ঘাটাইলে ড্রামের ভিতর থেকে যুবকের খন্ডিত লাশ উদ্ধার ॥ প্রেমিকাসহ আটক তিন

সাইয়্যিফ মোহাম্মদ হামিদুল্লাহ, ঘাটাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌর এলাকায় প্রেমঘটিত ঘটনায় হেলাল উদ্দিন (৩৫) নামে এক যুবক নির্মমভাবে খুন হয়েছে। তার গলাকাটা দ্বিখন্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ গত মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে উপজেলার খিলপাড়া ব্রীজের পাশের ধান ক্ষেত থেকে ড্রামের ভিতর থাকা লাশটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ প্রেমিকাসহ তিন জনকে আটক করেছে। লাশটি গোপালপুর উপজেলার ডুবাইল গ্রামের গাজী শেখের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৩৫) বলে নিশ্চিত করেছে তার পরিবার। সে পেশায় একজন ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী।
ঘাটাইল থানার ওসি মাকছুদুল আলম ধৃত আসামীদের দেয়া স্বীকারউক্তির বরাত দিয়ে জানান, ঘাটাইল পৌরসভাধীন উত্তর পাড়ার গ্রামের মালেক ম্যানেজারের ছেলে শাহেদের বাসায় কাজ করত জরিনা খাতুন (৩০)। সেই সুবাধে শাহেদের সাথে জরিনার প্রেমের সম্পর্ক হয় । ভাঙ্গারি জিনিসপত্র ক্রয় করতে গিয়ে হেলালের সাথেও পারভিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত মঙ্গলবার (১৮.০৯.১৮) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে হেলাল শাহেদদের বাড়িতে যায়। বাসায় নীচ তলায় প্রেমিকা জরিনার সাথে হেলালের দেখা হয়। তখন শাহেদ বাসার তৃতীয়তলায় ছিল। সে নীচতলায় এসে হেলালের সাথে জরিনার অন্তরঙ্গ আলাপচারিতা দেখে ফেলে। এ ঘটনায় শাহেদ ক্ষুব্দ হয় এবং প্রেমিকাসহ হেলালের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শাহেদ মিন্টু মিয়াসহ আরো একজনের সহায়তায় রশি দিয়ে হেলালের হাত-পা এবং কাপড় দিয়ে মুখ বেধে মেঝেতে ফেলে রাখে। দুপুরের দিকে সকলের সহযোগিতায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে এবং চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গলাকেটে হেলালের মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে কোমড় থেকে শরীর বিচ্ছিন্ন করে ফেলে । তারপর লাশটি দুটি বস্তায় ভরে একটি ড্রামের ভিতরে উঠায় এবং কেরোসিন তেল ঢেলে দেয়। সন্ধ্যায় মিন্টু মিয়ার রিক্সা করে লাশ ভর্তি ড্রাম নিয়ে খিলপাড়া ব্রীজের নিচে ধান ক্ষেতে ফেলে দেয়।
পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর পরই অভিযান চালিয়ে খুনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিকা জরিনা খাতুন, ঘাটাইল উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে সাহেদ ও মহিউদ্দিনের ছেলে রিক্সা চালক মিন্টু মিয়াকে গ্রেফতার করে। পুলিশ এসময় সাহেদের বাড়ি থেকে একনালা দুটি বন্দুক ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি ও ছুরি উদ্ধার করে।
ওসি আরো জানান, গতকাল বুধবার তিন আসামীকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধী প্রদানের জন্য আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককেই সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। লাশটি ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।