ঈদে রাজধানীতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়

একুশে বার্তা প্রতিবেদন : ঈদে খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রায় কোটি মানুষ ঢাকা ত্যাগ করবে। প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়া রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই র‌্যাব  আর পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে র্যাব সুসংহত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে। চেকপোস্টের পাশাপাশি সিভিল টিম মাঠে থাকবে। আর ঈদকে সামনে রেখে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং রাজধানীকে নিরাপদ রাখতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদের সময় রাজধানীর কয়েক লাখ বাড়ি খালি হবে। বেশিরভাগ দোকান বন্ধ থাকবে। ফাঁকা হয়ে যাওয়া রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে মানুষের মধ্যে আরো সচেতনতা বেড়েছে উল্লে­খ করে র্যাবের একজন কর্মকর্তা বলেন, র্যাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সুসংহত করতে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। বিশেষ দিবস নয় বরং ৩৬৫ দিনই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রতিদিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চিন্তা করি, প্রতিটি জীবনই মূল্যবান।

র্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, ঈদ যাত্রায় রেলের প্লাটফর্ম কেন্দ্রিক সমস্যাগুলো গত ৫-৬ বছরে কমে এসেছে। এখন চোরাকারবারী, পকেটমার, অজ্ঞানপার্টির দৌরাত্ম্য নেই। অগ্রিম টিকিট বিক্রি নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে নগরীর বিপণিবিতানগুলোর নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্টেশন, ফেরিঘাট, লঞ্চঘাটে র্যাবের ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। নগরীজুড়ে পেট্রোল টিম, মোটরসাইকেল পেট্রোল, সাদা পোশাকে পেট্রোল টিম বাড়ানো হয়েছে। সবাই ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন।

পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডিএমপি, শিল্প পুলিশ, থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশসহ সব মিলে সমন্বিত নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। এ নেটওয়ার্কের অধীনে থানা পুলিশ দেখবে অপরাধ অর্থাত্ টিকিট কালোবাজারি, চাঁদাবাজি ইত্যাদি হচ্ছে কিনা। থানার বাইরে যারা আছেন তাদের দায়িত্ব থাকবে হাইওয়ে তদারকি করা। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি বাস স্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানান তিনি। ঢাকা থেকে বাইরে  বেরোনোর এক্সিট রুট আছে ১৩টি। এর মধ্যে গাবতলী সায়েদাবাদ ও আব্দুল­াহপুরে আমরা বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছি।

ঈদে মানুষের কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করার বিষয়টিও পুলিশের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। ব্যাংকপাড়া ও বিপণি বিতানগুলোতে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নারী ক্রেতাদের নিরাপত্তায় নারী পুলিশও রয়েছে। আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ঈদ উপলক্ষে ৫০ লাখ মানুষ ঢাকা ত্যাগ করেন, শহর অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়। বেড়ে যায় চুরি-ডাকাতির প্রবণতা। তাই এ সময় টহল ও গোয়েন্দা পুলিশ থাকবে। এসময় তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় মানুষকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।