রাতের আতঙ্ক বাতিহীন ফ্লাইওভার

নিউজ ডেক্স  : যানবাহনের হেডলাইটের আলোয় ঝলমল করলেও সড়কবাতি না থাকায় রাতে অন্ধকারে মলিন হয়ে যায় রাজধানীর ফ্লাইওভারগুলো। এসব ফ্লাইওভার নির্মাণের সময় যে সড়কবাতি লাগানো হয়েছিল সেগুলো ক্রমেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। শুধু সড়কবাতিই নয়, নির্মাণের পর থেকে কখনও যথাযথ তদারকি করা হয়নি। সড়কবাতি না থাকার কারণে রাতে ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূক কর্মকা- দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।
সিটি কর্পোরেশন থেকে জানানো হয়, এগুলো দেখার দায়িত্ব তাদের নয়। কারণ তাদের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এগুলো বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। তাই ফ্লাইওভারে যদি বাতি না জ্বলে সে দায় তাদের না। এটা যারা নির্মাণ করেছেন তাদের ব্যাপার। অন্যদিকে ফ্লাইওভার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হচ্ছে, তারা সিটি কর্পোরেশনকে বলেছি, তারা যেন ফ্লাইওভারের দায়িত্ব বুঝে নেয়। কিন্তু তারা সম্পূর্ণভাবে এর দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছে না। প্রতিটা ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শেষে উদ্বোধনের সময় বাতিগুলো সচল ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে প্রায় সবগুলোই অকেজো হয়ে গেছে। নিয়মিত চলাচলকারীরা জানান, ফ্লাইওভারগুলো চালুর সময় বাতিগুলো সচল ছিল। কিন্তু পরে সঠিক নজরদারির অভাবে ক্রমান্বয়ে সবগুলো বাতিই অকেজো হয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে কয়েক মাস পর বাতির স্ট্যান্ডগুলোও ফ্লাইওভারে পাওয়া যাবে না। এজন্য সঠিক নজরদারির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
ফ্লাইওভারগুলোতে দেখা যায়, সবগুলো বাতিই অচল। প্রত্যেকটি থাকা শত শত বাতির মধ্যে কোথাও কোথাও দুয়েকটি মিটমিট করে জ্বলতে দেখা যায়। অবশিষ্ট বাতিগুলো স্ট্যান্ডের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেও জ¦লতে দেখা যায়নি। ফলে অন্ধকারে মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। এমনকি গভীর রাতে ফ্লাইওভারগুলোতে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে।
বৃহস্পতিবার রাতে কুড়িল ফ্লাইওভারে গিয়ে দেখা যায়, এর অধিকাংশ সড়কবাতি নষ্ট। এই ফ্লাইওভারটি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে গাড়ির হেডলাইটের আলোই চালকদের ভরসা। ফলে এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
এদিকে রমনা থানা থেকে তেজগাঁও সাতরাস্তা পর্যন্ত মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারের সবগুলো বাতিই অচল। পুরো ফ্লাইওভারে স্থাপিত শতাধিক বাতির মধ্যে মাত্র কয়েকটি বাতি জ¦লতে দেখা যায়। বাতিগুলো চালু হওয়ার সপ্তাহ খানেক পর আস্তে আস্তে বন্ধ হতে শুরু হয়।
পূর্বাচলগামী ৩০০ ফিট সড়ক দিয়ে এয়ারপোর্টগামী লুপ বেয়ে ফ্লাইওভারে উঠলেই চোখে পড়বে একপাশের কয়েকটি লাইটপোস্ট, যা দেখে বোঝার উপায় নেই এগুলো ল্যাম্পপোস্ট না অন্য কিছু। কিছু দূর গেলে চোখে পড়ে ফ্লাইওভারের ডান পাশে এমন সারি সারি লাইটপোস্ট। বাতি না থাকায় ফ্লাইওভারের এ পাশটা অন্ধকার। রাতের গাড়িগুলো তাই সতর্কভাবে হেডলাইটের অলোয় পথ চলছে ঝুঁকি নিয়ে। এ লুপের বিমানবন্দর সড়কেরও একই অবস্থা। আবার ৩০০ ফিট সড়ক দিয়ে এমইএস লুপ, নিকুঞ্জ-কুড়িল লুপ বা খিলক্ষেত-কুড়িল লুপেরও একই অবস্থা।
এদিকে এলজিডি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্লাইওভার নির্মাণে এলজিডি মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত থাকলেও এগুলো চালু হওয়ার পর তা দেখাশোনা করার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৗশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মালিবাগ অংশের ফ্লাইওভার আমাদের বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে। এ বিষয়ে এখনো অনেক প্রক্রিয়া বাকি। তাই এই ফ্লাইওভারটি এখনো এলজিইডির হাতেই রয়েছে। আর বনানী ও কুড়িল ফ্লাইওভার এখনও আমাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। যদি ফ্লাইওভারের কোনো বাতি না জ্বলে তাহলে সে দায় আমাদের না। আমাদের অর্তনীতি