শাহজালাল বিমানবন্দর : বিএনপি-আওয়ামীলীগ নেতার ইজারাকৃত ‘এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট’ থেকে শতাধিক মরা মুরগিসহ আটক ৭ : ফটোসেশনে বিমানবন্দরের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর

একুশে বার্তা রিপোর্ট : পুলিশের সন্দেহ  দীর্ঘদিন ধরে মরা মুরগি ভোক্তাদের খাওয়ানোর পর অবশেষে হোটেলে অভিযান চালিয়ে  মরা মুরগিসহ ৭ জনকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। হোটেলটি ‘এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট’ নামে গড়ে তোলা হয়েছে। ইতিপূর্বে বিএনপি নেতা সেলিম ও আওয়ামীলীগ নেতা  শফি ওরফে সোনা শফি মিলে হোটেলটি  চালাতো।ইজারা নেয়া হয়েছিল মুন্সিগনজের কামাল ওরফে মুন্সি  কামালের ছেলে- ভাগিনা সেন্টুর ভাই আসিফ এন্টারপ্রাইজের নামে।  ইজারার মেয়াদ শেষ হবার পর এবার  ইজারা পেয়েছে যুবলীগের এক নেতা।হোটেলটি ঘিরে ইজারাদারের দোকানপাট ব্যবসা জমজমাট। হোটেলের চারপাশে ১০টি দোকান করে মোটা অংকের টাকা সেলামি নিয়ে দোকানগুলো ভাড়া দেয়া হয়েছে। কিছু অংশে এক আওয়ামী নেতা দাবিদার, সিএন্ডএফ নেতার অফিসকক্ষও রয়েছে। এজন্য কি সিভিল এভিয়েশনের টেন্ডার শর্ত আছে তা জানা যায়নি। হোটেলটি দিন-রাত ২৪ ঘন্টাই খোলা রাখা হয়। শাহজালাল বিমানবন্দরে কর্মরত কর্তাব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্টরা এ হোটেলে ভুরিভোজ করে থাকেন। তাদের সন্দেহ এতোদিন তারা কি মরা মুরগি খেয়েছেন?

গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ‘এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট-এ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে  ১১৯টি মরা মুরগি উদ্ধার করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ (এএপি)। এ সময় রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার, মৃত মুরগী সরবরাহকারী ও বাবুর্চিসহ ৭ জনকে আটক করা হয়েছে।অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্টট্রেট।

এএপি বলছে, তাদের ধারণা, এই মুরগি রান্না করে ভোক্তাদের পরিবেশন করা হতো।

এএপির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, শনিবার দুপুরে আর্মড পুলিশের একটি দল শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলী আফরোজের উপস্থিতিতে ঢাকা কাস্টমস হাউজের পাশে অবস্থিত এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টের ভিতর থেকে ১১৯টি মৃত মুরগি আটক করে। এ সময় রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার, মৃত মুরগির সাপ্লায়ারসহ ৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কিভাবে এপিবিএন পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে মরা মুরগি এয়াপোর্ট রেস্টুরেন্টে ঢুকলো? তাহলে পুলিশকে ম্যানেজ করেই কি  মরা মুরগি রেস্টরেন্টে এলো? কারণ এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টের তিন পাশে এপিবিএনের নিরাপত্তা চৌকি।

বিমানবন্দরের একমাত্র স্যানিটারি ইন্সপেক্টর -যিনি পুলিশী অভিযানের পর ফটোসেশনে হাজির। তার তদারকির মধ্যেই তো এয়রেপোর্ট রেস্টুরেন্টর পরিচ্ছনতা জড়িত। কারণ সমগ্র এয়ারপোর্টের পরিচ্ছন্নতাই স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের তদারকি করার কথা। কিন্ত ওই স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সারাক্ষণ থাকেন  ধান্ধায়, ইতিপূর্বে নিরাপত্তা বিভাগে চাকরি করার সুবাধে আদম পাচারসহ বিভিন্ন পাচারে জড়িয়ে পড়েন।  কথা ওঠলে তাকে সদর দপ্তরের প্রবেশ গেটে ৫ বছর ডিউটিতে নিয়োজিত করা হয়। এর মধ্যে সিভিল এভিয়েশনের দেড় হাজার জনবলকে আদালতের আদেশে চাকরি স্থায়ীকরণের সময় ওই স্যানিটারি ইন্সপেক্টর তার পদ ও বিভাগ পাল্টিয়ে চাকরির গ্রেড কয়েকদাফ ওপরে ‘স্যানিটারি ইন্সপেক্টর’ পদে নিয়োগ লাভ করেন। এত কলকাঠি নাড়েন সাবেক একজন পরিচালক। উপপরিচালক প্রশাসন তাকে দীর্ঘদিন সদর দপ্তরের গেটে ধরে রাখলেও রাজনৈতিক তদবিরে শাহজালালে তার পুরনো কর্মস্থলে ফিরে যান। জাত্রজীবনে ছাত্রদল করা  ওই স্যানিটারি ইন্সপেক্টর একজন সরকার দলীয় এমপির পিএস পরিচয়ে বিমানবন্দরে  প্রটোকল করে থাকেন। শাহজালালে গিয়েই তিনি ধান্ধা শুরু করেন। তার একটি প্রাইভেট কার দিয়ে বিদেশ ফেরত যাত্রীদের নিয়ে ট্রিপ মারা শুরু করেন।  ইতিপূর্বে বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাড়িটি জব্দ করে জরিমানা আদায় করেন।তিনি ওয়াকিট্রকি হাতে  বিমানবন্দরে বিভিন্ন কি-পয়েন্টে মহড়া দিয়ে থাকেন। মরা মুরগির ফটোসেশনেও তাকে পুলিশের সাথে দেখা যায় যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রচার করা হয়েছে।