেয়ে লিগ্যাল নেটিশ জারি : না হলে উচ্চ আদালতে রিট করতে যাচ্ছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা

একুশে বার্তা প্রতিবেদন : কারা অভ্যন্তরে অস্থায়ী আদালতের গেজেট চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার পক্ষে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে রিট করা হবে বলে তার আইনজীবীরা াগ্রসর হচ্ছেন।
আগামী ১২ সেপ্টেম্বর কারা আদালতে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। তার আগেই এ রিট দায়ের করা হবে। কী কী যুক্তিতে আইনি সুবিধা পাওয়া যায়, সেই বিষয়গুলো এখন আলোচনা-পর্যালোচনা করছেন তার আইনজীবীরা।
গত বুধবার থেকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়ার অসম্পন্ন বিচার শুরু হয়েছে। ওইদিন খালেদা জিয়া উপস্থিত হয়ে আদালতের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনার যতদিন ইচ্ছা সাজা দিন। আমি বারবার এভাবে আদালতে আসতে পারব না।’ খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা ওই আদালতকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে তা বর্জন করেন।
এর আগে মঙ্গলবার নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে বিশেষ জজ আদালত-৫ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সাত মাস ধরে এই কারাগারে বন্দি আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় একই বিচারক তাকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেন।
বিএনপির আইনজীবীরা বলছেন, আইন মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারিক আদালত স্থানান্তরের যে গেজেট প্রকাশ করেছে তা আইনের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও বেআইনি।
কারাগারে আদালত স্থাপনের গেজেট প্রকাশের সেই আইনি প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়ার পক্ষে আমরা উচ্চ আদালতে রিট করছি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে এ রিট করা হবে।
ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের যে ৭নং কক্ষটিকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে তা সংবিধানের আর্টিক্যাল ৩৫(৩) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫২ ধারা অনুযায়ী কোনো উন্মুক্ত আদালত নয়।’
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমাদের তরফ থেকে সরকারের প্রতি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল বলেছেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কারাগারে আদালত বসানো হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসনও আদালতে হাজির হয়ে বলেছেন, তিনি খুবই অসুস্থ, প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। তাই উনার (খালেদা জিয়ার) আইনজীবী হিসেবে আমরা মনে করি অসুস্থ ব্যক্তি নিয়ে কোনো মামলা চলতে পারে না। পাশাপাশি আইন মন্ত্রণালয় থেকে যে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে সেটা আইনের দৃষ্টিতে অসাংবিধানিক। এসব বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আমরা উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করছি।’
খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান বলেন, রিটে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা থেকে (কোর্ট ভেন্যু) পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারের ৭নং কক্ষে স্থানান্তর কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এ মর্মে রুল চাওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে।
এদিন কারাগারে অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়ার বিচার নিয়ে সরকার কর্তৃক জারি করা প্রজ্ঞাপন তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহার চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠান এক আইনজীবী। আইন সচিবকে এই আইনি নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়। অন্যথায় আইনগত প্রদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানানো হয়। এর পর কারাগারে অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়ার বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীরা বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।