
নিউজ ডেক্স : ‘বেবিচকে বছরের পর বছর একই পদ দখল করে একই পোস্টিংয়ে আছেন যারা’- এদের মধ্যে সেলিমের নাম সবার মুখে মুখে। এই সেলিম শাহজালাল বিমানবন্দরে গত ১৭ বছর ধরে কর্মরত। তিনি শাহজালালে ৩ টি দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সেটো, ডমেস্টিক ম্যানেজার এবং সৌদি মসজিদের ক্যাশিয়ারগিরি করছেন। রহস্যজনক কারণে তাকে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বদলি করা হচ্ছে না। জনশ্রুতি আছে তিনি মায়ের জমি তার নামে লিখে নিয়েছেন। তিনি একদিকে রোস্টার বাণিজ্য করছেন অন্যদিকে শাহজালালের বিভিন্ন কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে থাকেন বলেও শোনা যায়। মসজিদের দানবাক্সের টাকা নিজেরা বাগবাটোয়ারা করে নেন বলে শোনা যায়। যদিও সরকারি মসজিদে দানবাক্স ফেলে টাকা আদায় করা নিষেধ করেছেন কর্তৃপক্ষ।
শুধু তাই নয়- এই সেলিম দেড়যুগের বেশি সময় শাহজালালে কর্মরত থাকার সুবাধে তিনি এবং এডি ইউসুফ মিলে ঘুপচি টেন্ডারে ঠিকাদারি ব্যবসা করছেন বলেও জানা যায়। শাহজালালের ভিআইপি ও রানওয়ের সাইটে ৬০ লাখ টাকার ফুলের বাগান করেছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
সেলিম ছাড়াও একই পোস্টিংয়ে কোন কোন কর্মচারি-কর্মকর্তা ১২বছর, ১৬ বছর ধরে কর্মরত। এদের মধ্যে কাউকে ৩/৪ বার পোস্টিং করা হয়েছে। ফায়ারের সহকারি পরিচালক ওমর শরীফ একই পদে চট্রগ্রাম বিমানবন্দরে আছেন ১৬ বছর থাকার পর তাকে সিলেট বিমানবন্দরে বদলি করা হয়েছে, তিনি বর্তমানে সিলেট এয়ারপোর্টে কর্মরত।
তার বস ফায়ারের উপপরিচালক রফিকুল ইসলামকে একই পোস্টিংয়ে ১২বছর বলা হলেও তাকে এ পর্যন্ত ৪ বার বদলি করা হয়েছে। তিনি এখন সদর দপ্তর থেকে শাহজালালে কর্মরত। তিনি উপপরিচালক হিসেবে ফায়ার দেখভাল করছেন।এর আগে তিনি চেয়ারম্যানের পিএস ছিলেন। এরপর সহকারি পরিচালক শাহজালালের প্রশাসনে কর্মরত ছিলেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক)-এ একই কর্মস্থলে দেড়যুগেরও বেশি সময়ধরে বহাল, আইওয়াশের জন্য কাউকে কাউকে বদলি করা হলেও তদবির বাণিজ্যে কেউ কেউ বহাল। এদের মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরেই বহাল শতাধিক কর্মচারি, বিভিন্ন সময়ে এদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা রিপোর্টে বদলির সুপারিশ করা হলেও কর্তৃপক্ষ কম্ভুকর্ন।
কেউ ১০, কেউ ১২, আবার কেউ ১৬ বছর একই পদ ধরে রেখেছেন। বদলি করা হলেও তারা নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন না। অজানা কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। এতে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন বেবিচকের শীর্ষ কর্মকর্তারাও। শিগগিরই এসব ব্যক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেবিচকের বিভিন্ন বিভাগ এবং বিভিন্ন বিমানবন্দরে সুবিধাভোগী কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ১০ থেকে ২৮ বছর একটানা একই দফতরে কর্মরত আছেন।
উচ্চমান সহকারী মো. আবদুল করিম এক পোস্টিংয়ে ১৬ বছর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাফরুল হাসান ২২ বছর ধরে মেম্বার অপসের পিএগিরি করছেন।
কেরানি হাফিজ এক পোস্টিংয়ে মেম্বার অর্থ/প্রশাসনের পিএগিরিতে দেড়যুগ গুজরান করছেন, তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এ ছাড়া আবুল খায়ের ইবনে আলী ১৯ বছর, হাবিবা আফরোজ ১৯ বছর, সামসুন্নাহার লিজা ১৯ বছর, সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জামালপুর ১৬ বছর, তাকে মাঝে বদলি করা হলেও পুরনো জায়গায় বহাল, উচ্চমান সহকারী লিটন চন্দ্র সরকার ১০ বছর সদর দপ্তরে কর্মরত থাকার পর সহকর্মী মহিলার কর্মকর্তার সাথে অবৈধ সম্পর্ক থাকার অপরাধে তাকে রাজশাহিতে বদলি করা হয়েছে।
