মেজর গণি বাংলা ভাষার পক্ষে ছিলেন স্পষ্টবাদী: প্রধান বিচারপতি

একুশে সবার্তা ডেক্স : প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, মেজর আবদুল গণি ছিলেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। রাষ্ট্রীয় ভাষা বাংলার পক্ষে ছিলেন তিনি অত্যন্ত স্পষ্টবাদী। নতুন প্রজন্মের উচিত তাঁর কীর্তিময় জীবন ও আদর্শ চর্চা করা।

 

তিনি বলেন, মেজর গণির আদর্শ ও কর্ম প্রতিটি বাঙালির জীবনে প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তিনি বাঙালি জাতির কৃতি সন্তান হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

 

ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা মেজর আবদুল গণির ৬২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এ সব কথা বলেন।

 

প্রধান বিচারপতি বলেন, মেজর গণি শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি এবং শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের জন্য তৎকালীন প্রাদেশিক আইন পরিষদে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। বাংলাদেশ সরকার ১৯৮১ সালে মেজর গণিকে মানবসেবায় অবদানের জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে ভূষিত করে।

 

বাল্য ও কৈশোরে ক্রীড়া চর্চা ও মানবসেবায় অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে নেতৃত্বের সহজাত গুণাবলীর স্ফুরণ ঘটে তার মধ্যে। মানব সেবার আদর্শে উজ্জীবিত আবদুল গনি কৈশোরেই জাগতিক স্বার্থপরতার মোহ ত্যাগ করেন। ১৯৩৩ সালে দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের সেবা এবং বিপথগামী তরুণ সম্প্রদায়কে সুপথে পরিচালনার স্বার্থে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় চট্টগ্রামে ‘সবুজ কোর্তা’ বাহিনী গঠন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মার রণাঙ্গনে তাঁর অধীন যুদ্ধরত বাঙালি সৈন্যদের বীরত্ব ও শৌর্যবীর্যের কারণে তিনি বাঙালিদের জন্যে পৃথক একটি রেজিমেন্ট গঠনের চিন্তা করেন। তার উদ্যোগে ১৯৪৫ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের যাত্রা শুরু হয়। তিনি সারাদেশ ভ্রমণ করে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেওয়ার জন্য বাঙালি তরুণদের উদ্বুদ্ধ করেন।

 

মেজর গণি পরিষদের সভাপতি মো. হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, মেজর জেনারেল (অব) ইমামুজ্জামান বীর বিক্রম, সংগঠনের মহাসচিব মো. আনোয়ারুল ইসলাম ভূঁঞা প্রমুখ।