একুশে বার্তা ডেক্স : বিএনপি-জামায়াত জোট দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দিয়ে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৮ এপ্রিল শনিবার বিকেল অস্ট্রেলিয়ার সোফিটেল হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংবর্ধনায় এ মন্তব্য করেন তিনি। খবর ওয়েবসাইটের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য আর ব্যবস্থাপনা ছিল বলেই দেশ আজ উন্নয়নের পথে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়েছিল বিএনপি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস যতই বিকৃত করুক। ইতিহাস কিন্তু প্রতিশোধ নেয়। ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না। বিকৃত ইতিহাস শিখানো হয়েছিল আমাদের প্রজন্মকে। কিন্তু আজকে সত্য উদ্ভাসিত। ৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছিল । আমি জানি না এখন তারা লজ্জা পায় কিনা।
তিনি আরও বলেন, ‘২০০৫-০৬ তে বাজেট ছিল ৬১ হাজার কোটি টাকা। আজ আমরা এ বছর যে বাজেট দিয়েছি তা ৪ লাখ কোটি টাকা। আমাদের প্রত্যেক কর্মসূচী হচ্ছে গ্রামের মানুষের উন্নতির জন্য। ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি নিয়েছি আমরা।’ বিডিনিউজ জানায়, ’৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে ইতোমধ্যে ২০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরুর কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা যেন থাকে সে প্রত্যাশাও জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশ হবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত দেশ। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি ইতোমধ্যেই পেয়েছে বাংলাদেশ। দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তার সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা নেয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যে পরিকল্পনা নেই, পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা বিএনপি কিন্তু পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা নিত না, এ্যাডহক বেসিসে তাদের পরিকল্পনা ছিল। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ পঞ্চম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় আসার পর ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে আওয়ামী লীগ সরকার বর্তমানে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার কাজ চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদী ও আশু বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়ার ফলে দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের এই ধারা ধরে রাখতে ক্ষমতার ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশকে যখন উন্নয়নের একটা ধারায় নিয়ে এসেছি, এটা যেন চলমান থাকে। ওই যুদ্ধাপরাধী, খুনী, জাতির পিতার হত্যাকারীদের পুরস্কৃত যারা করেছে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না; স্বাধীন বাংলাদেশ মর্যাদা নিয়ে চলুক, ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ হোক- এটা যারা বিশ্বাস করে না, তারা যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে। আমরা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি। লাখো শহীদের রক্তের মর্যাদা আমাদের দিতে হবে। কারও নাম উল্লেখ না করলেও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তো চা-বাগান থেকেও আসি নাই, আর ওই কোচবিহার থেকে কুচ কুচ বিহারী হয়েও আসি নাই। খালেদা জিয়ার পৈত্রিক বাড়ি ফেনী হলেও তার জন্ম দিনাজপুরে। তার জন্মস্থান নিয়ে সংসদে বেশ কয়েকবার কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদরা আর এরশাদের জন্ম ভারতের কুচিবহারে। শেখ হাসিনা বলেন, এই বাংলার মাটিতে আমাদের জন্ম, এই বাংলার মাটিতে আমরা বড় হয়েছি। বাংলার মানুষের জন্য আমার বাবা সারাজীবন কাজ করেছে। আমরা সেভাবেই কাজ করব, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, বাংলার মানুষ যখন ভাল থাকে, একটা কিছু ভাল অর্জন হয় তখন সঙ্গে সঙ্গে রেহানাকে (শেখ রেহানা) ফোন করি, কথা বলি- আজকে আমরা এই অর্জনটা করতে পেরেছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হাসিনা বলেন, আজকে যদি আমার বাবা বেঁচে থাকতেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার দশ বছরের মধ্যেই উন্নয়নশীল দেশ না, উন্নত দেশ হিসাবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াত তাকে তো বাঁচতে দেয়া হলো না, তাকে তো কেড়ে নেয়া হলো। ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্যে তার সরকারের এই নয় বছরে বাংলাদেশের উন্নয়নের বিস্তারিত তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
