বিমানের অস্থায়ী শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে দেশের সব বিমানবন্দরে ফ্লাইট সিডিউল লন্ডভন্ড : আট ঘন্টায় শাহ জালাল-শাহ আমানতসহ দেশের সব বিমানবন্দরে অচলাবস্থা

একুশে বার্তা প্রতিবেদন : বারবার আশ্বাসের পরও চাকরি স্থায়ী না করায় বিমানের বিক্ষুব্ধ ক্যাজুয়াল (অস্থায়ী) শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর  রোববার ৮ ঘণ্টা প্রায় অচল ছিল শাহ জালাল-শাহ আমানতসহ দেশের সব বিমানবন্দর।

ফ্লাইট সিডিলৈ লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে। ভোগান্তির শিকার হন হাজার হাজার অান্তর্জাতিক ও আভ্যন্তরীন যাত্রী। সকাল ৮টায় কর্মবিরতিতে যান অস্থায়ী শ্রমিকরা। পরে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দাবি মানার আশ্বাসে বিকাল ৪টায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন।

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে সকালে কর্মবিরতি শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানের গ্রাউন্ড সার্ভিসের দায়িত্ব পালন করেন  অ্যাবসেক সেল ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরসহ দেশের অন্য বিমানবন্দরগুলোতেও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়।

শাহজালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে টনক নড়ে বিমান কর্তৃপক্ষের। বেলা ৩টায় বিমানের সিবিএ সভাপতি মশিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে দাবি মানার আশ্বাস দেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন এএম মোসাদ্দেক আহমেদ। তিনি শ্রমিকদের সামনে ঘোষণা দেন, আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করেছি। আগামী বোর্ড মিটিংয়ে ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী করার বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। এ সময় বিমান শ্রমিক লীগের সভাপতি মশিকুর রহমান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেন, আগামী বোর্ড মিটিংয়ে যদি দাবি না আদায় হয় তবে বিমানের সিবিএ নেতাকর্মীসহ ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা আবারও কর্মবিরতিতে যাবেন।

এরপর বিকাল ৪টা থেকে ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে শুরু করেন। শ্রমিকরা বলছেন, এর আগে বিমানমন্ত্রী দু’দিনের সময় নিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি। এ জন্য শ্রমিকরা নন, ম্যানেজমেন্ট দায়ী।

জানা গেছে, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সকাল ৮টায় পালা বদলের সময় শাহজালালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও বিএফসিসিতে কর্মরত ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা এডমিন ভবনের গেটে জড়ো হতে থাকেন। এ দুটো শাখার শ্রমিকের ৮০ ভাগই ক্যাজুয়াল হওয়ায় ফাঁকা হয়ে পড়ে তাদের কর্মস্থল। প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক একযোগে প্রথমে বিমান শ্রমিক লীগ ও সিবিএ অফিসে যান। সেখানে সিবিএ সভাপতি মশিকুর রহমানকে ঘেরাও করেন। এ সময় অস্থায়ী শ্রমিকদের নেতা মোহাম্মদ হানিফ ঘোষণা দেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করব। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বলাকা ভবন ঘেরাও করব। ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাব। ঘেরাওয়ের খবর পেয়ে বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইউসুফ হাজির হয়ে মশিকুর রহমানকে উদ্ধার করেন। এরপর হানিফের নেতৃত্বে একটি মিছিল সিবিএ কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ করে বলাকা ভবনের সামনে এসে অবস্থান নেয়। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করবেন বলে ঘোষণা দেন।

এদিকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সব ক্যাজুয়াল শ্রমিক কর্মসূচিতে যোগ দেয়ায় ভেঙে পড়ে বিমানের গ্রাহকসেবা। বিপর্যয় দেখা দেয় ফ্লাইট সিডিউলে। হাতে গোনা ২০-২৫ স্থায়ী কর্মচারী চেকইন কাউন্টার, বেল্ট এরিয়া ও অ্যাপ্রোন এলাকায় কাজ করছিলেন। এ সময় লাগেজ না পেয়ে যাত্রীরা হইচই শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ চেকইন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সেবা না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তারা। একইভাবে নিচে কনভেয়র বেল্ট এরিয়ায় কয়েকশ’ যাত্রীর লাগেজ না আসায় মারমুখী হয়ে ওঠেন।

এদিকে শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে ফ্লাইট সিডিউল বিপর্যয় দেখা দেয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিঙ্গাপুরগামী বিজি-০৮৪ ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও, সেটি সকাল ৯টা ৪ মিনিটে ছেড়ে যায়। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কুয়ালালামপুরগামী বিএস-৩১৫ ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ছেড়ে যায় ৯টা ১০ মিনিটে। এয়ার এরাবিয়ার শারজাহগামী জি-৯৫১৮ ফ্লাইটটি সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি ছেড়ে যায় সকাল ১০টার দিকে। এমিরেটসের দুবাইগামী ইকে-৫৮৩ ফ্লাইটটি ১০টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে ছেড়ে যায়। এ ছাড়াও অন্য এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটগুলো নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারেনি। এ সময় বিমানের জিএম নুরুল ইসলাম হাওলাদার ও জিএম কাস্টমার সার্ভিস আতিক সোবহান ছাড়া অন্য কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি। জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, সকালের দিকে কয়েকটি ফ্লাইটের সিডিউল বিপর্যয় ছিল। ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা না থাকলেও এপিবিএন দিয়ে কাজ করেছি। দুপুরের পর সিভিল এভিয়েশনও কাজে যোগ দেয়।