ঢাকা কাস্টমস হাউজ : বিচারাদেশের ৬ মাস অতিক্রান্ত , সোনা খালাস দেয়া হয়নি : সোনা কি লাপাত্তা ?

বিশেষ সংবাদদাতা : বিচারাদেশের প্রায় ৬ মাস অতিক্রান্ত হতে চললেও ঢাকা কাস্টমস হাউজ কর্তৃুপক্ষ ২৩৪ গ্রাম জব্দকৃত সোনা খালাস দিতে পারেনি। সোনার মালিক আনান সিং ঢাকা-কলকাতা প্রায় দেড়বছর যাবত ঘুরছেন সোনা পাবার আশায়। কিন্ত প্রতিবারই তার সে আশায় গুড়বালি। সর্বশেষ এ মাসে (নভেম্বর) বাংলাদেশে এসেও তিনি তার কাংক্ষিত ২৩৪ গ্রাম সোনা খালাস পেলেন না। প্রশ্ন ওঠেছে ডিএমকৃত সোনা কি লাপাত্তা ?
ঢাকা কাস্টমস হাউজ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর/২০১৭ তারিখে ঢাকা কাস্টমস হাউজের শাহজালাল বিমানবন্দর ইউনিট বিমানবন্দর থেকে আনান সিং, পাসপোর্ট নম্বর-জেড-৩৯৮৮৯৭৭, সাং-মাডহিয়া, উত্তর প্রদেশ, কলকাতার নিকট থেকে ২৩৪ গ্রাম সোনা জব্দ করে ডিএম ( ডিটেনশন মেমো) করে, ডিএম নম্বর-০২৫৫১৫০ , তারিখ ১৭-০৯-২০১৭। পরবর্তীতে আনান সিংহ ২৩৪ গ্রাম সোনা খালাসের জন্য ঢাকা কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ বরাবর এক দাপ্তরিক আবেদন করেন। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ এক বিচারাদেশে উক্ত ২৩৪ গ্রাম সোনা খালাসের জন্য এক বিচারাদেশ দেন। বিচারাদেশ নম্বর-২৭০/কাস/২০১৮ তারিখ-২৬-৬-২০১৮। বিচারাদেশে উক্ত ২৩৪ গ্রাম সোনার অনুকুলে ৫ লাখ ৬০ হাজার ১৮৫ টাকা সরকারি ব্যাংকে জমা দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। সে অনুযায়ী আনান সিং সোনালী ব্যাংক ঢাকা কাস্টমস হাউজ শাখায় ৫ লাখ ৬০ হাজার ১৮৫ টাকা জমা দেন গত ২৬ জুন, যার স্ক্রল নম্বর টি-১৪৭ । কিন্ত অদ্যাবধি আনান সিং তার কাংক্ষিত ২৩৪ গ্রাম সোনা খালাস না পেয়ে বাংলাদেশ-কলকাতা যাতায়াত করছেন।
আনান সিং তার ২৩৪ গ্রাম সোনা খালাস চেয়ে গত ১৮-৯-২০১৮ তারিখে ঢাকা কাস্টমস হাউজ কমিশনার বরাবর এক লিখিত আবেদনও করেছেন। উক্ত আবেদনের অনুলিপি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, সদস্য (প্রশাসন) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক বরাবর প্রেরণ করেছেন।
এ ব্যাপারে এ প্রতিবেদকের কথা হয় ঢাকা কাস্টমন হাউজের সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা- যিনি আটককৃত পণ্যের ডিএম করেন শাকিল জাহিদুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, আটককৃত সোনার খালসের ব্যাপারে ঢাকা কাস্টমস হাউজ কমিশনার, যুগ্ম কমিশনারসহ অন্যরা একাধিকবার বৈঠক করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে তাগাদাপত্র পাঠানো হয়েছে, কিন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক সাড়া দিচ্ছে না।