একুশে বার্তা ডেক্স : প্রাণ আরএফএল প্লাস্টিকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের বিজ্ঞাপনে ৮ এপ্রিল রাতে কোটা সংস্কার দাবি আন্দোলনে ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষের সময় তোলা একটি ছবি অনুমতি না নিয়ে প্রকাশ করায় উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন ‘ফোকাস বাংলা নিউজ অ্যান্ড ফটো এজেন্সি’র স্টাফ ফটোজার্নালিস্ট আব্দুল গণি। নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। অন্যথায়, আদালতে মামলা করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।
২৪ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকালে আইনজীবীর মাধ্যমে ডাকযোগে প্রাণ আরএফএল সেন্টারের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), ১০, প্রগতি সরণি মধ্যবাড্ডার ঠিকানায় এ উকিল নোটিশ পাঠানো হয়।
আইনজীবী দুলাল মিত্র বলেন, ‘আমার (মক্কেলের পক্ষে) মানহানি হয়েছে বলে মনে করায় আরএফএল গ্রুপের সিইও বরাবর নোটিশ পাঠিয়েছি। সাত দিনের মধ্যে তারা ৫ কোটি টাকা না দিলে এবং যে মাধ্যমে বিজ্ঞাপনটি প্রচারিত হয়েছে সেই মাধ্যমে ক্ষমা না চাইলে মামলা করা হবে।’
উকিল নোটিশ প্রসঙ্গে বিডিমর্নিং২৪ডটকমের আলোকচিত্রী আবু সুফিয়ান জুয়েল জানান, ‘আমাকে বা আলোকচিত্রী গণি ভাইকে না জানিয়ে বা আমাদের থেকে অনুমতি না নিয়েই আরএফএল তাদের বিজ্ঞাপন হিসেবে ছবিটিকে ব্যবহার করেছে। এ জন্য তাদের উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।’
এছাড়া ছবিটি বিজ্ঞাপনে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গণির সহকর্মী জুয়েলকেশ নিয়ে নানা বিরূপ মন্তব্যে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে, যা মানহানিকরও বটে।
এই প্রসঙ্গে জুয়েল বলেন, ‘ছবিটি আরএফএল-এর বিজ্ঞাপনে আসার পর ফেসবুকে ভাইরাল হলে পরিচিতরা ট্যাগ দিতে থাকে। এছাড়া ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেইজে এইটা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলতে থাকে। এক্ষেত্রে পজেটিভ আলোচনা ও বাহবা পেয়ে থাকলেও ব্যাঙ্গ, রসাত্মক আলোচনাও নেহায়েত কম ছিল না।’
আরএফএল প্লাস্টিকে পাঠানো নোটিশে বলা হয়, ‘গত ৮ এপ্রিল রাতে কোটা সংস্কারের প্রতিবাদে আন্দোলনে ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ছবিটি তোলা হয়। ছবির বিষয়বস্তু ছিল ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষের সময় ইটের ঢিল আর টিয়ারশেল থেকে বাঁচতে ফটোজার্নালিস্ট আবু সুফিয়ান জুয়েলের বাধ্য হয়ে রাস্তায় পাওয়া টুল মাথায় হেলমেট হিসেবে ব্যবহার করে সংঘর্ষের ছবি তোলার দৃশ্য। এ সময় জুয়েলের এই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করেন আব্দুল গণি। ছবিটি পূর্বানুমতি না নিয়ে আরএফএল প্লাস্টিক কোম্পানির অফিসিয়াল ফেসবুক পৃষ্ঠার বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়। দুর্লভ এই ছবিটি গণি বিক্রি কিংবা আন্তর্জাতিক কোনও ফটো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সম্মান ও সম্মাননা লাভ করতে পারতেন। কিন্তু বিজ্ঞাপনে ছবিটি ব্যবহার করায় সেসব সুযোগ-সুবিধা থেকে পুরোপুরি তিনি বঞ্চিত হয়েছেন।’
(বাংলাট্রিবিউন
