বেবিচক : ছাত্রলীগের নেতা এখন সিএনএস স্টোরে: সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পাশে বসে অনুষ্ঠান করছেন

স্টাফ রিপোর্টার : নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা এখন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকের সিএনএস স্টোরে বহাল। তিনি বিমানবন্দর থানা ছাত্রলীগের সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেছেন এক সময়। সেই সুবাধে তার চাকরি বেবিচকে। তিনি বেবিচকের নিরাপত্তা বিভাগে চাকরি নিয়ে দীর্ঘ সময় জিয়া বিমানবন্দর বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে ডিউটি করার সময়কালে মানব পাচারে সিদ্ধহস্ত। পরে ২০১৫ সালে চাকরি স্থায়ীকরণ করার সময় তিনি নিরাপত্তা বিভাগ ছেড়ে স্টোরে যোগদান করেন। সেই থেকে তিনি এক স্টোরে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার পর বর্তমানে সিএনএস স্টোরে কর্মরত। ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার ভ’মিকা ছিল আন্দোলনের বিপক্ষে। আর এ জন্য তার বিরুদ্ধে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট থানায় নাকি মামলাও হয়েছে বলে বেবিচকে চাউড় হয়েছে।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম সাহারা খাতুনের সাথে তার ছিল ঘনিষ্ট সম্পর্ক। পাশাপাশি ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনারের সাথেও তার সম্পর্কের কমতি ছিল না। এই দুই নেতার সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার ছবি ভাইরাল হয়েছে। বিগত ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানে তাকে প্রধান বক্তা না করায় ক্ষোভে ফুসেছেন। বিএনপির এক কর্মীর ভাইকে-যিনি এমটিতে কর্মরত প্রধান বক্তা করায় এই ক্ষোভের কারণ বলে জানা যায়।
সরকার পতনের পর অর্ন্তবর্তী সরকারের ১৮ মাস বর্তমান বিএনপি সরকারের ৩ মাসেও ছাত্রলীগের এই নেতাসহ আওয়ামী দোসররা বেবিচকে বহাল তবিয়তে।

শাহজালালের স্টোরে এখনো ছাত্রলীগ নেতা : গত ৫ নভেম্বর দৈনিক রূপালী বাংলাদেশে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে-বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মচারী শাহজালাল বিমানবন্দরের স্টোরে এখনো দিব্যি বসে আছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আহম্মদ হোসেন টিপু। তিনি শুধু আওয়ামী দোসরই ছিলেন না, উত্তরা হত্যা মামলারও আসামি। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি, বেবিচকও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। টিপুর পাহাড়সম অপকর্ম সামাল দেওয়ার জন্য নব্য বিএনপি নেতা সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ তার কাছ থেকে অর্ধ লাখ টাকা ‘এনাম’ হিসেবে নিয়েছেন বলে বেবিচকে চাউর আছে।

গত ১ অক্টোবরের বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী সমাবেশে ওই বিএনপি নামধারী শহিদুল্লাহকে দেখা যায়নি। বৈষম্যবিরোধী কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে শহিদুল্লাহ চাঁদাবাজি করে থাকেন। তাই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই সমাবেশ সম্পর্কে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা তার কাছে নাকি জানতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। মামলা পরিচালনার কথা বলেও ঢাকা ও বাইরের স্টেশন থেকে শহিদুল্লাহর নেতৃত্বে চাঁদা আদায় করা হয়ে থাকে বলে কর্মচারীরা বলে বেড়ান। এই চাঁদার টাকায় শহিদুল্লাহ বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক বনে গেছেন বলে সবাই বলাবলি করছেন। উত্তরায় রয়েছে তার নিজস্ব ফ্ল্যাট। কাওলায়ও ফ্ল্যাট নির্মাণ চলছে বলে শোনা যায়। বেবিচক তাকে বারবার ঢাকার বাইরে বদলি করলেও তিনি তদবির করে আবার ঢাকায় ফিরে আসেন।

আহম্মদ হোসেন টিপু দীর্ঘদিন ধরে শাহজালালের স্টোরে বসে আছেন। তাকে অন্যত্র বদলি করা হয় না। বরং উল্টো পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে তার এক সহকর্মীকে শাহজালাল স্টোর থেকে বদলি করিয়ে ছাড়েন। তিনি এখন সিএনএস স্টোরে কর্মরত। স্টোর থেকে পণ্য নয়ছয় করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে ওই স্টোরে নূপুর নামে এক সংখ্যালঘু মহিলা কর্মচারীকেও সরিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে জানা যায়। আহম্মদ হোসেন টিপু একজন কর্মচারী হলেও তার অফিস কক্ষে কর্মকর্তার কক্ষের মতোই এসি চলে সারাক্ষণ। যখনই নতুন চেয়ারম্যান বেবিচকে আসেন, তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ১৫ আগস্টের শোক দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয়তা ঘরানার এক কর্মচারীকে প্রধান বক্তা করা হয়। তাকে প্রধান বক্তা না করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হট্টগোল করেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ এবং সার্বিক অবস্থা জানার জন্য ফোনে যোগাযোগ করা হলে আহম্মদ হোসেন টিপু বলেন, ‘নিউজটা একটু ধরে রাখুন, আমি এসে কথা বলব।’