ডেক্স রিপোর্ট : গত ৫ মাস ধরে কারাবন্দি। রয়েছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে। কিন্তু এ অবস্থায়ও নতুন করে মামলার খড়গ চেপেছে তার ওপর। পুলিশের অভিযোগ, তিনি পুলিশের ওপর ককটেল হামলা চালিয়েছেন। আর এ নিয়েই হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে সিলেটে। কেন, কার নির্দেশে এই মামলা হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে মানুষ।
তারা বলছে, একজন কারাবন্দি ব্যক্তি কীভাবে হামলা করতে পারেন? পুলিশ বলছে, এটি ভুলবশত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে তাকে মামলা থেকে বাদ দেয়া হবে। গত বুধবার রাতে পুলিশের ওপর ককটেল হামলার ঘটনায় ৪৮ জনের নামোল্লেখ করে আরো ৩০-৪০ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ওই মামলার একজন আসামি কাজী মেরাজ (৩২)। ছাত্রদল নেতা। তিনি একটি মামলায় গত ৫ মাস ধরে কারান্তরীণ।
সূত্র জানায়, ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি সিলেটে দলীয় কোন্দলে খুন হন মহানগর ছাত্রদল নেতা আবুল হাসনাত শিমু। এ মামলায় কাজী মেরাজকে আসামি করা হয়। গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি শিমু হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে কাজী মেরাজকে কারাগারে পাঠান আদালত। সেই থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। কারাগারে থাকা মদন মোহন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি কাজী মেরাজকে বুধবার দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকায় ককটেল হামলার ঘটনায় আসমি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে তার নাম রয়েছে ১৮ নম্বরে।
বৃহস্পতিবার থানার এসআই আবু রায়হান নূর বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় দায়ের করা ওই মামলায় মেরাজ ছাড়াও যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- আক্তার রশীদ চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, তানভীর আহমদ আবির, আজাদ, মির্জা জনি, পারভেজ, বাবলু, শাহিন, আজহার আলী মানিক, হাবিব, খায়রুল, নাজমুল ইসলাম চৌধুরী, আতিফ চৌধুরী, মামুন আহমদ, রুহেল আহমদ, ছাত্রদল নেতা আলী আকবর রাজন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাহাত চৌধুরী মুন্না, এসএম সেফুল, কামুজ্জামান দিপু, ১০নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নিয়ামত এলাহী, রিয়াজ উদ্দিন বাদশা, কয়েছ, জাবের, নাজিম উদ্দিন লস্কর, আবদুস ছামাদ, সাবেক ছাত্রদল নেতা শাকিল মোর্শেদ, আজিজুল হোসেন আজিজ, মুন্না, ফয়েজ, ১৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খোকন, রজব আলী, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইসতিয়াক সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আহাদ খান জামাল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ভিপি মাহবুব, আফছর খান, রাসেল খান, রাজিব খান, শাহ জাহান, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাবিল রাজা চৌধুরী, আবদুস সামাদ তুহেল, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রকিব চৌধুরী, বাচ্চু মিয়া, মহানগর বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক রেজাউল করিম নাচন, ডিসকো, রাসেদ এবং ফয়েজ আহমদ কয়েছ। এছাড়া মামলায় আরো ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে এসআই আবু রায়হান নূর উল্লেখ করেন, ওইদিন রাত ৯টার দিকে তিনি অফিসিয়াল কাজে মোটরসাইকেলে করে দক্ষিণ সুরমা থানা থেকে ফাঁড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের মিনিখল্লা এলাকায় পৌঁছালে ৭০-৮০ জন লোক ধানের শীষের মিছিল নিয়ে এসে তাকে ধাওয়া করে। এ সময় তিনি পালাতে গেলে হামলাকারীরা তার ওপর ককটেল নিক্ষেপ করে।
এদিকে কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি হিসেবে থাকা মেরাজকে আসামি করায় সিলেটে তোলপাড় চলছে। সিলেটবাসী বলছে, কারাগারে থেকেও তিনি কীভাবে মামলার আসামি। তা-ও আবার পুলিশের ওপর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা। তবে, পুলিশ বলছে- কারাগারে থেকে আসামি হলে পরবর্তীতে চার্জশিটে তাকে বাদ দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, মেরাজকে মামলার আসামি করায় প্রমাণ করে সব মামলা সাজানো। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুল ওয়াহাব মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল বলেছেন, তালিকা পেয়ে মামলায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি ভুল হয়েছে। সে যদি কারাগারে থাকে, তবে তার নাম আসামির তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, বুধবার রাতে দক্ষিণ সুরমার মোমিনখলা এলাকায় দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই রায়হান উদ্দিন মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তিনি আহত হন। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
