একুশে বার্তা প্রতিবেদন : জিয়া অরফানেস ট্রাস্ট মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারর্পাসন খালেদা জিয়াকে অতি দ্রুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউতে) ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করার হাইকোর্টের আদেশ বিএসএমএমইউ ও কারাকর্তৃপক্ষের কাছে পৌছেছে। তবে কখন তাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি বিএসএমএমইউ ও কারাকর্তৃপক্ষ। তবে আজ (শনিবার) হাসপাতালে ভর্তির জন্য চূড়ান্তভাবে অনুমতি আইজি প্রিজন খালেদা জিয়ার কাছে অনুমতির জন্য কারাগারে যেতে পারেন, তিনি রাজি থাকলে সেই দিনই খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হবে এমনটাই সূত্রে জানা যায়।এজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন কারা কর্তপক্ষ।
বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, খালেদা জিয়াকে দ্রুত চিকিৎসা দেয়ার হাইকোর্টের আদেশ বিএসএমএমইউ ও কারাকর্তৃপক্ষের কাছে পৌচেছে। তিনি বলেন, আমরা আদালতের আদেশ বিশেষ বার্তা প্রেরকের মাধ্যমে রাতেই কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। তাঁরা সেটি গ্রহণ করেছেন। অপর দিকে বিএসএমএমইউ এর ভিসি আফিসের কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ বিশ্বাস আমাদের জানিয়েছেন, শুক্রবার বেলা সাড়ে ৪টায় তারা উচ্চ আদালতের কপি পেয়েছেন। আমরা আশা করছি, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরামর্শ করে কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে। এ বিষয়ে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের আদেশ তারা পেয়েছেন। এখান কারাকর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক চিঠির অপেক্ষায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারারক্ষী জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের জানান, হাইকোর্টের আদেশ বৃহস্পতিবার রাতে পৌছেছে। তবে রায় পৌঁছার পর কারাগারের অনেক কাজ রয়েছে। তিনি বলেন, বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতেই হাইকোর্ট আদেশ বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাগারে রাত সাড়ে ৯টার পৌছে দেয়া হয়। এবার খালেদা জিয়া নমনীয়তা প্রকাশ করেন বলে জানা যায়। শনিবার আইজি প্রিজন খালেদা জিয়ার কাছে অনুমতির জন্য যাবেন। তিনি রাজি থাকলে সেই দিনই খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হবে এমনটাই সূত্রে জানা যায়। খালেদা জিয়ার হাসপাতালে ভর্তির জন্য চূড়ান্তভাবে অনুমতি দেবেন মূলত আইজি প্রিজন। সেই অনুমতির আগে আইজি প্রিজন খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো জিজ্ঞাসা করবেন। যে আসলেই তিনি বঙ্গবন্ধুতে যাবেন কিনা।
এর আগে খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রস্তাব ফিরে দন। তার একটাই দাবি ছিল, তার পছন্দ মতো রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার কথা বলে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিএনপির আইনজীবীরা হাইকোর্টে আবেদন করেন। শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্টের বেঞ্চ খালেদা জিয়ার ও উনান পছন্দ মতো চিকিৎসকদের আওতায় অতি দ্রুত বিএসএমএমইউতে ভর্তির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার চিকিৎসা শুরু করতে অবিলম্বে পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড পুনর্গঠন করতে বিএসএমএমইউ ও কারাকর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। আদালত আদেশে বলেন, খালেদা জিয়ার দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। অতি দ্রুত খালেদা জিয়ার চিকিৎসা শুরু করার জন্য স্পেশাল ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদেশ পৌঁছানোর নির্দেশ দেন আদালত।
হাইকোর্ট বলেছেন, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী সেই হিসেবে তাকে সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে সতর্কতার সাথে বিএসএমএমইউ ও কারাকর্তৃপক্ষকে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, খালেদা জিয়া যদি মনে করেন তার চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ এর বাইরে থেকেও অন্য কোন চিকিৎসক দিয়ে তাদের চিকিৎসা করাবেন। অর্থাৎ,বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে তিনি বাইরে থেকেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনতে পারবেন। এছাড়া খালেদা জিয়া তার পছন্দ মতো ফিজিওথেরাপিস্ট বা গায়নোকলজিস্ট বা মেডিকেল টেকনিশিয়ান নিতে পারবেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর দেশের বিশেষায়িত কোনো হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়। রিট আবেদনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষ বোর্ড গঠন করার নির্দেশনাসহ তার চিকিৎসাসেবা-সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
