বিশেষ সংবাদদাতা : বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরীটিতে ( সিএএবি) একটি কমিটি কর্তৃক সুবিধা নিয়ে বিদেশে প্রশিক্ষণের নামে জনপ্রতি ১৫ লাখ টাকা করে সরকারি কোটি কোটি টাকা খরচ করা যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। অনেকক্ষেত্রে বিমানমন্ত্রীর আপত্তি থাকা সত্বেও মন্ত্রীকে অন্ধকারে রেখে মন্ত্রীর পিএস পাটোয়ারির সাথে গোপন সমঝোতায় মন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে ফাইলে সই করিয়ে সিএএবির কর্মকর্তাদের প্রতিমাসেই বিদেশে প্রশিক্ষণের নামে পাঠানো হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বদলিকৃত) এবং অডিট বিভাগের লোকজনও কারিগরি প্রশিক্ষণে ইতিপূর্বে বিদেশে গেছে বলেও শোনা যায়। এসব প্রশিক্ষণ অনেকটা প্রমোদ ভ্রমণের মতো বলে অনেকে মন্তব্য করেন। এ যেন সরকারি টাকায় বিদেশে প্রমোদভ্রমণ! আবার বিদেশে গিয়ে জিও ( সরকারি অনুমোদন) ছাড়াই ১৫ দিন অতিরিক্ত কাটানোর পর দেশে এসে ব্যাকডেটে জিও অনুমোদন করিয়ে নিয়েছেন। আর সব ক্ষেত্রেই মন্ত্রীর পিএস মফিজ উল্লাহ পাটোয়ারি কলকাঠি নাড়ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিএএবির চেয়ারম্যান কর্তৃক অনুমোদিত কমিটি কর্তৃক মুখ দেখে আর্থিক সুবিধা নিয়ে কমিটির সদস্যরা বিদেশে প্রশিক্ষণের নামে নাম তালিকাভুক্ত করে কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের সুপারিশ করছে। আর চেয়ারম্যান তা ফাইনালি অনুমোদন করছেন। এটা চলমান প্রক্রিয়া। আর এরই অংশ হিসেবে সিভিল এভিয়েশনের ডিভিশন-৩ একদম খালি করে কিপয়েন্টে বসা ৩ কর্মকর্তাকে পক্ষকালের জন্য সরকারি টাকায় কন্সট্রাকশন প্রশিক্ষণের নামে জাপান পাঠানো হয়। এই তিন কর্মকর্তা ইতিমধ্যেই গত ৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে এসেছেন। এরমধ্যে ডিভিশন -৩ উর্ধতন কর্মকর্তা যার অধীনস্থ ডিভিশন -৩ সেই কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ ৬ মাস থাকার পরও তাকে বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়। এই ট্রেনিং কি সিএএবির কাজে আসবে? কারণ ৬ মাস পরও অর্থাৎ আগামি ১৯ মে/১৯ সালে তিনি এলপিআরে যাবেন। তিনি ওই ডিভিশনের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। আরেক নির্বাহী প্রকৌশলী যার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দুদক ও মন্ত্রণালয় বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি করে তদন্ত করছে। সংস্থার দুটি গাড়ি ব্যবহারজনিত তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দুদক তাকে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের জন্য একাধিকবার তলব করেছে। তিনি প্রকৌশলী মোকাব্বর আলি। যাকে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সহকারি প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদায়ন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তৎকালিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আপত্তি-ও আমলে নেয়া হয়নি। এই অদক্ষ নির্বাহি প্রকৌশলীর পিডিগিরির কারনে সিএএবির সদর দপ্তর নির্মাণ কাজ ৩২ মাসের জায়গায় ৬৩ মাস চলছে, কিন্ত কাজ শেষ হয়নি, ঠিকাদারের ১৫ লাখ টাকার জরিমানা সিএএবিকে গুণতে হচ্ছে, সব মিলে সিএএবিকে ৩২ লাখ টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে। আর এই বিতর্কিত একজন প্রকৌশলীকে সরকারি লাখ লাখ টাকা খরচ করে প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মোকাব্বর আলির সেল ফোনে গত ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর তার সেল ফোনে কল করলেও তা বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুল আফরোজ জানান, জিও অনুমোদন করিয়েই বিদেশে প্রশিক্ষনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রীর আপত্তি ছিল না।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
