একুশে বার্তা প্রতিবেদন : ৪৫ কেজি সোনা উদ্ধারের মামলায় তিন বিদেশীসহ সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।
বুধবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ইমান আলী শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হি ওই খং, জোহারি বিন হারুন, মো. আজওয়ান বিন সালেহিন, মো. আবু হোসেন খন্দকার, মানিক মোল্লা ওরফে ডলার, মো. সুলতান মাহমুদ ওরফে সবুজ এবং মো. আতিকুর রহমান আতিক।
দণ্ডিতদের মধ্যে প্রথম তিনজন বিদেশী। তারা কারাগারে আছেন। অপর চারজনের মধ্যে শেষের জন শুরু থেকেই পলাতক। তিনজন জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন।
মামলাটির বিচারকালে আদালত মামলার চার্জশিটের ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
আসামিপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির প্রাক্তন সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মাফুজুর রহমান মামলাটি পরিচালনা করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, কাস্টমসের তৎকালীন কমিশনার লুৎফর রহমান বিদেশে অবস্থানকালে চোরাচালানের মাধ্যমে বিদেশ থেকে সোনা আসার বিষয়ে গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারেন। এরপর তিনি বিষয়টি কমিশনারের দায়িত্বে থাকা মো. মাসুদ সাদিক এবং যুগ্ম কমিশনার আশরাফুল ইসলামকে জানান। বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর মালয়েশিয়া থেকে আসা এইম এইচ-০১০২ বিমানের যাত্রী হি ওই খং, জোহারি বিন হারুন ও মো. আজওয়ান বিন সালেহিন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাদের তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে তাদের কোমরের বেল্ট ও পায়ের অ্যাংলেটে থাকা ৪৫টি সোনার বার উদ্ধার হয়। যার প্রত্যেকটির ওজন ছিল ১ কেজি। যার মধ্যে ওই খং এর শরীরে ২১টি, আর বাকি দুজনের শরীরে ১২টি যাওয়া যায়।
কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে ঘটনার দিনই বিমানবন্দর থানায় ওই তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলার পর ওই তিন মালয়েশিয়ান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পরে আসামি মো. আবু হোসেন খন্দকার, মানিক মোল্লা ওরফে ডলার ও মো. সুলতান মাহমুদ ওরফে সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে মানিক মোল্লা ওরফে ডলারও আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন। স্বীকারোক্তিতে ডলার তার মামা মালেশিয়া প্রবাসী মো. আতিকুর রহমান আতিকের মাধ্যমে তিন বিদেশীকে দিয়ে সোনাগুলো বাংলাদেশে আনে বলে জানায়।
মামলাটি তদন্তের পর ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. মনিরুজ্জামান আদালতে সাত আসামির বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৩ মার্চ চার্জশিট দাখিল করেন।
