একুশে বার্তা ডেক্স : স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে ‘বির্তকিত’ মন্তব্যের অভিযোগে ঢাকা ও নড়াইলের দুই মানহানি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। সোমবার সকালে আপিল বিভাগ এ রায় দেন। এর আগে জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে সাড়া দেয়নি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। বৃহস্পতিবার চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী দুটি আবেদনিই শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন এ জে মোহাম্মদ আলী; সঙ্গে ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, কায়সার কামাল, এ কে এম এহসানুর রহমান। নড়াইলের আদালতে করা মানহানির মামলায় খালেদা জিয়াকে গত ১৩ অগাস্ট ছয় মাসের জামিন দেয় হাই কোর্ট। আর ঢাকার মামলায় খালেদা জিয়া ছয় মাসের জামিন পান গত ১৪ অগাস্ট। ওই দুই আবেদনের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ।
চেম্বার আদালতে দুই আবেদনের ওপর আলাদা শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এহসানুর রহমান বলেন, আগামী ১ অক্টোবর আবেদন দুটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে উঠবে। চেম্বার আদালত স্থগিতাদেশ না দেওয়ায় খালেদা জিয়াকে হাই কোর্টের দেওয়া ছয় মাসের জামিন আদেশই বহাল থাকছে বলে তার আইনজীবীরা জানান। এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ওই মামলায় তিনি জামিন পেলেও আরও মামলার কারণে তার মুক্তি হচ্ছে না।
নড়াইলের জেলা ও দায়রা জজ আদালত গত ৫ অগাস্ট খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলে হাই কোর্টে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। আর ঢাকার মামলায় জজ আদালত জামিন নাকচ করেছিল গত ৭ অগাস্ট। পরে দুই মামলাতেই হাই কোর্ট বিএনপি চেয়ারপারসনকে ছয় মাসের জামিন দেয়।নড়াইলের আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাটি হয় ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর। নড়াইল জেলা পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও নড়াগাতি থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান ফারুকী ওই মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে (সিএমএম) ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি অন্য মামলাটি দায়ের করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী।
ওই বছর ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের এক আলোচনা সভায় খালেদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, “আজকে বলা হয়, এতো লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানারকম তথ্য আছে।” একাত্তরে আওয়ামী লীগ ‘স্বাধীনতা’ নয়, ‘ক্ষমতা’ চেয়েছিল দাবি করে ওই সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “তিনি (জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি।”
নড়াইলের মামলার অভিযোগে বলা হয়, “মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা এবং জাতির জনকের গৌরবজনক ভূমিকা নিয়ে খালেদা জিয়া উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্য দিয়ে মানহানি করেছেন।” আর ঢাকার মামলার আর্জিতে বলা হয়, ওই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বিএনপির চেয়ারপরসন ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৫০০ ধারা অনুযায়ী অপরাধ করেছেন।
