তিন কাস্টমস কর্মকর্তার তেলেসমাতি : দেড় কেজি স্বর্নসহ যাত্রীবেশি পাচারকারিকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ : ঢাকা কাস্টমস হাউজ কশিনারের নির্দেশনার দোহাই!

বিশেষ সংবাদদাতা : ঢাকা কাস্টমস হাউজ কমিশনারের নির্দেশে তিন কাস্টমস কর্মকর্তার তেলেসমাতিতে দিনভর দর কষাকষিতে অবশেষে মোটা অংকের গোপন লেনদেনের মাধ্যমে দেড় কেজি স্বর্নবারসহ যাত্রীবেশি পাচারকারিকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা কাস্টমস হাউজ কমিশনারের মতো একজন সৎ কমিশনারের নির্দেশনার দোহাই দেয়ার কথা বলেছেন এ পাচার ঘটনার ছাড় দেয়ার নায়ক রাজস্ব কর্মকর্তা শ্যামল কুমার এবং সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র ঘোষ । এদের সাথে যুক্ত হয়েছেন যুগ্ম কমিশনার আরিফ হোসেন।কিন্ত এই তিন কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে গোয়েন্দা রিপোর্ট হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ পাচার ঘটনায় থানায় মামলা না হওয়ায় ওসি বিমানবন্দর থানা এ ঘটনাকে চোরাচালান বলে একটি গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। ওসি নূরে আজম মিয়া বলেছেন, এতে চোরাচালান বাড়বে।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২৯ জুলাই সোমবার চীনের গুয়াংজু থেকে ইউএস বাংলার বিমানে করে সকাল ৭টায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে যাত্রী মোবারক হোসেন মোল্লা। তার গতিবিধি সন্দেহ হলে কাস্টমস কর্মকর্তারা তাকে চ্যালেন্ঞ কওে তাকে গ্রেফতার করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। পরে তার দেহ তল্লাশি করে তার জুতার ভিতর কৌশলে লুকিয়ে রাখা প্রায় দেড় কেজি ওজনের ১৪টি স্বর্নবার উদ্ধার করা হয়। এর আনুমনিক মূল্য পৌণে ১ কোটি টাকা।
এ ঘটনায় যুগ্ম কমিশনার আরিফুল ইসলামের গ্রীন সিগনালে রাজস্ব কর্মকর্তা শ্যামল কুমার এবং সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র ঘোষ সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দিনভর গোপন সমঝোতায় মোটা অংকের গোপন লেনদেনের মাধ্যমে যাত্রীবেশি পাচারকারি মোবারক হোসেন মোল্লাকে ছেড়ে দেয়। বিমানবন্দর থানায় মামলা করেনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
স্বর্নসহ পাচারকারিকে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় রাজস্ব কর্মকর্তৃা শ্যামল কুমার এবং সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র ঘোষ স্বর্ন জব্দের কথা স্বীকার করেন। তারা বলেন, হাউজ কমিশনারের নির্দেশে মামলা না করে যাত্রীকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, ১০টি স্বর্নবার জব্দ করা হলেই থানায় মামলা করার নিয়ম, সেখানে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ১৪ স্বর্নবার জব্দ করেও মামলা না করায় চোরাচালান বাড়বে।
এ ব্যাপারে জানতে ঢাকা কাস্টমস হাউজের কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেনের সেল ফোনে কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।