সোহেল রানা : টাঙ্গাইলের গোপালপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবুল হোসেনের গোডাউন থেকে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রির জন্য সংগৃহীত ৯০ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। ৩০ এপ্রিল সোমবার বিকেলে উপজেলার নগদা শিমলা বাজারের গোডাউন থেকে ওই চাল জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত চাল সরকার নির্ধারিত কার্ডধারীদের মাঝে ১০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি করার জন্য খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলণ করে তা অসৎ উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিলো বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মনজুরুল ইসলাম। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের সহযোগীতা নিয়ে তা জব্দ করা হয়।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান অাল মামুুুন বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবুল হোসেন ওই ইউনিয়নের ১০ টাকা কেজী ধরে চাল বিক্রির সরকার নির্ধারিত ডিলার। জব্দকৃত ওই চাল ১০ টাকা কেজি ধরে কার্ডধারীদের মাঝে বিক্রি করার কথা তার। কিন্তু তিনি তা না করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অন্যত্র বিক্রির উদ্দ্যেশে গোডাউনে মজুদ করে রাখেন এসব চাল। সোমবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খাদ্য কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম পুলিশ সহকারে আবুল হোসেনের গোডাউন অভিযান চালায়। এসময় গোডাউন থেকে ৯০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়।’
এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে বলে জানান তিনি।
নাম প্রকাশ না শর্তে স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধা জানান, ‘এবার যে ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণ করা হয়েছে এটাই আমরা জানি না। ধরা না পড়লে এটাও জানতাম না। আরো কতো চাল কতোভাবে কোথায় গেছে এটাই বা কে জানে। কতিপয় অসাধু আওয়ামী লীগের নেতারা প্রশাসনের সহায়তায় সরকারের ভালো একটি কার্যক্রমকে কলঙ্কিত করছে। এমন দুর্নীতি শুধু গোপালপুরে নয় সারাদেশেই দেদারছে চলছে। এ কার্যক্রম গরীবের উপকারের চেয়ে নেতাদের পকেট ভারীই বেশী হচ্ছে।’
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা শারমিন চাল উদ্ধারের সত্যতা স্বীকার করছেন। এ নিয়ে যাচাই-বাচাই চলছে বলে জানান তিনি। যাচাই-বাচাই শেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