, প্রশাসন বিভাগের সিনিয়র অফিসার সুব্রত চন্দ্র দে সম্পত্তি বিভাগে ১৮ বছর ধরে কর্মরত থাকার সুবাধে তার পরোক্ষ ইশারায় বেবিচকে কয়েক বিঘা সম্পত্তি হাতছাড়া হয়ে গেছে। তার নেতৃত্বে বেবিচকের কাওলা স্টাফ কোয়ার্টারের প্রটেকশন ওয়াল ভেংগে দুটি বড় বড় গেট নির্মান করা হয়েছে,কয়েক লাখ টাকার গোপন লেনদেন হয়েছ বলে জানা যায়। তার সাথে ড্রাফটসম্যান কবীর জড়িত বলে জানা যায়। সুব্রতকে সম্পত্তি বিভাগ থেকে বদলি করা হয় না।
সিনিয়র অফিসার মো. সেলিম মিয়া ১৮ বছর ধরে শাহজালাল বিমানবন্দরে /ডমেস্টিক-এ ডবল পোস্টিং করে রাখা হয়েছে, ওয়াহিদা ওলিউর ইসলাম ২৬ বছর, পার্সোনেল অফিসার কাজী ফৌজিয়া নাহার ২৬ বছর, উচ্চমান সহকারী জিয়াউর রহমান ১৬ বছর, খালেদা ফেরদৌস ১৬ বছর, উচ্চমান করণিক রুহুল কুদ্দুস ১৬ বছর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল বাশার ১৬ বছর, উচ্চমান সহকারী পিএ টু সদস্য (প্রশাসন) এসএম সায়েজুল হক ১৬ বছর, সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা রুহুল আমীন ১৬ বছর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহীন হোসেন ১৬ বছর, হিসাবরক্ষক ফারজানা আক্তার ১৬ বছর, যার নামে অফিসারদের মতো কাওলায় ‘ডি’ টাইপ কোয়ার্টার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তার স্বামীও বেবিচকে কর্মরত, তাদের বিয়ে দেন সাবেক সদস্য প্রশাসন হেমায়েত হোসেন,
সুশান্ত কুমার বিশ্বাস হিসাবরক্ষক ১৯ বছর ধরে একই দফতরে রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচকের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে। একাধিকবার বদলিও হয়েছে। কিন্তু কোনও কাজ হয় না। যখনই তাদের বদলির বিষয়ে কথা ওঠে, তখন কোনও না কোনও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) উড়ো চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠি আবার বেবিচকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার কাছে চলে যায়। আর সেই সময় বদলির বিষয়টিও ধামাচাপা পড়ে। এভাবেই তারা বছরের পর বছর একই স্থানে রয়ে গেছেন।
আর বেবিচকে এই উড়োচিঠির কারিগর শাজাহান- এ নিয়ে একটি পত্রিকায় বিস্তারিত রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছিল।
তারা বলেন, প্রশাসনসহ অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন একই স্থানে থাকার ফলে একটি সিন্ডিকেট করে ফেলেছেন। ফাইল আটকে রাখাসহ নানাবিধ অন্যায় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তারা। তাদের রোষানলে পড়েনি এমন কর্মকর্তা-কর্মচারী পাওয়া দুষ্কর। এ কারণে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথাও বলে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার বলেন, টাকা ছাড়া এখানে কোনও ফাইল নড়ে না। প্রশাসন বিভাগে তারা দীর্ঘদিন থাকায় এমন সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, কোনও ধরনের ফাইল নড়াচড়া করতে হলে তাদের টাকা দিলেও ফেলে রাখবে।
জানা গেছে, অতি সম্প্রতি দীর্ঘদিন একই দফতরে কাজ করা কর্মচারীদের বিষয়ে জানিয়ে বেচিকের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন অন্য কর্মচারীরা। কিন্ত তা আমলে নেয়া হয়নি।
বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান এ ব্যাপারে খোজখবর নিচ্ছেন , কারা কারা এতো বছর ধরে একই পদে আছেন, তার তালিকা করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। তালিকা তৈরির পর তা বেবিচক চেয়ারম্যান বরাবর পেশ করা হবে বলে জানা যায়।
ডিডি আনোয়ারে দপ্তর থেকে ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়েচড়ে না : ডিডি আনোয়ার হোসেনের দপ্তর থেকে ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে-চড়ে না বলে অভিযোগ ওঠেছে। তিনি ৫শ’ টাকা থেকে হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন। ঠিকাদাররা তার কাছে জিম্মি। তিনি আবার পরিচালক অর্থ হবার স্বপ্ন দেখছেন। আর এটা হলে তো তিনি সোনার হরিণ পাবেন।
