শাহজালাল বিমানবন্দর : গোয়েন্দা নজরদারিতে বিমানের ১৭ ক্লিনার সর্দার দুলাল : বিমানের নীতিমালা লংঘন করে ফ্রি সার্ভিসের মতো নামকাওয়াস্তে বেতনে শাহজালালের টার্মিনাল ভবন ক্লিনিং কাজে নিয়োজিত ১৭ ক্লিনার সিএএবির নিরাপত্তা পাসে স্মাগলিংয়ে জড়িত!

এইচএম দেলোয়ার : হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে টার্মিনাল ভবন ক্লিনিং কাজে নিয়োজিত ১৭ ক্লিনার সর্দার দুলাল গোয়েন্দা নজরদারিতে। গোয়েন্দারা তার গতিবিধি নজরদারি করছে। এ দিকে বিমানের নীতিমালা লংঘন করে শাহজালাল বিমানবন্দরের মতো দেশের একটি প্রধান বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবন ক্লিনিং কাজের ইজারা ফ্রি সার্ভিসের মতো নামকাওয়াস্তে বেতনে ( প্রতিমাসে প্রতিজন ক্লিনারের বেতন মাত্র ৬৬৬ টাকার মতো) ১৭ ক্লিনার শাহজালালে স্মাগলিং কাজে জড়িত বলে গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে। আর এই ১৭ ক্লিনার বিমানের সুপারিশে সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা বিভাগ থেকে ‘অল কালার (রেড, ব্লু, অরেন্ঞ, ইয়েলো, ব্লাক)- নিরাপত্তা ডি’ পাস নিয়ে বিমানবন্দরের সমস্ত স্পর্শকাতর এলাকায় অবাধে প্রবেশ করার সুযোগে স্মাগলিং কাজে জড়িয়ে পড়ছে। এই স্মাগলিং কাজের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ বিমানের সংশ্লিষ্ট বিভাগসহ ইজারাদার মালিক, দালাল দুলালসহ সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের আস্তানায় পৌছে যাচ্ছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরসহ বিমানের বলাকা ভবন, বিমানের প্রেস স্থাপনা, শাহজালাল বিমানবন্দর, চট্রগ্রাম বিমানবন্দর, সিলেট বিমানবন্দরসহ সমস্ত বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্লিনিং কাজের একটি নীতিমালা রয়েছে। এই নীতিমালা নিয়ন্ত্রণ করেন বিমানের পরিচালক প্রশাসনের নির্দেশে একজন জিএম। কিন্ত এই নীতিমালাকে আলমারি বন্দী করে , নীতিমালাকে বৃদ্বাংগুলি দেখিয়ে ফ্রি সার্ভিসে, অনেক সময় নামকাওয়াস্তে বেতনে ক্লিনার নিয়োজিত করে বিমান এয়ার লাইন্স কর্তৃপক্ষ তাদের বিভিন্ন স্থাপনায় ইজারাদারের মাধ্যমে ক্লিনিং কাজ করাচ্ছে। এ সমস্ত কিøিনং কাজ পাবার জন্য উর্ধতন রাজনৈতিক তদবির উড়িয়ে দেয় না বিমান কর্তৃপক্ষ। একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর পিএসের তদবিরে বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের ক্লিনিং কাজের ইজারা চলছে। এ পন্থায় শাহজালালে একজন ক্লিনারের বেতন আসছে প্রতিমাসে ৬৬৬ টাকার মতো। এ ধারা অব্যাহত রেখে শাহজালাল বিমানবন্দর টার্মিনাল ভবন ক্লিনিং ইজারা কাজ এবারও ঘুপচি টেন্ডারে সর্বোাচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ না দিয়ে মাত্র ২৭ হাজার টাকায় কার্যাদেশ দেয়ার জন্য সিপিসি-৩ কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। এই কমিটি প্রধান বিমানের পরিচালক ( প্রশাসন)। তিন তিনবার ঘুপচি টেন্ডার করা হলে বার বার স্মাগলিংয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এএ ট্রেডিংকেই কার্যাদেশ দেয়ার অনুমোদন দিয়েছে সিপিসি-৩ কমিটি।
