এক রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৬

একুশে বার্তা ডেক্স : দেশের বিভিন্নস্থানে শনিবার রাত থেকে গতকাল রবিবার ভোর পর্যন্ত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছয়জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে যশোর, ময়মনসিংহ, ফেনী ও দিনাজপুরে চার মাদক ব্যবসায়ী মারা যান। আর বরিশালে ডাকাত ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। : বরিশাল : মহানগরীতে শনিবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত সদস্য নিহত হয়েছেন। রবিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তার কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আহত হয়েছে তিন পুলিশ সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কাউনিয়া থানার ওসি মো. নূরুল ইসলাম পিপিএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। : যশোর : যশোরে বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত হয়েছেন। যশোরের ছুটিপুর সড়কের রুদ্রপুর গ্রামে রবিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র-গুলি, মাদক উদ্ধার করেছে। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি কেএম আজমল হুদা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। : ময়মনসিংহ : শহরের মাসকান্দা এলাকার গনশার মোড়ে শনিবার রাত সোয়া ২টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রিয়াজুল ইসলাম বিপ্লব (৪০) নামে একজন মারা যান। পুলিশের ভাষ্য মতে, তিনি মাদক চোরাকারবারি। তবে তার বিরুদ্ধে কোন মামলা আছে কি না নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই পরিমল দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে হেরোইন, ইয়াবা ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। : ফেনী : ছাগলনাইয়া উপজেলার পশ্চিম পাঠান গড় এলাকায় রবিবার ভোরে বন্দুকযুদ্ধে আলমগীর হোসেন ভূইয়া (৩৩) নামে এক মাদক চোরাকারবারি নিহত হয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে। ওসি এম মোর্শেদ বলেছেন, আলমগীর একজন চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারি। তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। : দিনাজপুর : দিনাজপুর-বিরল সড়কের মুরাদপুর নার্সারি এলাকায় শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে মাদকবিরোধী অভিযানে যায় পুলিশ। সেখানে বন্দুকযুদ্ধে বাবু নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। বিরল থানার ওসি আব্দুল মজিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। : মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) : পুষ্টকামুরী দক্ষিণপাড়া ব্রিজের কাছে শনিবার রাত দুইটার দিকে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অজ্ঞাত ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। ওসি একেএম মিজানুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। : এসব বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে এক পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, গত ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে কথিত     ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসা ও পাচারের সাথে জড়িত ছয়জন লোক নিহত হয়েছে। এ মাসের চার তারিখ থেকেই পুলিশ ও র‌্যাব মিলে সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। এই অভিযানে গত ১৫ দিনে বিশেষ পুলিশ র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে আরো ১২ জন নিহত হয়েছে। এর ফলে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হবার পর রবিবার পর্যন্ত মোট ১৮ জন নিহত হবার কথা নিশ্চিত করেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা। কর্মকর্তারা বলছেন, নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসা এবং পাচারের সাথে জড়িত এবং চিহ্নিত অপরাধী। তাদের নামে মামলাও রয়েছে বলে জানান তারা। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভিযান চালানোর সময় মাদক ব্যবসায়ী বা পাচারকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাল্টা গুলি ছুঁড়েছে। এর পর আত্মরক্ষার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা গুলি চালালে তারা নিহত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, মাদক ব্যবসার সাথে সন্ত্রাসী-অস্ত্রবাজরা জড়িত হয়ে পড়েছে এবং যেখানেই তাদের চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে সেখানেই তারা আক্রমণ করে বসছে। আক্রমণ করলে তো পাল্টা আক্রমণ হবেই, সেই কাউন্টার এ্যাটাকেই এ ঘটনাগুলো ঘটছে  বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইয়াবাসহ অবৈধ মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। মি. খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, যেভাবে মাদক বিশেষ করে ইয়াবা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে তা ঠেকাতে তারা বহুভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রবিবার মাদকবিরোধী প্রচার অভিযানের অংশ হিসেবে মানুষকে সচেতন করতে নিরাপত্তা বাহিনী ঢাকায় স্টিকার বিতরণ কর্মসূচি পালন করে। দিনকাল