শাহজালাল বিমানবন্দরে আবারও অগ্নিকাণ্ড : ইএম বিভাগের দুই প্রকৌশলীর দায়িত্ব অবহেলা না অন্য কিছু

একুশে বার্তা প্রতিবেদন : এক বছরের ব্যবধানে আবারো হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় টানা এক ঘণ্টার মতো ইমিগ্রেশনের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন সিভিল এভিয়েশনের এক পরিচালক । প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে ইমিগ্রেশনের পর ব্রোর্ডিং ব্রীজ  এলাকায় ধোঁয়া বের হতে দেখেন। এতে সবার মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে,আগুন নিয়ন্ত্রণে সিএএবির নিজস্ব ফায়ার ইউনিট দলসহ ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট কাজ করেছে। এ সময় বর্হিগমন যাত্রীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সমস্ত ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীরা দিকবিদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। সবার মধ্যে অজানা আতংক বিরাজ করে।

ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে এক  কর্মকর্তা জানান, ইমিগ্রেশনের কাজ সাময়িক বন্ধ থাকলেও কোনো ঝামেলা হয়নি। শুধু কিছুক্ষণের জন্য সার্ভারটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। এজন্য বিমান ওঠানামায় কোনো সমস্যাও হয়নি। ধোঁয়াচ্ছন্ন হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সিভিল এভিয়েশনের বিমানবন্দরের  পরিচালক বলেন, আমরা ধারণা করছি বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার কারন হতে পারে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিমানবন্দরের দোতলায় ডিপার্চার বিভাগের ইমিগ্রেশনের জায়গাটি হঠাৎ ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যায়। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক আলি আহমদ খান জানান, সিলিং-এর কোনো এক স্থানে বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে আগুন ধরায় ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করে তা নিয়ন্ত্রণে আনে।

উল্লেখ্য, গত বছর শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন লাগার ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলারজনিত এক প্রকৌশলীকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর ফলে গত বছর আগুন লাগার সঠিক তদন্ত জড়িত দায়ীদের বিরুদ্বে ভ্রবস্থা নেয়া হলৈ দ্বিতীয়বার আগুন লাগার ঘটনা নাও ঘটতে পারতো। ইএম বিভাগের বিমানবন্দরের দায়িত্বে নিয়োজিত সহকারি প্রকৌশলী বিকাশ মল্লিক এবং নির্বাহি প্রকৌশলী শাহরিয়ার মুর্শেদ সিদ্দিকী শাহজালাল বিমানবন্দরে দ্বিতীয়বার আগুন লাগার দায় এড়াতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে বিমানবন্দরে আগুন লাগার অন্য কোন কারনও থাকতে পারে- এমন ধারনাও করছেন সংশ্লিষ্টরা । এ ব্যাপারে এবার এখন পর্যন্ত কোন তদন্ত কমিটি গঠিত হয়নি।