এবারের টেন্ডারে ১৫ জন ঠিকাদার অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে সর্বোাচ্চ দর দেয় ক্রাউন এন্টারপ্রাইজ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, শাহজালাল বিমানবন্দর টার্মিনাল ভবন ক্লিনিং কাজের জন্য ১৮ জন ক্লিনার নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে বিমান কর্তৃৃপক্ষ। নীতিমালায় আছে একজন ক্লিনারের বেতন সর্বনি¤œ সাড়ে ৫ হাজার টাকা। কিন্ত বিমান কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক তদবিরে স্মাগলিং অভিযোগে অভিযুক্ত আকরাম হোসেনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এএ ট্রেডিং’কে প্রতিমাসে মাত্র ২৭ হাজার টাকায় কার্যাদেশ দেয়ার পায়তারা করছে। ২৭ হাজার টাকার মধ্যে ক্লিনিং কাজের পণ্য কেনা বাবদ প্রতিমাসে ৬-৭ হাজার টাকা বাদে আর বাকি থাকে মাত্র ২২ হাজার টাকার মতো। এই ২২ হাজার টাকায় প্রতিমাসে একজন ক্লিনারের বেতন আসে ৬৬৬ টাকার মতো। এটা অত্যন্ত অমানবিক, মানবাধিকার লংঘন। কিন্ত বাংলাদেশ বিমান সেই কাজটিই করছে বছরের পর বছর। এখানে দেখার কেউ নেই। “এএ ট্রেডিংয়ের আগে মমতাজ কন্সট্রাকশনকে গতবারও রাজনৈতিক তদবিরে শাহজালাল টার্মিনাল ভবনের ক্লিনিং কাজের ইজারা দেয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে প্রকাশ, সব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে গডফাদার হয়ে কাজ করছে দুলাল নামের এক স্মাগলিং কাজের সহায়ক। এই দুলাল দিন-রাত প্রায় সব সময়ই শাহজালালে অবস্থান করে থাকে। তার আড্ডা স্থান পরিচালকের পিয়ন মতির চায়ের দোকানে। সেখানে বসে দুলাল চা খাচ্ছে ,সিগারেট ফুকছে, মাদক খাচ্ছে। প্রতিদিন প্রতি ক্লিনারের থেকে ১ হাজার টাকা করে প্রতিদিন ১৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর নিরাপত্তা পাস আর সিকিউরিটি মানি বাবদ প্রতি ক্লিনারের থেকে ১ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা বিভাগে টাকা নিয়ে ম্যানেজ করে ১৭ ক্লিনার ও তার নিজের নামে অল কালার নিরাপত্তা ‘ডি’ পাস করে নিচ্ছে। আর এ সুবাধে বিমানের ১৭ ক্লিনার অবাধে শাহজালাল থেকে মদ বিয়ার পাচার করছে। স্বর্ন, মোবাইলের চালান, আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ, সিগারেট পাচার করছে।বিমানে পন্য ওঠা-নামার সময় ওজনে কারচুপি, বোর্ডিং পাস,ইমিগ্রেশন সীল মারাসহ মানব পাচারে সহায়তা করছে। মাঝেমধ্যে স্মাগলিং করতে গিয়ে বিমানের ক্লিনার ধরা পড়ে মামলা মোকদ্দমায় জেল খেটে আবার গডফাদার দুলালের মাধ্যমে পুরনো কাজে নেমে পড়ছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বিমানের প্রশাসনিক ভবন ক্লিনিং কাজ ফ্রি সার্ভিসে ইজারা দিয়ে পরে আবার তা বতিল করা হয়। এ জন্য ইজারাদার নাহিদ এন্টারপ্রাইজ এক জিএমকে তুেলাধুনা করে ছাড়ে। শুধু তাই নয়- বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরন দাবি করে উচ্চ আদালতে রিট মামলা করে। আদালতের রায়ে ওই ইজারাদারকে মোটা অংকের টাকা ক্ষতিপূরন দেয় বিমান কর্তৃপক্ষ। কিন্ত এতো কিছুর পরও বিমান কর্তৃপক্ষ ক্লিনিং কাজের বাবদ ঢাকার সব স্থাপনায় নীতিমালা পূরন করছে না। চট্রগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর টার্মিনাল ভবনসহ সব স্থাপনায় ক্লিনিং কাজের জন্য নীতিমালা পূরন করা হলেও দেশের প্রধান বিমানবন্দর শাহজালাল বিমানবন্দরে ক্লিনিং কাজ করানো হচ্ছে নীতিমালার বাইরে। আর এতে আংগুল ফুল কলা হচ্ছেন বিমানের কতিপয় কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন- এ জন্য দায়ী কে? গডফাদার দুলালদের কারা তৈরি করছে । দুলালের পোলা কিভাবে মিজানের পোলা হয়ে কানাডা গেল- পরের কিস্তিতে বিস্তারিত। ক্রমশ