নিউজ ডেস্ক : রাজধানীরা উত্তরায় লাইফওয়ে নামে এক কোম্পানিতে অভিযান চালিয়ে আটকে রাখা দেড়শ তরুণ-তরুণীকে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। চাকরি দেওয়ার নামে ওই তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে টাকা। দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়েছে রুমে। শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। নারীদেরও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। র্যাবের অভিযানে জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পেয়ে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথাই তুলে ধরলেন কয়েকজন। সারাবাংলা
তাদেরই একজন মোহাম্মদ মিলন (২০)। বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নে। প্রিয় বন্ধু জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে ঢাকার উত্তরায় আসেন। গত ১৫ জুলাই উত্তরায় লাইফওয়ে কোম্পানির ওই অফিসে ঢোকার আগে তার বন্ধু জানান, এখানে যারা কাজ করেন, তারা সবাই সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। এখানে চাকরি করলে ভালো সুযোগ-সুবিধা আছে।
এরপর অফিসে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসেন মিলন। সিনিয়র কর্মকর্তারা বলেন, কোম্পানিতে কাজ হবে অনলাইনে অ্যাড দেওয়া। পোস্ট হবে সিনিয়র অ্যাডভাইজার। মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতন, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা ফ্রি। তবে এখানে যোগ দেওয়ার আগে জামানত হিসেবে ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। আইডি কার্ড ও অন্যান্য বাবদ আরও ৫০০ টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে সময় নিচ্ছিলাম। এরই মধ্যে বন্ধু জিয়া জানায়, সে ভালো আছে। চাইলেও মিলনও ভালো থাকতে পারবে। এটা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোম্পানি। এরা পালাবে না। ভালো চাকরি পেতে হলে টাকা কিছু দিতেই হয়।
বন্ধুর ‘পরামর্শে’ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা জামানত হিসেবে জমা দেন মিলন। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি ভবনে। সেখানকার এক রুমে গিয়ে দেখেন, আরও ১৫ জনের মতো তরুণ। তারা বলেন, তারা ভুল করেছেন, একই ভুল মিলনও করেছেন।
