আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে ঘাপটি মেরে থাকা শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কেরানি সুহিল মোহাম্মদ ফেরদৌসের লাগাম টেনে ধরছে না প্রশাসন !

বিশেষ সংবাদদাতা : আশকোনা হজ্বক্যাম্পে একযুগেরও বেশি সময় ধরে ঘাপটি মেরে থাকা শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কেরানি সুহিল মোহাম্মদ ফেরদৌসের লাগাম টেনে ধরছে না প্রশাসন। তার বিরুদ্ধে দুদকসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করার পরও সুহিলের টিকিটিও স্পর্শ করতে পারেনি প্রশাসন, প্রশাসন তার লাগাম টেনে ধরছে না। ফলে তার দুর্নীতির ফিরিস্তি আরো দিন দিন বড় হচ্ছে। এবার তার বিরুদ্ধে মহাপরিচালক, কর তথ্য অনুসন্ধ্যান এবং অনুলিপি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর দেয়া হয়েছে। সুহিলের বস পরিচালক হজ্ব তাকে আগলে রেখেছেন বলে হজ্বক্যাম্পে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। হজ্ব ক্যাম্পের ডরমেটরি থেকে আবাসিক বাসা উচ্ছেদের জন্য মন্ত্রণালয় আদেশ দিলেও পরিচালক হজ্ব এখন পর্যন্ত তার সহকারি হজ্ব অফিসার আব্দুল মালেকসহ অ্যদের ফ্যামিলি হজ্ব ক্যাম্প ডরমেটরি থেকে উচ্ছেদে কোন ভুমিকা রাখছেন না।
শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কেরানি সুহিল মোহাম্মদ ফেরদৌসের বিরুদ্ধে ডিজি, কর তথ্যানুন্ধ্যান বরাবর অভিযোগনামায় বলা হয়েছে- সুহিল মোহাম্মদ ফেরদৌস, পিতা মৃত- মুনিরউজ্জামান, গ্রাম-পয়াগ, পোষ্ট-নরসিংসার,সদর বিবাড়িয়া, ১৪ বছর যাবত আশকোনা হজ্বক্যাম্পে অফিস সহকারি কাম টাইপিস্ট হিসেবে কর্মরত থাকার সুবাধে প্রায় দেড় হাজার হজ্ব এজেন্সির মালিক /.প্রতিনিধিদের থেকে প্রতিবছর হজ্ব মওসুমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ০১৮১৮৩৮৯৪২৮, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর-৬৮৮৭৩৫৬৬৪৭ ,পাসপোর্ট নম্বর-ওসি-০০৯৫৯২৫ উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়েছে- সুহিল রাতারাতি তার চাকরি জীবনে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। কিন্ত তার বেতন মাত্র ২৩ হাজার টাকা। উত্তরায় ফ্লাট বাসায় ভাড়া থাকেন ১৮ হাজার টাকায়। থাকে মাত্র ৫ হাজার টাকা। এই ৫ হাজার টাকায় তার সংসার চলে কি? তার ও তার স্ত্রী নাজমা বেগমের নামে ইসলামি ব্যাংক আশকোনা হজ্ব ক্যাম্প শাখায় ১ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক আশকোনা শাখায় তার স্ত্রী নাজমা বেগমের নামে ( মোবাইল নম্বর-০১৯১৭১৯২৩২৩) ১ থেকে দেড় কোটি টাকার লেনদেন করা হয়েছে। এ ব্যাংকের শাখা থেকে সুহিল ও তার স্ত্রী প্রায় সময়ই লাখ লাখ উত্তোলন করে থাকেন-যা তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে। ইসলামি ব্যাংক হজ্ব ক্যাম্প শাখায় সুহিলের আরেকটি একাউন্টও রয়েছে। এছাড়া রাজধানির উপকেেন্ঠ একাধিক প্লট রয়েছে-যা তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে।
এই দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কেরানি সুহিল শারীরিকভাবে আনফিট হলেও তাকে এবার হজ্ব মওসুমে হজ্বযাত্রীদের গাইড হিসেবে সৌদি আবর পাঠানো হয়। সাথে তার শ্যালককেও পাঠানো হয়।ক্রমশ